সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার


514 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

মহান ভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার অধিকাংশ বেসরকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গড়ে উঠেনি শহিদ মিনার । দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিশেষ করে উপজেলার ৩৭টি মাদ্রাসার কোনটিতে শহিদ মিনার নেই। এমনকি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩ টি ইউনিয়নের কোথাও কোন শহিদ মিনার আজও নির্মান করা হয়নি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলারোয়া পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে মোট ২৬টি শহিদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে পৌর সদরের কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল ফুটবল মাঠে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, কলারোয়া সরকারী কলেজে শহিদ মিনার, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজে,কলারোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপিনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৬টি শহিদ মিনার রয়েছে পৌর সভার মধ্যে।
এ ছাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে শহিদ মিনার গুলো হলোÑ১নং জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জয়নগর বদুরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও ধানদিয়া ইউনাইটে হাইস্কুল, ৪নং লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের কে এল হাইস্কুল, ৫নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬নং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭নং চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজার, চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ, বয়েরডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চান্দুড়িয়া কেসিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়নের কাজীর হাট হাইস্কুল ও কেকেইপি হাইস্কুল, ৯নং হেলাতলা ইউনিয়নে দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেলাতলা আইডিয়াল স্কুল ও ঝাপাঁঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ১০নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের পানিকাউরিয়া হাইস্কুল এবং ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো হাইস্কুল। তবে উপজেলার ২নং জালালাবাদ, ৩নং কয়লা ও ১২নং যুগিখালী ইউনিয়নে কোন শহিদ মিনার নেই বলে দেখা যায়। এমনকি গত ৬৬ বছরে ওই ৩ ইউনিয়নের শহিদ মিনার স্থাপনের তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও শোনা যায়নি।
সুত্র জানায়, উপজেলার ৩৭টি মাদরাসার মধ্যে ৩৪টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসার কোথাও একটিও শহিদ মিনার গড়ে তোলা হয়নি। তবে হতাশার বিয়য় হলো উপজেলার ১২ টি বেসরকারী কলেজের মধ্যে ৮টি কলেজে আজও কোন শহিদ মিনার নির্মান করা হয়নি। নির্মান করা হয়েছে শুধু কলারোয়া সরকারী কলেজ, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ ও চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজে।
প্রকাশ থাকে যে, এম আর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান নিজ অর্থায়নে ও এ্যাড.কামাল রেজার সহযোগিতায় বিগত কয়েক বছরে কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া হাইস্কুল, হেলাতলা হাইস্কুল, কেকেইপি হাইস্কুল, চন্দনপুর কলেজ চত্ত্বরে শহিদ মিনার তৈরী করা হয়েছে। এ ছাড়া কলারোয়া ফুটবল মাঠে স্বাধীনতার স্তম্ভ ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার তারই অর্থায়নে নির্মান করা হয়।
নতুন প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী কলেজে ক্যাম্পাসে এসে শহীদ মিনার দেখতে পাচ্ছে না। এদের অনেকেই তাদের স্কুল চত্বরে শহীদ মিনার দেখে এসেছে। শহীদ মিনার বিহীন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মহান একুশে ফেব্ররুয়ারীতে ভাষা শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করতে পারে না। বেসরকারী কলেজের চেয়ে শহিদ মিনার নির্মানের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে উপজেলার ১০৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবলমাত্র কলারোয়া সরকারী প্রাথমিক রঘুনাথপুর, ঝাঁপাঘাট ও বয়েরডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে ।
সাতক্ষীরার কলারোয়ার ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক প্রয়াত আলহাজ শেখ আমানুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় অনেক অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে তোলার কথা বলতেন। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু তার লালিত শ্বপ্ন বাস্তবায়ন করে প্রয়াত এই ভাষা সৈনিকের প্রতি আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধা দেখাতে পারি না। এই জন্য প্রয়োজন উদ্যোগ ও সমম্বিত প্রয়াস।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ও নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম-ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়া তোলা হোক শহিদ মিনার। এটাই প্রত্যশা করে সকল শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ বলেন, উপজেলার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ওই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মান করা হবে বলে তিনি জানান।

#