সাতক্ষীরার আশাশুনিতে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্প


490 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্প
নভেম্বর ১০, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, কে হাসান, বুধহাটা :
সাতক্ষীরার আশাশুনির ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্পটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। গত কয়েক বছর আগেও আশাশুনি উপজেলা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুল পরিমান মাদুর রপতানি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে নানা সমস্যার কারণে মাদুর শিল্পিরা পেশা ছেড়ে দিতে শুরু করেছে।

মাদুর শিল্পিরা জানায়, মাদুর বুনতে ম্যালির দরকার হয়। বর্তমানে এর চাষ কমে আসছে। দু’একজন এর চাষ করলেও অনেক  বেশি দামে তা কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পরিবহনযোগে তা বাইরে পাঠাতে গেলেও অনেক খরচ হচ্ছে।  ফলে বইরে মাদুর পাঠানো সম্ভাব হচ্ছে না। মাদুর বানাতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে সে পরিমান টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

আশাশুনি বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে জানা যায়, বড়দল, তেতুলিয়া,শোভনালী বোলাবাড়ি,কুল্যা,কাদাকাটি,মহাজনপুর,দাতপুর,মষাডাঙ্গা,তেতুলিয়া সহ কয়েকটা গ্রামে মাদুর বুনার কাজ করা হয়। এদের কিছু কেউ কেউ জানিয়েছে, আগে মাদুরের ব্যবসায় ভালভাবে সংসার চলত,কিন্তু এখন সংসার চালাতে হিমসম খেতে হয়, মনে হয় এ পেশা ছেড়ে অন্য কিছু করি। নিহাত বাপ দাদার ঐতিহ্য না হলে কবেই ছেড়ে দিতাম।

মাদুর ব্যাবসায়ী শোভনালীর কার্তিক। তিনি জানান, আগেকার দিনে নদী পথে বড়দল হাট সহ আশাশুনির বিভিন্ন হাটে মাদুর বিক্রয় করে অনেক লাভ হতো। নদী পথের কারণে পরিবহন খরচও বেশ কম পড়তো। বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলের নদী বরাট হয়ে যাওয়ার ফলে নদী পথে আর বিভিন্ন হাটে যাওয়া যায়না। সড়ক পথে য্ওায়ার কারণে পরিবহন খরচ কয়েক গুন বেশি পড়ছে।

তারা আরও জানান, বর্তমানে মাদুর বুনে এলাকার হাটগুলোতে বিক্্ির করতে হয় । বিধায় তেম লাভ হয়না। তারা বলেন, মাদুর বুনতে কাঁচামাল হিসেবে একমাত্র ম্যালির দরকার হয়। কিন্তু আগের মতো এলাকায় ম্যালি চাষ হচ্ছে না। এই চাষ অনেক কমে গেছে। ফলে ম্যালির সংকটের কারণে এই শিল্প দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে।

আশাশুনির ক্ল্যুা ইউনিয়নের বিমল সরকার জানালেন তার জিবনের কথা। সংসারে লোক সংখা ৭জন । ছেলে বৌ সাবাই মাদুর বুনে তবুও সংসারের অভাব কাটেনা।

বিভিন্ন মাদুর ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,একটা মাদুর বুনতে তাদের খরজ হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আর সময় লাগে ১ থেকে ২ দিন । কিন্তু একটি মাদুর বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বুনন শিল্পিরা হতাশ হচ্ছে।

তারা বলেন, পরিবারের সবাই মিলে বুননের কাজ করার ফলে কোন রকম তাদের সংসার চলে! বেশির ভাগ মানুষই তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্যা পেশায় চলে যাচ্ছে। মাদুর বুনে ছেলে মেয়েদের পড়াশনার খরজসহ তাদেরকে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এর ফলে অনেকেই এ শিল্পের কাজ ছেড়ে ভ্যান-রিক্রা, দিন মুজুরসহ বিভিন্ন কাজে তারা নিয়োজিত হচ্ছে।