সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন


214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন
জুন ১১, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলা বিশেষ করে বুধহাটা ফেডারে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা সীমানাহীন লোডশেডিং-এর যাতাকলে পড়ে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিবারাত্র অসংখ্যবার বিদ্যুতের আসাযাওয়ার কবলে পড়ে মানুষ কষ্টকর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় আশাশুনি উপজেলার সকল এলাকাসহ পাশ^বর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে আশাশুনি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে। সম্প্রতি এই স্টেশনের আওতায় থাকা লাইনগুলোর গ্রাহকরা ভোগান্তিতে রয়েছে। দিবারাত্র অসংখ্যবার বিদ্যুতের আনাগোনায় জর্জরিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গ্রাহকরা। বিশেষ করে বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকরা চরম বিপত্তিতে রয়েছে। অন্য ফেডারে বিদ্যুতের সরবরাহ কিছুটা সহনীয় থাকলেও বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকরা অনেক বেশী বঞ্চিত হয়ে আসছে। এলাকার গ্রাহকদের বলতে শোনা যায়, বুধহাটা ফেডারের লোডশেডিং এর পরিমান অন্য ফেডারগুলোর তুলনায় অনেক বেশী। সংগত কারনে গ্রাহকরা বুধহাটা ফেডারের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণের অভিযোগ করে থাকে। ফজরের আজানের সময় থেকে দিনের লোডশেডিং শুরু হয় বুধহাটা ফেডারে। এরপর সকাল, দুপুর, বিকালে অসংখ্যবার বিদ্যুতের নিয়মিত আগমন প্রস্থানের ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এরপর সন্ধ্যার শুরুতে রাতের লোডশেডিং শুরু হয়। আর গভীর রাত পর্যন্ত নিয়মিত এ অবস্থা চলতে থাকে। কোন কোন দিন রাত্র ১২ টার পরও লোডশের্ডির দুর্ভাগ্যবান হতে দেখা যায় বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকদের। এছাড়া মেঘ উঠলে, বৃষ্টি নামলে, ঝড় শুরু হলে বিদ্যুতের প্রস্থান চিরচেনা বিষয়। এনিয়ে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ নেই গ্রাহকদের। একবার বিদ্যুৎ গেলে এবং কোন রকমে ঝড় উঠলে আর কখন বিদ্যুতের আগমন ঘটবে বলা মুশকিল।
বিদ্যুতের অত্যাচারে কেবল আবাসিক গ্রাহকদেরকে ভোগাচ্ছে তা নয়, বরং ব্যবসা বাণিজ্য ডগে উঠতে বসে অনেক সময়। কল কারখানা, বিদ্যুৎ চালিত খুবই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মেশিন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে জড়িতরা এবং বিশেষ করে কাজে আসা লোকজনের ভোগান্তির অন্ত থাকেনা। বুধহাটা ফেডারে উপজেলার বৃহত্তর মোকাম বুধহাটা বাজারসহ অনেকগুলো বাজার ও মোকাম রয়েছে। রয়েছে বহু কলেজ, স্কুল, মাদরাসা, ব্যাংক-বীমা, এনজিওসহ অনেক অফিস ও প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুতের অভাবে চরম বিপাকে পড়তে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকবৃন্দ গরমে ঘর্মাক্ত হয়ে কঠিন বাস্তবতায় পড়ে থাকেন। বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকবে, তাতে কারো প্রশ্ন নেই, কিন্তু বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি ও বিমাতা সুলভ আচরণের অভিযোগ সত্যি ভাববার বিষয়। তাছাড়া দিবারাত্র এভাবে এক নাগাড়ে বিদ্যুতের প্রস্থান, ঘন ঘন বিদ্যুতের যাওয়া-আসা, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় প্রস্থান গ্রাহকদেরকে অশান্তিতে ফেলে থাকে। পল্লী বিদ্যুতের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে গ্রাহক ভোগান্তির হাত থেকে আশাশুনিবাসী, বিশেষ করে বুধহাটা ফেডারের গ্রাহকদেরকে নিস্কৃতিদানে সদয় হবেন এদাবী ভুক্তভোগি সকলের।