সাতক্ষীরার এক নারীকে পাচারের উদ্দেশ্যে ১২ দিন ঢাকায় আটক রেখে গণধর্ষণ !


671 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার এক নারীকে পাচারের উদ্দেশ্যে ১২ দিন ঢাকায় আটক রেখে গণধর্ষণ !
এপ্রিল ২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খিলল ::

মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে টানা ১২ দিন গণধর্ষনের শিকার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক নারী পালিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৩১ মার্চ বাড়ি ফিরে থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।
স্বামী পরিত্যক্তা দু’ সন্তানের জননী নির্যাতিত ওই নারী (২৫) জানান, আট বছর আগে তার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের চুপড়িয়া গ্রামে বিয়ে হয়। দু’ সন্তার হওয়ার পর স্বামী তাকে বাপের বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তার সাথে কোন যোগাযোগ না থাকায় মা-বাপের বাড়িতে থেকে দিনমজুর খেটে দু’ সন্তানের ভরণপোষন চালাতে হয় তার।
তিনি জানান, আলীপুর ইউনিয়নের তার এলাকার গাঙনিয়া কাহারপাড়ার বাবুর আলী গাজীর ছেলে নূর ইসলাম গাজী (৪০) তাকে সরকারি খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। নিরক্ষর হওয়ায় প্রথমে তিনি রাজী হননি। পরে মায়ের চাপে তিনি রাজী হন। সে অনুযায়ি নূর ইসলামের সহযোগি গাঙনিয়া গ্রামের নবাব আলীর ছেলে আবু বক্কর গাজী তাকে সাতক্ষীরা হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য গত ১৮ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে ভোমরা -সাতক্ষীরা সড়কের বাদামতলা মোড় থেকে একটি গ্রাম বাংলা গাড়িতে তুলে দেয়। তাকে সাতক্ষীরা সঙ্গীতা সিনেমা হল মোড়ে নামিয়ে দেওয়ার পর নুর ইসলাম তাকে ঢাকাগামি একটি পরিবহনে তোলে। ১৯ মার্চ সকালে নূর ইসলামসহ তিনি ঢাকার গাবতলী বাসস্টা- এলাকায় নামেন। সেখান থেকে তাকে গাবতলী এলাকার জনৈক হাসানুর রহমানের মালিকানাধীন পাঁচতলা বাড়িতে তোলা হয়। সেখানে পাচারের জন্য নিয়ে আসা ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন নারীকে তিনি দেখতে পান। ওই বাড়ির মালিকের ৪০/৩, নয়া পল্টন (২য় তলা), ঢাকা- ১০০০ এ বিদেশে লোক নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত অফিস রয়েছে।
নির্যাতিত ওই নারী জানান, গাবতলীর পাঁচতলা বাড়ির একটি ঘরে তাকে আটক রেখে পরপর তিনদিন ধর্ষণ করে নূর ইসলাম। তারপর তাকে পাচারের জন্য এক ব্যক্তির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে নুর ইসলাম সাতক্ষীরায় চলে আসে। এর পর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় চার থেকে পাঁচজন তাকে দিন রাত পালাক্রমে ধর্ষণ করতো। দিনের বেলায় তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। সারা দিনে দু’বার ডাল ভাত দেওয়া হতো। একপর্যায়ে ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই বাড়ির এক দারোয়ানের সহযোগিতায় কৌশলে রিক্সায় গাবতলী চলে আসেন। সেখান থেকে একটি পরিবহনে ৩১ মার্চ সকালে বাড়ি ফেরেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ছোট ও ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলামকে অবহিত করেন। তাদেরই পরামর্শে তিনি বাদি হয়ে ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় নুর ইসলাম ও আবু বক্করের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ এনে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওই রাতেই ঘটনার তদন্তে যান। তিনি মাহমুদপুর বাদামতলায় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার পর থানায় ফিরে আসেন। এরপরও অজ্ঞাত কারণে অভিযোগটি মামলা হিসেবে  রেকর্ড হয়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আসামীদের দারা প্রভাবিত হয়ে মামলা নেয়নি। বর্তমানে আসামীরা মাহমুদপুর গ্রামের শুড়িখালির আব্দুস সালাম, শহীদুলসহ কয়েকজনকে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিয়ে আট হাজার টাকায় বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুর ইসলাম বলেন, বায়ারের কথামত তিনি ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে রেখে চলে আসেন তিনি। এরপর কি হয়েছে জানেন না তিনি।
আবু বক্কর গাজী জানান, নূর ইসলামের কথামত তিনি ওই নারীকে ১৮ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাদামতলা মোড় থেকে সাতক্ষীরাগামি একটি গ্রামবাংলায় তুলে দেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনা অনেক দিন আগের। তাই আলামত পাওয়া যাবে না। নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার সত্যতা যাঁচই করতে দেরী হচ্ছে তাই মামলা হবে কিনা এখনই বলা যাবে না।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্যা জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
###