সাতক্ষীরার এক ক্রিকেট কারিগরের কথা : যার হাতেগড়া সৌম্য-মোস্তাফিজ


1704 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার এক ক্রিকেট কারিগরের কথা : যার হাতেগড়া সৌম্য-মোস্তাফিজ
জুলাই ৩১, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মো. আসাদুজ্জামান :
শাবাব সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রণির ছাত্র। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠে ক্রিকেট প্রাকটিসে আসে সপ্তাহে চার দিন। যে মাঠ থেকে হাতেখড়ি হয়েছে রবিউল ইসলাম বিপলু, সৌম্য-মুস্তাফিদের। তবে শাবাব সৌম্যের মতো ব্যাটিং এবং মুস্তাফিজের মতো বোলিং নয়  সাকিব আল হাসানের মতো অলরাউন্ডার হতে চায়। আশিক, শান্ত, মুরাদ, সাকিব, তানভীরের মতো প্রায় ৫০/৬০ জন শিশু-কিশোরদের পদচারনায় প্রতিদিন মুখরিত হয়ে উঠে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠ। বুধবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেল এ দৃশ।
সৌম্য-মুস্তাফিজের কারনে সাতক্ষীরার ক্রিকেট অঙ্গনকে সারা দেশের আজ পরিচিত একটি নাম। তারা দু’জন এক সাথে ছন্দের দ্রুতি হয়ে আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে সাতক্ষীরা তথা বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনকে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য এক উচ্ছতায়। সৌম্য-মুস্তাফিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গান পেয়েছে তার অবদান অনেক। তিনিও একসময়ে ভালো একজন ক্রিকেটার। ক্রিকেটই তার ধ্যান জ্ঞান। ক্রিকেটই তার সব। সাতক্ষীরা স্থানীয় ক্লাব এরিয়ান্সের হয়ে মাঠে নামে ১৯৯১ সালে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও রাজনীতির মারপ্যাচ তার মধ্যে নেই। তিনি এখন আর ক্রিকেট খেলেন না। ব্যাট প্যাট তুলে রেখেছেন ২০০৪ সালে। তবে খেলোয়াড় তৈরীর কারখান যেন তার হাতে। খুদে খেলোয়াড়ের পরিচর্চা করা এবং ক্রিকেট বোর্ডকে আরো সৌম্য, মুস্তাফিজ তুলে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই সৌম্য-মুস্তাফিজদের উত্তরসূরীদের নিয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নানা অসুবিধার মধ্যে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তুলে নিয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের। তিনি আর কেউ নন সৌম্য-মুস্তাফিজ রবিউলদের ক্রিকেট গুরু মুফাসিন্নুল ইসলাম তপু।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আরো সৌম্য-মুস্তাফিজ-রবিউল ইসলাম শিবলুর মতো দুনিয়া কাপানো খোলোয়াড় উপহার দিতে প্রস্তত করছেন একেকটি অস্ত্র করছেন। ব্যাট শান দিচ্ছে তার তৈরা করা ছাত্র। আর মুখিয়ে আছে একটি মাত্র সুযোগের অপেক্ষায়। সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যা সম্ভবনার বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
তিনি সাতক্ষীরার স্থানীয় ক্লাব এরিয়ান্স থেকে ক্রিকেট শুরু করে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেলেও তিনি খেলেছেন সাতক্ষীরা টাউন স্পোটিং ক্লাব, মুন্সিপাড়া যুব সংঘ, সুলতানপুর ক্রিকেট ক্লাব এবং ঢাকার আজাদ স্পোটিং ক্লাব, উত্তরা স্পোটিং ক্লাবসহ ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। ঢাকা ওরিয়ান ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লীগ খেলেছেন ৯ বছর। তারপর আরো একজন ক্রিকেট প্রেমীর একরামুল ইসলাম লালুর  সাথে হয়ে বেছে নেন ক্রিকেট কোচিং। ক্ষুদেক্রিটারদের নিয়ে সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমী নামের একটি ক্রিকেট সংগঠন নিয়ে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমীতে সাবাব, সাকিব, শান্তসহ ৫০/৬০ জন ক্ষুদেক্রিটার। তার ক্লাবে কয়েজন প্রমিলা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি লক্ষনীয়। তিনি তাদের গড়ে তুলছে সালমার উত্তরসূরী হিসেবে।
