সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ড্রাগন চাষে সাফল্য


556 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ড্রাগন চাষে সাফল্য
নভেম্বর ১৬, ২০১৮ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ সুকুমার দাশ বাচ্চু ॥

ড্রাগন ফলের সাথে গ্রামের মানুষের পরিচয় না থাকলেও এই ফল চাষাবাদ করে সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছেন রুহুল আমিন নামের একজন কৃষক। মাত্র ৮ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের এই ফল চাষ করেছে কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত গহর আলী মোড়লের ছেলে রুহুল আমিন মোড়ল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ড্রাগন চাষে উর্দ্বুদ্ধ হয়ে একটি এনজিওর মাধ্যমে ২০টি গাছের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। বাড়ির আঙ্গিনায় ১৮ মাস পূর্বে ড্রাগন চাষ শুরু করে সফলতার মুখ দেখেন তিনি। এক বছর ধরে লালন পালন শেষে গাছে ফল আশায় মহা আনন্দে দিন কাটতে থাকে তার। এসময় গাছের পরিচর্যা আরো বাড়িয়ে দেন তিনি। পোকা লাগার ভয়ে মাঝে মধ্যে রিপকর্ড নামক কিটনাশক স্প্রে করেন ড্রাগন গাছে। তার বাগানের প্রত্যেকটি গাছ এখন ফল দেওয়া শুরু করেছে। প্রতি কেজী ফল বিক্রি করেন ছয় থেকে সাড়ে ছয়‘শ টাকা দরে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে ও নওয়াবেঁকী গনমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফের) বাস্তবায়নে ফলাফল প্রদর্শনী খামার তৈরী করেছেন তিনি।

সরেজমিনে যেয়ে ড্রাগন চাষী রুহুল আমিনের সাথে কথা বলে জানাযায়, বিদেশি ফল ড্রাগন, বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল) ও সাদা দুই জাতের চাষ করেছেন তিনি। সহজ পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে ১৮ মাসে ১৫০ থেকে ১৭৫টি ফল তুলেছেন বাগান থেকে। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ৩‘শ গ্রামের কাছা কাছি এবং পেয়েছেন উচ্চ মূল্যও।

ক্যাকটাস জাতীয় এই ফল গাছ চাষ করতে ছয় ফুট লম্বা সিমেন্টের খুটিতে ৪/৫টি করে গাছ লাগানো হয়েছে। পানি জমে না এমন উচ্চ যেকোন মাটিতে চাষ যোগ্য রপ্তানী ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় এ ফলটি ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে প্রথম বাংলাদেশে নিয়ে আশা হলেও এখন পর্যন্ত এই ফলের চাষাবাদ ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়নি। বানিজ্যিক ভিত্তিতে সফল ভাবে চাষ করার জন্য বাউ ড্রাগন-১ (সাদা), বাউ ড্রাগন-২ (লাল) ও হলুদ ও কালচে জাত দেখতে পাওয়া যায়। সহজ চাষ পদ্ধতি ও উচ্চ মূল্যের ভিন দেশি গাছটি ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার লম্ব ক্যাকটাস জাতীয় এ ফলটি নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখছেন গ্রামের অনেক চাষীরা। ড্রাগন ফল চাষী রুহুল আমিন এ প্রতিবেদককে জানান, ১৮ মাস পূর্বে এ ফল চাষে তিনি সফলতা পেয়েছেন বিধায় আরো ৩৩ শতাংশ জমিতে এই ফল চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

তার পরিকল্পনা রয়েছে বৃহৎ পরিসরে চাষাবাদ করার। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বছরের যে কোন সময় চারা রোপণ করা যেতে পারে, তবে চারা রোপনের মাস খানেক পূর্বে গর্ত তৈরী করে প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক সার দেওয়া উত্তম। এই ক্যাকটার্স জাতীয় ফল গাছটি দ্রুত বর্ধনশীল ১ বছরের মধ্যে ৩০ টি পর্যন্ত শাখা তৈরী করতে সক্ষম। রোগ বালাই পোকা মাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের একটি গাছ ৫ থেকে ২০টি ও পূর্ণ বয়স্ক গাছ থেকে বছরে ২৫ থেকে ১‘শ টি মত ফল পাওয়া যায়। গাছের পরিপূর্ন বয়স হতে প্রায় ৩ বছরের মত সময় লাগে। অপর সম্ভাবনাময় এই ড্রাগন ফল চাষাবাদ সম্প্রসারিত হলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করেন রুহুল আমিন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, শুধূ ড্রাগন চাষ নয়, পূর্ব থেকে পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষ, ঘেরের ভেড়ির সাথে মাচান বানিয়ে সবজি চাষ করে তিনি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। রুহুল আমিন দাবী করেন, সরকারি পৃষ্টপোশকতা পেলে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বৃহৎ আকারে ড্রাগন চাষ করতে পারবেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি কাছে জানতে চাইলে এ প্রতিনিধিকে জানান, ড্রাগন একটি লাভ জনক ও সম্ভাবনাময় চাষ। সরকারী ভাবে যতটুকু সহায়তা প্রদান করা যায় আমি সেটা করব। আমি উপজেলা কৃষি অফিসের ছাদের উপর বিভিন্ন ফল গাছের পাশাপশি ড্রাগন চাষ করেছি।

##