সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ইউনুছ ও জাকিরের জলদস্যুতা ছেড়ে মাদক ব্যবসা !


523 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ইউনুছ ও জাকিরের জলদস্যুতা ছেড়ে মাদক ব্যবসা !
এপ্রিল ১৩, ২০২০ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুল জলিল :
জলদস্যুতা ছেড়ে দিয়ে এবার মাদক ব্যবসায় নেমেছেন সাতীরার কালিগঞ্জের ইউনুছ আলী ও জাকির হোসেন। এক সময় তারা সুন্দরবন জুড়ে দস্যুতা করতেন। এরআগে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে তারা র‌্যাবের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আতœসমর্পণ করেন।

মামলা থেকে জামিন নিয়ে তারা তাদের আদি বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী থেকে কালিগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া রাজবাড়ি এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে এসে আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নেন ফেন্সিডিল ব্যবসা। এলাকার লোকজন তাদের ভয়ে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। বর্তমানে তাদের রমরমা ব্যবসা চলছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, র‌্যাবের কাছে অস্ত্রজমা দিলেও অপরাধ জগতের কর্মকান্ড থেকে ফিরে আসেননি তারা। মাদকের মত সমাজ বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় তারা এখানে ভোটার হতে পারেননি।

তবে ইউনুছ আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু লোক নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে না পেরে তাদের বিরুদ্ধে এসব বলছেন ।

মাছ ব্যাবসায়ী আবুল হোসেন, বাপ্পী তরফদারসহ এলাকাবাসি জানান, ইউনুছ আলীও জাকির হোসেন প্রকাশ্যে ফেন্সিডিল ব্যবসা করেন। তাদের এই মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না । তাদের মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করে অনেকে হামলা মামলার ন্বীকার হয়েছের। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবিরা ইউনুছ আলীর বাড়িতে অহরহ যাতায়াত করেন। রাস্তায় দাড়িয়েও প্রকাশ্যে ফেন্সিডিল বিক্রি করেন ইউসুছ।

কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য জিএম গোলাম মোস্তফা ও ৫ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য সেলিম আহম্মেদ জানান, ইউনুচ আলী ও জাকির হোসেন সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু ছিলেন। যার করণে এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের ভয় পান। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তারা অনেকবার গোলযোগও করেছেন। আর এ জন্য তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে । তাদের কারণে এলাকায় অপরাধ মূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল হোসেন খোকন জানান, তারা ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার হওয়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু তারা সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় তাদের ভোটার করা হয়নি।

অভিযুক্ত ইউনুছ আলী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে তিনি কাঠুরিয়া রাজবাড়ি এলাকায় নানার বাড়িতে বসবাস করেন। তিনি বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার সোর্স হিসেবে কাজ করেন।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হুসেন জানান, এই বিষয়ে তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেননি। তবে, তিনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান। তবে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।##