তিনি জানালেন, সাতক্ষীরা ক্রীড়াঙ্গান থেকে ভালো ক্রিকেটার তৈরী হলেও কিছু সমস্যা রয়েছে সেগুলো সরকারি পৃষ্টপোষকতা আর সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা আরো বেশী নজর দিলে সাতক্ষীরা ক্ষুদে ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে সৌম্য-মুস্তাফিজের মতো আরো ভালো ভালো খেলোয়াড় তৈরী করা সম্ভব হলে হবে আশা করেন।
তিনি আরো জানালেন ১৯৯১ সালের দিকে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের পাশে জিমনেশিয়ান থাকলেও সেটি আজ আর নেই। ক্রিকেটাদের ফেটনেসের জন্য এটি খুব প্রয়োজন। এছাড়া ভালো ক্রিকেটার তৈরী করতে বেশী বেশী বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট লীগ এবং নিয়মিত টুর্নামেন্টের আয়োজন করা দরকার। এটি হলে সাতক্ষীরা ক্রীড়াঙ্গান থেকে ক্ষুদ্রেক্রিকেটারদে মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসবে আরো ভালো মানের ক্রিকেটার।
প্রশ্ন: প্রথমদিকে মুস্তাফিজের কোন গুণটি আপনার ভালে লেগেছিল।
তপু : সাতক্ষীরা গণমুখী সংঘের কোর্চ আলতাফই প্রথম দিন হয়তো বুঝতে না পারলে আমরা পেতাম না আজকের এই মুস্তাফিজতেক। ২০১১ সালে অনূর্ধ-১৪ দলে প্রাথমিক বাছাইয়ে ভালো বোলিং নৈপূর্ণ দেখে আমি সহ অন্যান্য বিচারকরা মুগ্ধ হয়। তাঁকে তখন দেখে মনে হয়েছিল ভালো কিছু করতে চায়। প্রথম থেকে মুস্তাফিজ ন¤্র-ভদ্র খুব শান্ত শিষ্ট ছিল। তাঁর ধ্যান-জ্ঞানে সব সময় ক্রিকেট। ও নিজের গেম প্ল্যানটা নিজেই ঠিক করত। আর একটা খেলোয়াড়ের আবশ্যকীয় ক্ষমতা হলো চাপমুক্ত থেকে খেলায় মনোযোগী হওয়া। এ ক্ষমতাটা তাঁর মধ্যে খুব বেশি ছিল।
প্রশ্ন: শৈশবের মুস্তাফিজ ক্রিকেট ভক্ত ছিল না অন্যকোনও খেলার ভক্ত ছিল
তপু: মুস্তাফিজ ক্রিকেট ছাড়া অন্যকিছুর দিকে ধ্যান ধারনা ছিল না। সে ক্রিকেটকে মন্ত্রমুগ্ধের ধারন করত সেই আর তার এই সাফল্য।
প্রশ্ন : ক্রিকেট ছাত্র হিসেবে মুস্তাফিজ কেমন:
তপু: ক্রিকেট ছাত্র হিসেবে মুস্তাফিজ সব সময় খুবই মনোযগী এবং খুব প্ররিশ্রমী। ক্রিকেটের প্রতি লালো লাগা দেখে জন্য তার সেঝ ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টু তাকে সাথে নিয়ে কালিগঞ্জের তারালি থেকে ৪০ কিলো মিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাকট্রিসে নিয়ে আসত।
প্রশ্ন. মুস্তাফিজকে নিয়ে কোচের স্মরণীয় ঘটনা..
তপু: বাগেরহাটের মাঠে মগুরার বিপক্ষে সাতক্ষীরা অনুর্ধ-১৬ দলকে তার বোলি নৈপূণ্য দিয়ে খাদের কিনার থেকে তুলে এনে দলকে জয় উপহার দেন।
প্রশ্ন : টিম বাংলাদেশের হয়ে শিষ্য সৌম্য, মুস্তাফিজের কাছে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
তপু : ছাত্রদের প্রতি শুভ কামনা সব সময় থাকে। পাকিস্তান, ভারত, দ. আফ্রিকা সিরিজে ভালো করেছে। সামনের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে খেলবে। নিজেদের প্রমাণ করবে। এটা একদিকে যেমন প্রত্যাশা অন্যদিকে গৌরবের। আমি চাই সৌম্য, মুস্তাফিজ, তামিম, সাকিব, মুশফিকসহ সবাই নিজেদের সেরাটা খেলবে, দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
দুই শিষ্যের একের পর এক সাফল্যে তিনি ব্যাপক খুশি; তিনি আরো জানালেন প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলা সৌম্য-মুস্তফাজি যখন ভালো খেলে তাদের খেলা দেখে মন ভালো লাগায় ভরে যায়। সৌম্য-মুস্তাফিজ নিজেদেরে যোগ্যতা গুণে এখানে এসেছে। সামনের দিনগুলি আরো ভারো করবে আশা করি। তিনি সাতক্ষীরাবাসীসহ গোটা জাতির কাচে সৌম্য-মুস্তাফিজসহ সকল খেলোয়াড়দের জন্য দোয়া চাইলেন।