সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঢাকা ফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত


231 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঢাকা ফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত
মে ১৬, ২০২০ কলারোয়া দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

এনিয়ে সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত ৪ জন, সুস্থ ১

আসাদুজ্জামান :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঢাকা ফেরত বায়িং হাউজে কর্মরত এক যুবকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এঘটনায় কলারোয়া উপজেলার দাড়কি গ্রামে ওই যুবকের বাড়িসহ ৭টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত যুবকের নাম মুজাহিদুল ইসলাম (৩৭) । তিনি দাড়কি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, গত ১০ মে ওই যুবক তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুরোধে গত ১৩ মে ওই যুবক ও তার স্ত্রীর নমুনা খুলনা পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়।

শনিবার দুপুরে তার পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। তবে তার করোনার উপসর্গ নেই বলে তাকে বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শে আসা আশপাশের ৭টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এনিয়ে সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৪ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি আইসোলেশনে রয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল পেকনোশিয়ান মাহমুদুল হক সুমন।

কলারোয়া প্রতিনিধি জানায়

ভয়েস অব সাতক্ষীরার কলারোয়া প্রতিনিধি কে এম আনিছুর রহমান জানান
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঢাকা ফেরত মোজাইদুল ইসলাম নামে যুবকের (৩৭) করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই প্রথম কলারোয়ায় কোন ব্যক্তির করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসলো। শনিবার (১৬ মে) করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে ওই যুবকের।
তিনি উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়কি গ্রামের মৃত মনিরুজ্জামানের ছেলে । বর্তমানে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন । তবে এখন পর্যন্ত তার সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথাসহ করোনার কোন উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

এতে করোনা আক্রান্ত যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানিয়েছেন।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথে কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনীর-উল-গীয়াসসহ সংশ্লিষ্টরা ওই যুবকের মানসিক শক্তি বাড়াতে দুপুরের পরপরই তার বাড়িতে ছুটে যান। আতংকিত না হয়ে মানবিক হয়ে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার বেলা ৩টর দিকে করোনা পজেটিভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান। তিনি জানান- ‘উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়কি গ্রামের ওই যুবক ও তার স্ত্রীর নমুনা ১২ মে সংগ্রহ করে ১৩ মে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। শনিবার (১৬ মে) তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। আমরা সেখানে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক মনোবল বৃদ্ধিসহ চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছি। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ৮ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন- এদিন পর্যন্ত কলারোয়ায় ১৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবারই এই প্রথম পজেটিভ রিপোর্ট আসলো।

উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, তার বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন। করোনা শনাক্তকারীকে আতংকিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাকার আহবান জানানো হয়েছে। মনোবল শক্ত রাখতে বলা হয়েছে, বলেছি আমরা সবাই তার পাশে আছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন। স্থানীয় জনসাধারণকে সজাগ-সচেতন থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, তিনিসহ পুলিশ সদস্যরা তার বাড়িয়ে গিয়েছিলেন। আক্রান্ত রোগীসহ আশে পাশের ৮টি বাড়িতে লালপতাকা তুলে লকডাউন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্কতায় অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। করোনা আক্রান্তকে শঙ্কিত না হয়ে মনোবল শক্ত রাখার আহবান জানানো হয়েছে। আমরা তার পাশে আছি।
চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, দাড়কি গ্রামের ওই যুবক স্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। আমি সংবাদ পেয়ে মোবাইল ফোনে তাকে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিতে কলারোয়া যেতে অনুরোধ করি। সেই মোতাবেক নমুনা দিয়ে আসার পর শনিবার তার পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে হাসপাতাল থেকে আমাকে জানিয়েছেন। আমরা তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করেছি। সার্বিক সহযোগিতায় তাদের পাশে থাকবো বলে তিনি জানান।
এদিকে, মোবাইল ফোনে করোনা আক্রান্ত যুবক জানান, সে ঢাকার একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন। স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সাভারে। গত ১০ মে গ্রামের বাড়ি দাড়কি আসেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাকে করোনা টেস্ট করাতে বললে স্ত্রীসহ তিনি ১২ মে কলারোয়া হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দেন। শনিবার (১৬ মে) চেয়ারম্যানেরে মেবাইল ফোনে তিনি জেনেছেন তার করোনার পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে।

তিনি জোর দিয়ে আরো বলেন, এখন পর্যন্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা বা করোনা উপসর্গ কোন লক্ষণ আমি টের পাচ্ছি না। তবে যেহেতু পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে সেহেতু নিয়ম মেনে এর থেকে উত্তরণের জোর চেষ্টা করবো। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।

উল্লেখ্য, করোনা পজেটিভ ওই যুবকের মা-বাবা মারা গেছেন। গ্রামে তার আরো ৩ ভাই পরিবার নিয়ে পাশেই থাকেন।

এদিকে, প্রথমবারের মতো কলারোয়ায় কারো শরীরে করোনা সনাক্ত হওয়ায় চারিদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৩/৪দিন বিভিন্ন সময়ে করোনা শনাক্ত যুবককে তার বাড়ির পাশেই হিজলদী বাজারসহ আশপাশে ঘুরতে দেখা গেছে। এমনকি তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা কিংবা বাড়ির আশপাশের লোকজন হিজলদী বাজার, পাড়া ও হিজলদী কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন। এতে ওই এলাকার প্রায় সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

#