সাতক্ষীরার উপকুলীয় অঞ্চলে বোরো চাষে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা


263 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার উপকুলীয় অঞ্চলে বোরো চাষে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার ::

ফসলী জমিতে লবণাক্ততা যাওয়ায় সাতক্ষীরার উপকুলীয় অঞ্চলে চলতি মৌসুমে বোরো চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কৃষক। ধানের চারা রোপন করার পর তা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক দুই থেকে তিন দফায় বোরো ধানের চারা রোপন করেও বাঁচাতে পারছে না।

তবে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে মৌসুমী বৃষ্টিপাত না হওয়াতে জেলার উপকুলীয় অঞ্চলের ফসলী জমির লবণাক্ততা বেড়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে জেলার দেবহাটা, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলাতে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন কমে যেতে পারে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের কৃষক নুর আলী জানান, চলতি মৌসুমে অন্যের ৫ বিঘা পরিমান জমি লীজ নিয়ে বোরো চাষ করেছেন। কিন্ত জমিতে অতিমাত্রায় লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের চারা রোপন করার ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এসব চারা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এতে করে ৫ বিঘা জমির বোরো বীজতলা, চারা রোপন, সেচ এবং সার-কিটণাষক ব্যবহার করে এপর্যন্ত ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্ত ক্ষেতের চারার যে অবস্থা তা সমুদয় খরচ লোকসানে পরিনত হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন তিনি।


একই এলাকার কৃষক রাজ্জাক আলী জানান, চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা পরিমান জমিতে বোরো চাষ করেছেন। গেল বছর একই পরিমান জমিতে বোরো চাষ করে উৎপাদন উঠিয়ে ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিলো তার। কিন্ত চলতি মৌসুমে জমিতে চারা রোপন করে বাচাতে পারছেন না। তিনি বলেন, ৩ বিঘার মধ্যে অন্তত দেড় বিঘা পরিমান জমির বোরো চারা শুকিয়ে মারা গেছে। এতে করে তার প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লোকসান হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, কিছু কিছু এলাকাতে তীব্র শীত এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এখনো অনেক সময় আছে সামনে চারা রোপন করার। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শা দেয়া হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ওলিউর রহমান জানান, লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার প্রতাবনগর, শ্রীউলা ও খাজরা ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই তিনটি ইউনিয়নে বোরো ক্ষেতে চারা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কারন হিসেবে কৃষি কর্মকর্তা ওলিউর রহমান জানান, অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় চলতি বছর ফসলী জমিতে লবণাক্ততা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এর ফলে বীজতলার পাশাপাশি রোপনকৃত চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোথাও কোথাও কৃষক একের অধিকবার চারা রোপন করেও বাচাতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আশাশুনির অধিকাংশ এলাকাতে ১১ থেকে ১৪ ডি.এস মাত্রায় লবণাক্ততা দেখা দিচ্ছে। যা ফসলের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

জেলার উপকুলীয় শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন জানান, মৌসুমী বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারনে লবণাক্ততা বেড়ে পাশাপাশি হঠাৎ তাপমাত্রা উঠানামা করছে। এতে করে চলতি মৌসুমে বোরো চাষে ক্ষতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১২ হাজার ৭৭১ হেক্টর, তালায় ১৮ হাজার ৭১৭ হেক্টর, দেবহাটায় ৫ হাজার ৮৬০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৫ হাজার ২৯০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৬ হাজার ৪৬৫ এবং শ্যামনগরে ২ হাজার ৩০ হেক্টর। সুত্রটি আরো জানান, চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬৭ হাজার ৫১৫ হেক্টর পরিমান। গত মৌসুমে জেলায় বোরো আবাদ লক্ষ্য ছিলো ৭৩ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, আবহাওয়া জনিত কারনে চলতি মৌসুমে জেলার কিছু কিছু এলাকাতে বোরো চাষে ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, কখনো তীব্র শীত কখনো গরম আবার কখনো জমির লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে করে শুধু বোরো আবাদে নয় অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতির কারন হচ্ছে। তবে যে এলাকাতে বোরো বীজতলা বা চারা মরে যাচ্ছে সে সমস্ত এলাকার কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিচ্ছে এর সমাধানে।

#