সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা


413 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা
জানুয়ারি ১৬, ২০১৯ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
কলারোয়ায় বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা। নতুন করে ধানের গোলা এখন আর তৈরি হতে দেখা যায় না। আর এখনো যে গোলা চোখে পড়ে সেগুলো পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন কৃষক তার বসতভিটা বা বাড়ির উঠানে। গ্রামে গঞ্জে এক সময় অবস্থাসম্পন্ন কৃষকের বাড়িতে শোভা পেতো ধানের জন্য বিশেষ উপকরণ-বাশঁ, বেত, তাঁর বা চিকন প্লাস্টিক সূতো দিয়ে বাঁধানো ব্যবহার উপযোগী তৈরিকৃত গোলা (গোলাকৃত হওয়ায় গোলা নাম উঠে এসেছে বলে অনেকের অভিমত)।
আকার অনুযায়ী ওসব ধানের গোলায় ১০০ থেকে ১৫০ মণ ধান সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। প্রথমে বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। এঁটেল মাটির কাদা তৈরি করে ভেতরে ও বাইরে আস্তরণ লাগিয়ে উপরে টিনের চালা দিয়ে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হতো ওই ধানের গোলা। ধানের গোলা বসানো হতো ২/২.৫ ফুট মত উঁচুতে। প্রবেশপথ রাখা হতো বেশ ওপরে, এমনকি একেবারেই গোলার উপরিভাগের দিকে ছোট্ট ফোকর রেখে, যেন চোর বা ডাকাতে ধান নিতে না পারে। বিশেষ ব্যবস্থার জন্য ধানের গোলায় ঢুকে ক্ষতি করতে পারতো না ইঁদুর পর্যন্ত। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত ও গন্ধহীন। একসময় কৃষকের কাছে এটিই ছিলো ধান রাখার আদর্শ পন্থা।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অলস পড়ে থাকা অবস্থায় এখনও চোখে পড়ে ওইসব ধানের গোলা। কিছু মোটামুটি ব্যবহারে, আবার কিছু পরিত্যক্ত অবস্থায় স্মৃতি হিসেবে পড়ে আছে কৃষকদের উঠানে।
যাদের জমির পরিমাণ একটু বেশি তারা ধান সংরক্ষণের জন্য ওই গোলা ব্যবহার করতেন। আর স্বল্প জমির কৃষক সচরাচর চাচ মোড়ানো আঞ্চলিক ভাষা আউড়ি কিংবা বস্তা ব্যবহার করে ধান রেখে আসছেন অনেকেই। তবে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা খুবই উপযোগী। ধানের মৌসুমে ধান কেটে ঝেড়ে শুকিয়ে গোলায় রাখা হতো বা হয়।
প্রয়োজনের সময় গোলা থেকে ধান বের করে পুনরায় রোদে শুকিয়ে ধান ভাঙানো এবং বিক্রি করা হয়ে থাকে। বর্তমানে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে ওই ধান রাখার বিশেষ পন্থা বা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ‘গোলা’। তবুও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বাড়ির উঠানে এখনো কেউ কেউ ওই ধানের গোলা রেখে দিয়েছেন।
গ্রামাঞ্চলের অনেকে জানান- এখনো কেউ কেউ কমবেশি গোলা ব্যবহার করে গেলেও হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ে গেরস্থের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। আগামী নতুন প্রজন্মের কাছে হবে ইতিহাস। সময়ের বিবর্তনে গোলাতে ধান সংরক্ষণ হ্রাস হয়ে বস্তায়, ড্রামে করে গোডাউন বা ঘরের মধ্যে রাখার ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।
আক্ষেপ করে কয়েকজন কৃষক জানান- একটি ধানের মৌসুমে যে ধান পাই তা বিক্রি করে আর খেতেই ফুরিয়ে যায়। গোলায় রাখবো কী? তাছাড়া ফসলে তেমন কোন লাভ হচ্ছে না, খাটুনী-খরচের তুলনায় ফসলে দাম কমের কারণে।