সাতক্ষীরার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর নিম্মমানের ইট ফেরত । নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


732 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর নিম্মমানের ইট ফেরত । নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আগস্ট ১৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ থেকে প্রাচীর নির্মাণের জন্য আনা ৩ নং ইট ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবাদকারীদের ম্যানেজ করতে ঠিকাদার আসাদুজ্জামান সেলিম ও সাব ঠিকাদার মনিরুজ্জামান মন্টু বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিচ্ছে বলে জানাগেছে। অন্যদিকে কাজ বন্ধ করার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও ৩ নং ইট দিয়ে গাঁথা পিছনের প্রাচীর এখনও ভাঙ্গার আদেশ দেয়নি গণপূর্ত বিভাগ। ফলে এ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্র্যান্সেস আশীষ ডি কস্তা বলেন, আপনারা যা পারেন লেখেন। আমাদের মতো আমরা কাজ করব।
গণপূর্ত বিভাগের সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলা শহরের উপকন্ঠে বিনেরপোতায় নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য দুই পাশে ২৩০ ফুট ও অপর দুই পাশে ১৭০ ফুট করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডারে ঠিকাদার আসাদুজ্জামান সেলিম কাজটি পান। টেন্ডারের চুক্তি মূল্য ৩১ লাখ টাকা। সিডিউলে চারপাশে ৮০০ ফুট প্রাচীরের জন্য গ্রেট বীমের উপরে ৬ ফুট উচ্চতা ও নিচে ফাঁকা ইটের কাজ করার বিষয়ে উল্লেখ আছে। সকল ইটের কাজ ১ নং মিঠা মাটির ইট দেওয়ার বিষয়ে সিডিউলে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে তারা সিমেন্ট দিচ্ছেন প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে গাঁথুনি দুর্বল হয়ে কোন রকম দাঁড়িয়ে আছে। এসব গাঁথুনি খালি হাতে খোলা যাচ্ছে। অন্যদিকে রাস্তার পাশের দেওয়ালে গ্রেট বীমের উপরের গাঁথুনি দেড় নং ও ২ নং লোনা মাটির ইটের সমন্বয়ে গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাচীরের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র আরো জানায়, লোনা মাটির ইট দিয়ে প্রাচীরের কিছু অংশ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে প্রাচীর দ্রুত লোনা লেগে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
সূত্র জানান, কাজের দায়িত্বে গণপূর্ত বিভাগের নিয়েজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম প্রতিদিন কয়েকবার কেন্দ্রে গিয়ে তদারকী করলেও ৩ নং ইট দিয়ে গাঁথুনি ও বালির সাথে পরিমাণমত সিমেন্ট কম দেওয়ার বিষয়ে কোন কিছুই বলেন না তিনি। সম্প্রতি স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাজ বন্ধ করে দেয়।
সূত্র জানায়, আসাদুজ্জামান সেলিম কাজ না করে কাজটি স্থানীয় মনিরুজ্জামান মন্টুর কাছে কয়েক লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয়। এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জেনেও বিশেষ কারণে তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে পেশায় ঠিকাদার না হয়েও মনিরুজ্জামান মন্টু কাজটি করায় কাজে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের পিছনে গ্রেট বীমের নিচের সকল গাঁথুনি ৩ নং ইট দিয়ে করা হয়েছে। এ দেওয়ালে গ্রেট বীমের নিচে গাঁথা ইটগুলো সিমেন্ট কম দেওয়ায় হাত দিয়ে সহজে খোলা যাচ্ছে প্রতিটি ইট। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। ঐ দিন দুপুরে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি কস্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। এ সময় তিনি স্তুপ করে রাখা ৩ নং ইট ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। পরে বাবুলিয়ার সানি ইট ভাটার ১ নং ইট দিয়ে কাজ করা নিদের্শ দেন বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি কস্তা জানান, নি¤œমানের ইটগুলো ফেরত  দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, ১ নং মিঠা মাটির ইট পাওয়া যাচ্ছে না  বিধায় অসুবিধা হচ্ছে। ৩ নং ইট দিয়ে গাঁথা প্রাচীর ভাঙ্গার কোন নির্দেশ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মতো করে আমরা কাজ বুঝে নিচ্ছি। কারো কথামতো আমরা কাজ করব না। আপনাদের হাতে কলম আছে যেভাবে পারেন লেখেন, কোন অসুবিধে নেই। কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী প্রকৌশলীর এ ধরনের মন্তব্য করায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।