সাতক্ষীরার এক ভিক্ষুকের আকুতি


209 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার এক ভিক্ষুকের আকুতি
মে ১৮, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না,সাতক্ষীরা ::

ভিক্ষুকমুক্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সদরের আলিপুরের মৃত মকফূল সরদারের স্ত্রী ফতেমা বয়স (৮০) ছুই ছুই অবস্থা । ২৫/২৬ বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই সে ভিক্ষা করে জিবিকা নির্বাহ করে সন্তান দুটোকে বড় করে তোলে।
এই বয়সে একটু আরাম আয়েসে বিশ্রামে থাকার কথা অথচ এখন সে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে হাত পাতে ভিক্ষা করে খায়। বৃহস্পতিবার সে আমার অফিসে আসে ভিক্ষা করতে। এসে বলে বাইরে কি তাপ বাপু মোটে সহ্য হচ্ছে না চলতি পারতিছিনে। তাকে প্রথমে চেয়ারে বসতে দিলাম। বসে আরাম বোধ করলো ৩ টাকা দিলাম। রোজা আছেন কিনা জিঞ্জাসা কললে তিনি বলেন আমি কোনদিন রোজা বাদ দিনি। প্রতিবছর আমি ৩৬ টা রোজা রাখি।
তারপর তাকে বল্লাম চাচি আাপনার কেউ নেই? যে আপনি এই বয়সে ভিক্ষা করছেন কেন ? তিনি বলেন আমার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে আছে। ছেলে বিয়ে করে তার শশুরবাড়ী থাকে। ভ্যান চালায় সংসার চালায়। সে হাপানীর রোগী হওয়ায় প্রতিদিন সে আবার ভ্যান চালাতে পারেনা। তার রোজগার কম বউ সন্তান রইছে। ছেলে আপনাকে ভরণ-পোষন দেয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তারই চলেনা আবার আমারে কিভাবে দ্যাখপে। তারসাথে দেখা হলি ২/৩ মাস পরে হয়তো ২০/৩০ টাকা দেয় পান কিনে খাতি এছাড়া কিছু দেয়না। ছোট মেয়ের বিয়ে দিছিলাম তারও কপাল পোড়া কয়েক বছর পর তার স্বামী এ্যাক্সিডেন্টে মইরে গেছে। তার ঘরে দুটো সন্তান রইছে। আমার দেড় শতক খানার উপর একটি মাটির ঘরে তারা আমার সাথে থাকে। আমার মেয়ে জোন দিয়ে সংসার চালায়। সে আমার ভরন পোষন চালাতে পারেনা। অল্প টাকা পায় জোন দিয়ে। তাই তোমাগে দারে দারে বারবার ফিরে আসি। সরকারের তরফ থেকে কি পাইছেন প্রশ্নে তিনি বলেন মিথ্যা কথা আমি বলবো না বাপ সরকার আমারে একটা বয়স্কভাতা কার্ড দিছে তারা ৬ মাসে আমারে দেড় হাজার করে টাকা দেয়। তাতে কি আমার চলে তুমি বলো। আর কেউ কিছু দিছে কিনা জানতে চাইলে বলেন আলিপুরের মহিলা মেম্বার ফাতেমা ও চৌকিদার প্রায় একবছর আগে আমার ছবি তুলে নিয়ে গেলো আমারে একটা ফকিরের কার্ড করে দেয়ার জন্যি কিন্তু তা এখনও দেয়নি। তারা বলে তোমারতো বয়স্কভাতা কার্ড দিছি আর কতো দেবো। তিনি অভিযোগ করে বলেন কত মানুষরে তারা গরু-ছাগল, ঈদে কাপড়-চোপড় দেয় খালি আমারে দেয় না। প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার কাছে আমার দাবি তিনি যেন আমারে একটা বসত ঘর বানায়ে দেয় এবং একটি গরু দেয় তাহলি আমি আর ভিক্ষা করতাম না। একটা বসত ঘর দিলি বাকী জীবনটা নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভালোভাবে থাকতি পারতাম।

#