সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসদরে রাস্তাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ


135 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসদরে রাস্তাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ
জুন ১৫, ২০১৯ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসদরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কের অর্ধেকজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের ভাগাড়ে তিক্ত বিরক্ত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি পঁচা-বাসী দূগর্ন্ধে অসহায়েত্বের মধ্যে পড়েছেন এলাকাবাসী। তবুও দেখার যেন কেউ নেই। পৌরবাসি বারবার জানালেও টনক নড়ছে না পৌর কর্তৃপক্ষের।
পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ২নং ওয়ার্ডের তুলশিডাঙ্গার পুরাতন খাদ্য গুদামের পাচিল ঘেষে সামনের রাস্তার অবস্থা এটি। পাশেই কৃষি অফিসের আওতাধীন কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পুরাতন বীজ-বিষ ভবন। পৌরসভাধীন একমাত্র গরু-ছাগল জবাই করার স্থান পিলখানাও স্থানটির পাশেই। আশপাশে বসবাস করেন শতশত পরিবার। আর রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজারো পথচারী। মাছবাজার, তরকারী-মুদি বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সমস্ত পণ্য ট্রাকে লোড-আনলোড করা হয় এই স্থান থেকেই। অথচ এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন পৌরসভার দায়িত্বশীলরাই।
সরেজমিনে দেখা গেছে- নিয়ম না থাকলেও বাসস্ট্যান্ড, তরকারি বাজার, কলারোয়া প্রেসকøাবের সামনে, সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলামের বাড়ির সামনে, তুলশিডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে, পুরাতন খাদ্য গুদামের পাচিল ঘেষে ময়লা-আবর্জনা রাস্তার প্রায় অর্ধেকজুড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন এখানে দোকানদার, বা ব্যবসায়ীরা ও ভাড়াটিয়ারা ময়লা ফেলছে। সেই ময়লা অপসারণ কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দায়িত্বে থাকা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ময়লা অপসারণ না করে দৃশ্যত থাকেন উদাসিন। তাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রতিদিন তো দূরের কথা সপ্তাহে ২/১দিন, আবার কোন সময় ১ কিংবা দেড় অথবা ২ সপ্তাহ পর ময়লা অপসারণ করে থাকে। ফলে ময়লা-আবর্জনা যেমন স্তুপ থেকে ভাগাড়ে পরিণত হয় তেমনি অসহনীয় দূর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা পড়েন দূর্ভোগে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন অপসারণ না করা, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পরিবেশবান্ধব বড় স্থান কিংবা বড় ভ্রাম্যমান ডাস্টবিন না রাখা, পৌরসভার উদাসিনতা, পরিচ্ছন্নকর্মীদের গাফিলতি, দোকানদার-ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব আর সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির জনমুখি না হওয়ায় এ চরম দূর্ভোগ, ভোগান্তি আর বিপাকে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বলেন- পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঈদুল ফিতরের বেশ কয়েকদিন আগে ময়লা পরিষ্কার করেছিলো। এরই মধ্যে ময়লা আর আবর্জনার রসে সেখানে কাদা পর্যন্ত হয়ে গেছে। অসহনীয় দূর্গন্ধে বমি চলে আসে। বিষয়টি পৌরসভাকে জানানোর পর আজও পরিচ্ছন্নকর্মীরা ময়লা-আর্বজনা পরিষ্কার করেনি।
তারা বলছেন- যদি প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন পরিষ্কার করা হতো তাহলে এই অসহায়েত্বর মধ্যে পড়তে হতো না এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদের। পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানান- ময়লা ফেলার জায়গা নেই আর লোক কম আছে।
পৌরবাসি অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক জাভিদ হাসান ক্ষোভের সাথে বলেন, পৌরসভা সংশ্লিষ্ট অনেক সমস্যা বিদ্যমান। জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে বাতি জ্বলে না মাসের পর মাস। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাব, ড্রেনের অবস্থা এতো নাজুক পরিষ্কারের অভাবে আশপাশের লোকজন ব্যবসা বা বসবাস করতে পারছে না। বিশেষ করে রাস্তায় বাতি না থাকায় নেশাখোরদের পদচারণায় আইন-শৃংখলা, সংশ্লিষ্ট পরিবেশও উদ্বেগজনক হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত মেয়র প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, ময়লা অন্যত্র ফেলবার জায়গা সংকটে আমরা বিব্রত। তার পরেও আমরা পৌরবাসির সমস্যা সমাধানে ও সুবিধার্তে সবকিছু করবো। ইতোমধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জায়গা কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। জায়গা কেনা হলে এসব সমস্যা আর থাকবে না বলে তিণি আশা করেন।

#