সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ফোর মার্ডার, সাক্ষ্য দিলেন ২ বিচারক


204 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ফোর মার্ডার, সাক্ষ্য দিলেন ২ বিচারক
মার্চ ২৩, ২০২১ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামে একই পরিবারের মা-বাবাসহ দু’সন্তানকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন
১৬৪ ধারায় আসামী ও সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডকারি বিচারিক হাকিম বিলাস কুমার ম-ল ও রাকিবুল ইসলাম। সোমবার তারা সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের কাছে এ সাক্ষ্য দেন। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করে আগামি ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলামকে সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে এ মামলায় ১৭ জন সাক্ষ্য দিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের ছোট ছেলে রায়হানুর রহমান (৩৬) বেকারত্বের কারণে বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে সে খাওয়া দাওয়া করতো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোন কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি স্ত্রী তালাক দেয় রায়হানুর রহমানকে। সংসারে টাকা দিতে না পারায় শাহীনুৃরের স্ত্রী দেবর রায়হানুরকে মাঝে মাঝে গালমন্দ করতো। এরই জের ধরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই মো: শাহীনুর রহমান (৪০) ভাবী সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে ব্রজাবক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসমিন সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয়ের সাথে ঘুমের বাড়ি খাওয়ায়। পরদিন ১৫ অক্টোবর ভোর চারটার দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদেরকে একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যাকারীরা ওই পরিবারের ৪ মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে লাশের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শাশুড়ি কলারোয়া উপজেলার উফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজীর স্ত্রী ময়না খাতুন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে শাহীনুরের ভাইর রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস ম-লের কাছে একাই হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে পালিত হচ্ছে। গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামী রায়হানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে এ মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠণের পর বাদি ময়না খাতুন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি এড. আব্দুল লতিফ বলেন, এ পর্যন্ত মামলার বাদি ময়না খাতুন, কলারোয়া থানার উপ-পরিদর্শক ইসরাফিল হোসেন, তানিয়া খাতুন, আয়েশা খাতুন, আনিছুর রহমান, আব্দুল কাদের, হাফিজুল ইসলাম, হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, কনস্টেবল সোনিয়া আক্তার, কনস্টেবল মো: বখতিয়ার হোসেন, কনস্টেবল সিরাজুম মনীর, জব্দ তালিকার সাক্ষী সিআইডি’র সাতক্ষীরার
পুলিশ পরিদর্শক মো: শফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার, আলমগীর হোসেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: নাসিরউদ্দিন, বিচারিক হাকিম বিলাস কুমার ম-ল, বিচারিক হাকিম ও রাকিবুল ইসলাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৫ মার্চ পরবর্তী সাক্ষী মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জজ কোর্টের পিপি এড. আব্দুল লতিফ। আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এড. মো: ফরহাদ হোসেন ও এড. মোস্তাফিজুর রহমান জগলু।