সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আমন চাষে বিপর্যয়ের আশঙ্কা !


416 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আমন চাষে বিপর্যয়ের আশঙ্কা !
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ কলারোয়া কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
কলারোয়ায় পানির অভাবে আমন ধান আবাদে বিপাকে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকেরা। পর্যাপ্ত পানির অভাবে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে বীচতলা তৈরীর পর মাঠে চারা রোপন করে আমন আবাদের চেষ্টা করলেও পানি সংকটে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংসয় দেখা দিয়েছে। তবে ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে মাঠে সেচ দিয়ে আমন আবাদের পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. মোহাসীন আলী। তিনি প্রান্তিক কৃষকদের চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত আমনের ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোন সমস্যা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিস জানান, চলতি বছর উপজেলায় ১১ হাজার ৩ শত ৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপনের কাজ শেষে পরিযর্যার কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন, সাত্তার মোড়ল, কবিরসহ কয়েকজন জানান, সাধারণত আষাঢ় থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আমরা আমন ধানের চারা জমিতে রোপন করি। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ কৃষক আমন চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তারা বলেন, মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও সেই পানি জমিতে থাকছে না। এর ফলে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে পানি না থাকায় সেই জমি এখনও পতিত অবস্থায় পড়ে আছে।
উপজেলার বামনখারী এলাকার কৃষক আব্দুল হক বলেন, এবছর এলাকায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষকের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো সে কারণে বাধ্য হয়ে এলাকার কিছু কৃষক অতিরিক্ত খরচ করে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে চারা লাগানোর কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমন আবাদে আগাছা প্রতিরোধের জন্য ক্ষেতে ৪ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হচ্ছে যার কারনে কৃষকদের আমন আবাদে দ্বিগুন খরচ হচ্ছে।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. মোহাসীন আলী জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মূলত কৃষকেরা বৃষ্টির পানিতে আমন ধানের আবাদ করে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে বৈরী আবওহায়ার কারণে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকদের শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে গভীর নলকুপ থেকে মাঠে সেচ দিয়ে আমন আবাদ করানো হয়েছে। এর ফলে এবছর আমন চাষে প্রান্তিক কৃষকের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান এবং কৃষকদের নিয়মিত উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মাঠে কাজ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে কৃষি অফিস নিয়মিত খোজ নিচ্ছে বলে আমাদের সময়কে জানান এই তরুন কৃষিবীদ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, একটু ভারী বৃষ্টিপাত হলেই কৃষকের সমস্যার সামাধান হয়ে যাবে। তবে এসব ঘটনায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিনে কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।