সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ হতে পারে পর্যটন স্পট


141 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ হতে পারে পর্যটন স্পট
নভেম্বর ২৩, ২০২১ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

খোলপেটুয়া, ইছামতি, কালিন্দী, রায়মঙ্গলে জ্বলতে পারে আলো

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বারবার প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় দেশের উপকুলীয় এলাকা বিবর্ণ, বিপর্যস্থ হয়ে জনদুর্ভোগ সহ সম্পদহানীর ঘটনা ঘটছে। প্রকৃতির রুদ্ররোষের কেবল উপকুলীয় জনপদ অভিশাপে পরিনত হচ্ছে তা নয়, নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতায় সহায় সম্পদ হানী ঘটছে। সময়ের ব্যবধানে বাস্তবতার নিরিখে উপকুলীয় জনপদ নদী বেষ্টিত জনভূমিই হতে পারে অনন্য অসাধারন সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি। উপকূলের দুঃখ খ্যাত খোলপেটুয়া নদী শাসন এবং টেকসই ভেঁড়িবাধ নির্মান পরবর্তি বনায়ন সহ নদী ভ্রমনের ব্যবস্থা অভ্যন্তরীন রাজস্ব উপার্জনের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সৌন্দর্য উপভোগে চিত্তবিনোদনে পর্যটকদের আগমন অর্থনীতিতে সুবাতাস বইতে পারে। খোলপেটুয়ার অভিশাপ আর্শীবাদে পরিনত হতে পারে। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ খোলপেটুয়া নদী ভাঙ্গন রোধে কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ এবং বাঁধ নির্মান এর জন্য কাজ হলেও দৃশ্যতঃ ভাঙ্গন রোধ অন্তঃসারশুণ্য। যে কারনে আশাশুনির প্রতাপনগরে অন্তত ২৩টি গ্রাম পানিতে ভাসছে। জনদূর্ভোগ নয় জনবান্ধব, দৃষ্টিনন্দন এর আলোয় আলোকিত করতে দীর্ঘমেয়াদী এবং পরিকল্পনা প্রনয়ের মাধ্যমে প্রতাপনগরের দুঃখকে জয় করা সম্ভব। চীনের হোয়াংহো, মিশরের নীল নদ, সুয়েজখাল পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় আলোকিত নাম। সাতক্ষীরার ভাঙ্গন কবলিত দুঃখ খ্যাত নদ নদী গুলোকে অনুরুপ আলোয় আলোকিত করা সম্ভব। দেশের শেষ প্রান্তে এবং সুন্দরবনের কোল ঘেসে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকা জনপদ গাবুরাও হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র, প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন। ভেঙ্গেই চলেছে সুন্দরবন সংলগ্ন কালিন্দী, রায়মঙ্গল, থেমে নেই ইছামতি, দেশের অভ্যন্তরীন নদ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়লে সম্পদহানীর ঘটনা ঘটে কিন্তু সীমান্ত নদী ভাঙ্গনের কল্যানে ভূ-খন্ড হারিয়ে যায়। দেশের সীমান্ত নদী গুলোর অব্যাহত ভাঙ্গনের কারনে ভু-খন্ড হারিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানচিত্র পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং সংকুচিত হওয়ার উপক্রম ঘটেছে। ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা বারবার প্রমান করেছে অনিয়ম আর দুর্নিতীর জন্য সবই শুভঙ্করের ফাঁকি, সাতক্ষীরার বাস্তবতায় সড়ক পথে সুন্দরবনে যাওয়ায় সব ধরনের সুযোগ বিশ্বমান, কিন্তু নদী পথে সুন্দরবনে যাওয়ার যথাযথ ক্ষেত্র অনুপস্থিত। খোলপেটুয়া, ইছামতি, কালিন্দী, রায়মঙ্গল ভেড়ীবাধ স্থায়ী নির্মান এবং কারিগরি নৈপুন্যতা সহ সৌন্দর্য্য মন্ডিত করে সুন্দরবন পর্যন্ত নিলে দৃশ্যতঃ পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সড়কপথে সুন্দরবনের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন ভেড়িবাঁধ পেরিয়ে সুন্দরবনে পৌছানো সম্ভব, প্রতি নদীর মধ্যবর্তী স্থানে পিকনিক স্পট ও করা যেতে পারে। রাজধানী ঢাকার হাতির ঝিল যেমন বিশেষ সৌন্দর্য্যরে আর পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে নিজেকে পরিচিতি ঘটিয়েছে অনুরুপ হতে পারে উপকুলীয় জনপদ, উলে­খিত জনপদের দীর্ঘদিনের অভিশাপ নিমিষেই হারিয়ে যেয়ে আলোকিত, সমৃদ্ধ, উৎসব মুখরতায় পুর্ণতা পাবে। সাতক্ষীরার জনপদ অবহেলিত, অভিশপ্ত এবং বিপর্যস্থতার যে ভয়ানক চিত্র তার অবসান হতে পারে পরতে পরতে পর্যটন স্পট নির্মানের মাধ্যমে।