সাতক্ষীরার ইছামতি নদীতে দুই বাংলার মিলন মেলা


955 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ইছামতি নদীতে দুই বাংলার মিলন মেলা
অক্টোবর ৮, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*প্রতিমা বিসর্জনে একাকার

বিশেষ প্রতিনিধি ::

দেবী দুর্গা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার সীমান্ত নদী ইছামতিতে এক মিলন মেলায় একাকার হয়ে গিয়েছিল দুই বাংলার মানুষ। নদীর মধ্যসীমা বরাবর অগনিত প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নৌকায় করে ঢাক ঢোল কাঁসর বাজিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন তারা। এ সময় দুই পারের হাজার হাজার মানুষ তা উপভোগ করে। তারা বাদ্য বাজিয়ে আতস বাজি ফাটিয়ে আনন্দ উৎসবকে আকর্ষনীয় করে তোলে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই বিসর্জন ক্রিয়া।

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দেবহাটার টাউন শ্রীপুর সীমান্ত এলাকা হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। দুপুরের মুধ্যেই দুই পারে জড়ো করা হয় বিপুল সংখ্যক প্রতিমা। ওপারে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বিএসএফ ও এপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সতর্ক প্রহরার মধ্যে দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাঁসা ছিল ইছামতি নদী ঘাট। শত শত নৌকায় দর্শনার্থী নরনারীরা আনন্দ বিলাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ নদীর মধ্যসীমা অতিক্রম না করেই নিজ নিজ জলসীমায় বিসর্জন ক্রিয়ায় নিজেদের মিলিয়ে ফেলেন। এর আগে বিজিবি ও বিএসএফ যৌথ সমাবেশ করে দুই দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক কৌশল গ্রহন করে। এর সাথে যুক্ত হয় দেবহাটা উপজেলা পরিষদ ও ভারতের টাকি পৌরসভা ।
মিলন মেলায় অংশ নিয়ে দেবহাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল গনি বলেন বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি হিসাবে দুই বাংলার এই মিলন মেলা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত বছর ধরে এই মেলা হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় একাকার হয়ে যায় সব ধর্ম বর্ণের মানুষ। তারা পরস্পরকে শারদীয়া শুভেচ্ছা জানান।
ভারতের পশ্চিম বাংলার টাকি পৌরসভার মেয়র সোমনাথ চ্যাটার্জি বলেন প্রতি বছর আমরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি । এদিন দুই বাংলার মানুষ তাদের ভৌগলিক সীমানাকে পেছনে ফেলে একাকার হয়ে যায়। তিনি বলেন আজ উমাদেবী মর্ত্যধাম থেকে স্বামীগৃহে চলে যাচ্ছেন । আমরা মায়ের কাছে পুত্রং দেহি, ধনাং দেহি, মঙ্গল দেহি, শান্তি দেহি, ফল দেহি মন্ত্র পাঠ করে তাকে বিদায় দিতে এসেছি। তিনি চলে গেলেন কৈলাশধামে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে।
সকাল থেকেই ইছামতির দুই তীর হয়ে ওঠে জনারণ্য। সেই সাথে বসে মেলা । এতে শত রকমের কুটির শিল্প সামগ্রী বিশেষ করে কাঠ বাঁশ বেতের তৈরি সামগ্রী ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রী ছাড়াও মেলায় এসেছিল মাটির তৈরি তৈজষপত্র। দুর এলাকা থেকে আসা মানুষ এই মেলায় নিজেদের হারিয়ে ফেলে।
ঘোটকে কৈলাশধাম থেকে চিরশান্তির বরাভয় নিয়ে মর্ত্যভূমিতে এসেছিলেন দেবী দুর্গা । জাগতিক অসুর শক্তি , অপশক্তি, দুর্গতি ও অমঙ্গলকে পরাভূত করে দেবী ছড়িয়ে দিলেন মঙ্গল সুখ ও শান্তির ললিত বাণী। তিনি ধরাধামে দিয়ে গেলেন অঢেল সম্পদ ,ফসল। পূরন করে গেলেন ভক্তদের মনোবাসনা। মিলনমেলার মধ্য দিয়ে ‘মা তুমি আবার এসো’ এই আহবান রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিদায় দিলেন জগজ্জননী দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে।
২০১৩ এর সহিংস ঘটনাবলীর সময় থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইছামতি নদীর এই মিলন মেলা বন্ধ হয়ে যায়। গত দুই বছর ধরে ফের শুরু হয়েছে মিলনমেলার অনুষ্ঠান।

#