সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ১৫টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা


702 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ১৫টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা
অক্টোবর ৭, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে একটি মন্দিরের ১৫টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কর্মকারপাড়া সার্বজনীন দূর্গাপূজা মন্দিরে নবনির্মিত এই প্রতিমাগুলো ভাংচুর করা হয়।

কর্মকারপাড়া সার্বজনীন দূর্গাপূজা মন্দিরের সভাপতি অমিত সোম ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আর কিছুদিন পরেই দূর্গাপূজা। প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ। রংয়ের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও আমরা এখানে ১১টা পর্যন্ত ছিলাম। চলে যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা প্রতিমাগুলোর কোনটির হাত, কোনটির মাথা ভেঙে দিয়েছে। সকালে এসে দেখি এই অবস্থা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের আশাশুনি প্রতিনিধি গোপাল কুমার জানান, বুধবার সকালে পিয়া নামে এক স্কুল ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার সময় প্রতিমা দেখতে গেলে ভাংচুরকৃত ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। বিষয়টি সকলকে অবহিত করে।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পুজা উৎযাপন পরিষদের সেক্রেটারী জানান আসন্ন পুজাকে সামনে রেখে প্রতিমা রং এর কাজ চলছিল। রাত্র প্রায় ১১টা পর্যন্ত মন্দিরে কাজ চলছিল। রাতে কে বা কাহারা উক্ত প্রতিমাগুলোর মাথা, হাত, আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েগেছে। প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ, সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির পিপিএম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মাৎ মমতাজ বেগম ও এএসপি সার্কেল (কালিগঞ্জ) মীর মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জেলা পুজা উৎযাপন পরিষদ নেতা সাংবাদিক অসিম বরণ চক্রবতী, উপজেলা পুজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ বৈদ্য, স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন, ইউনিয়ন সম্পাদক বাবুরাম বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার সাথে জড়িতের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবী জানীয় আশাশুনি উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নেতাগণ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে পুলিশ সুপার সকলের উদেশ্যে বলেন, রাতের আধারে কে বা কারা এ প্রতিমাগুলি ভাংচুর করেছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত চলছে। শীঘ্রই সত্য ঘটনা উদঘাটিত হবে। অভিযুক্ত অপরাধিরা গ্রেফতার হবেই। তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদেরকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

এরিপোর্ট লেখাপর্যন্ত ঘটনাস্থলে এএসপি (কালীগঞ্জ সার্কেল) মীর মনির হোসেন, থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা, বিট অফিসার এসআই আওয়াল কবির উপস্থিত ছিলেন। তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। এব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী রনজিত বৈদ্য ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যারাই জড়িত থাক তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তি দেওয়ার আহবান জানান।