সাতক্ষীরা একতা হাসপাতালে সিজার রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের । ৩ ডাক্তারসহ ৮ জন আসামী


757 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা একতা হাসপাতালে সিজার রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের । ৩ ডাক্তারসহ ৮ জন আসামী
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
অনুমোদনহীন একতা হাসপাতালে সিজার অপারেশনে ডাঃ দেবদুলাল ও ডা. সুদীপ্ত শেখর দেবনাথের হাতে প্রাণ গেল কুড়ি বছর বয়সী গৃহবধু সুমনা খাতুনের। নিহত সুমনা খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লার কণ্যা ও রেউয়ের গ্রামের লিটন হোসেনের স্ত্রী।

এদিকে, ভূল চিকিৎসায় সিজার রোগী হত্যার ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে  সাতক্ষীরা সদর থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত সুমনার ভাই হোসাইন আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এই মামলায় ৩ ডাক্তারসহ ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, ডা: দেবদুলাল সরকার, ডা: এহসান মাহমুদ, ডা: সুদিপ্ত কুমার, ক্লিনিক মালিক হরিদাশ মন্ডল, সমীর ঘোষ, কৃঞ্চপদ মন্ডল, ইয়াসিন আলী ও শিরিনা আক্তার।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, মামলা নং ৪১, তারিখ- ১৮-৯-২০১৫। তিনি জানান, আসামীদের মধ্যে কৃঞ্চপদ , ইয়াসিন ও শিরিনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় শহরের পুলিশ সুপারের বাসভবনের পাশে পলাশপোলস্থ একতা হাসপাতালে অপারেশনের টেবিলে রোগীর মৃত্যু হয়। এ সময় দুই ডাক্তার, ক্লিনিক মালিক হরিপদ ও ভৈরব চন্দ্র সরকার পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। পুলিশ দুই ওয়ার্ড বয়সহ ৩ জনকে আটক করেছে এবং একতা হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে নিহতের স্বজনেরা একাতা হাসপাতালের সামনে এসে বিক্ষোভ করে। তারা অবিলম্বে ডা: দেবদুলাল, ডা: সুদিপ্ত শেখর দেবনাথ ওই অবৈধ হাসপাতালের মালিক হরিপদ ও বৈরব চন্দ্র সরকারকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানায়।

নিহত সুমনা খাতুনের ভাই মো. হোসাইন আলী ও মামা মনিরুল ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানায় , সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লার কণ্যা সুমনার সাথে সদরের রেওয়ের গ্রামের লিটন হোসেনের সাথে ৩ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। সুমনা গর্ভবতী হওয়ায় সে বকচর গ্রামে থাকত। বৃহস্পতিবার অসুস্থ্য হলে তাকে রাত ৯টায় পশালপোলস্থ ভৈরব চন্দ্র সরকার ও হরিপদের মালিকানাধীন অনুমোদনহীন একতা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে মোটা টাকায় সিজারের অপারেশনের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়। মিনিট দশেক পরে তার অপারেশন করেন সাতক্ষীরার বহুল বিতর্কিত ডাক্তার ডাঃ দেবদুলাল। এ সময় তাকে অজ্ঞান করান ডা. সুদীপ্ত শেখর দেবনাথ।

নিহতের বড় ভাই আরও জানান, অপারেশন টেবিলেই তার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় একটি পুত্র সন্তান ভুমিষ্ট হয়। টেবিলে সুমনার মৃত্যু হলে খুব তড়িঘড়ি করে আমাদের দ্রুত খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এ সময় একতার মালিক ও ডাক্তাররা হাসপাতাল বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তার পরও আমরা মৃত ব্যক্তিকে খুলনায় যাওয়ার পথে বিনেরপোতায় গিয়ে মৃত্যুর বিষয়ে আরো নিশ্চিত হয়ে ফিরে আসি।

নিহত সুমনা খাতুনের ভাই মো. হোসাইন আলী ও মামা মনিরুল ইসলাম আরও জানান, হাসপাতালের ডাক্তার দেবদুলাল ও সুদীপ্ত শেখর দেবনাথ সুমনাকে হাতে করে মেরে ফেলেছে। তার বাচ্ছা ডেলিভারির তারিখ ছিলো আরো ১৫ দিন পরে। কিন্তু হাসপাতালে দুই মালিক টাকার লোভে ১৫ দিন আগেই খুব তড়িঘড়ি করে অপারেশন করিয়েছে। তারা ডাক্তার ও হাসপাতালের মালিকের গ্রেপ্তারের দাবীও জানান।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে মৃত সুমনাকে নিয়ে স্থানীয়রা ডাক্তার ও হাসপাতালের মালিকে গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। এ সময় হাসপাতালের সব দরজা জানালা বন্ধ করা ছিলো। স্বজনরা চিৎকার করে ডাক্তারের শাস্তির দাবী জানায়।

হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আশাশুনির কোদন্ডা গ্রামের খোরশেদ আলীর পুত্র আরাফাত হোসেন (২৭), তারাপদ মন্ডলের পুত্র কৃষ্ণ মন্ডল (৩১) ও আয়া শিরিনা খাতুনকে আটক করে। সদ্য ভুমিষ্ট শিশুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাত ১১ টায় সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার সাঈদ ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় পুলিশ হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়। একতায় ভর্তি থাকা রোগিদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক শেখ জানান, অভিযোগ পেয়ে ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। তিন জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই অনুমোদনহীন নাফ ক্লিনিকে ডাঃ দেবদুলালের দুই বার অপারেশনে অপচিকিৎসায় প্রাণ যায় আশাশুনির মেধাবী ছাত্রী রোক্সনা খাতুনের (১৪)।