সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে “১৮’র আগে বিয়ে নয়” শীর্ষক গণসমাবেশ


138 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে “১৮’র আগে বিয়ে নয়” শীর্ষক গণসমাবেশ
আগস্ট ১, ২০১৯ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

“আমেরিকান সরকারের আন্তজার্তিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) এর ফুড ফর পিস (টাইটেল-২) খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের অর্থায়নে ‘নবযাত্রা’ একটি পাঁচবছর মেয়াদী প্রকল্প; যা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর নেতৃত্বে নবযাত্রা প্রকল্প অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর এবং খুলনা জেলার দাকোপ ও কয়রা উপজেলার ৮,৫৬,১১৬ জন উপকার ভোগীর জন্য বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), সুশীলন নবযাত্রা কর্মসূচীর সুশাসন, জেন্ডার, এবং গ্র্যাজুয়েশন কার্যক্রমের সঞ্চয়ী দল সম্পর্কিত কার্যাবলী বাস্তবায়ন করছে।ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সুশীলনে’র সাথে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় যুব জন গোষ্ঠির সাথে তাদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি কাজ করে আসছে।এরই অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই,২০১৯ ইং তারিখে উপজেলা অডিটরিয়ামে বাল্য বিয়েনির্মূলে সমাজের দায়িত্ব বাহকদের ভূমিকা বিষয়ক “১৮’র আগে বিয়ে নয়” শীর্ষক এক গণসমাবেশ ও মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন আশীষ কুমার হালদার, ফিল্ড অফিস ম্যানেজার, নবযাত্রা প্রোগ্রাম, কালিগঞ্জ।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরদার মোস্তফা শাহিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঈদ মেহেদী, উপজেলা চেয়ারম্যান, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শারমীন আক্তার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, মোহা: আজিজুর রহমান, ওসি (তদন্ত), কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, মোহা: কামরুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ, মোহা: সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার, কালিগঞ্জ, আশীষ কুমার হালদার, ফিল্ড অফিস ম্যানেজার, নবযাত্রা প্রকল্প, কালিগঞ্জ, জনাব শেখনাজমুলইসলাম, উপজেলাভাইস চেয়ারম্যান, কালিগঞ্জ, জনাব দীপালীরানী ঘোষ, উপজেলামহিলাভাইস চেয়ারম্যান, কালিগঞ্জ, জনাব মোহা: এনামুল হোসেন ছোট, চেয়ারম্যান, তারালীইউনিয়নপরিষদ, জনাব মোহা: মিজানুররহমানগাইন, চেয়াম্যান, মথুরেশপুরইউনিয়নপরিষদ, বাবুপ্রশান্তকুমারসরকার, চেয়ারম্যান, দক্ষিণশ্রীপুরইউনিয়নপরিষদ।

উক্ত অনুষ্ঠানেঅংশগ্রহণকারীহিসেবেউপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার, সাংবাদিক, ৩৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বৃন্দ, উপজেলা ইনফ্লুয়েন্সিয়াল গ্রুপের সদস্যবৃন্দ, ইউনিয়ননারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, ইমাম, পুরোহিত, বিবাহ নিবন্ধক,ভিডিসি সভাপতি, যুব সাংবাদিক, যুবক্লাবের সদস্যবৃন্দ, গ্রামপুলিশ, নবযাত্রার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ।

মোস্তফা শাহীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা বলেন,“যারাবাল্য বিবাহের সাথে যুক্ত থাকবেন তাদেরকে শিশু বিবাহ আইন-২০১৭ অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করবো। এছাড়াও যদি বিবাহ রেজিষ্টারগণ বাল্য বিবাহ দেয় তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বাল্য বিয়ে হওয়ার পরও যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তবে আমি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমি বাল্য বিবাহ বন্ধের জন্য ষষ্ট শ্রেণী হতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি ক্লাসে ৩ জন সদস্য বিশিষ্ট ছাত্র/ছাত্রীর কমিটি গঠণ করার জন্য প্রধান শিক্ষকগণকে নির্দেশ দিচ্ছি। এ বিষয়ে চিঠির মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়কে অবহিত করা হবে।”

সাঈদ মেহেদী, উপজেলা চেয়ারম্যান, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরাবলেন,“অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কাজীরা বিয়ে পড়াবেন না। যারা বাল্য বিয়ে দিবে এবং সহাযোগিতা করবেন আমিতাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিবাহ রেজিষ্টারগণ যদি বাল্য বিয়ে পড়ান তবে তাদের বিরুদ্ধে আমি শাস্তির ব্যবস্থা করবো।”

আশীষ কুমার হালদার মুক্ত আলোচনা পরিচালনাকালে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেন যে বাল্যবিয়ে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে। সকলেই তাদের নিজনিজ অবস্থান হতে বাল্য বিয়ে বন্ধ করার জন্য ভূমিকা পালন করবেন। তাছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেন উপজেলা চেয়ারম্যান,কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,কালিগঞ্জ,সাতক্ষীরা, ওসি (তদন্ত), কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা।

উক্ত অনুষ্ঠানে সকল বক্তাগণই বাল্য বিবাহ বন্ধের জন্য সকলে একযোগে কাজ করার আহবান করেন। কারণ বাল্য বিবাহ হলে নারী নির্যাতন হয়। তাই বাল্য বিয়ে বন্ধ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, মেম্বার, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, যুবসংগঠণ, গ্রাম উন্নয়ন কমিটি, ইনফ্লুয়েন্সিয়াল গ্রুপের সদস্যবৃন্দ, গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি। তাই যেখানেই বাল্য বিয়ে হবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং প্রয়োজনে ১০৯ এবং ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হবে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে সরাসরি ফোন করে জানাতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাল্য বিয়ে বন্ধ করার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা চেয়ারম্যান, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা। উক্ত শপথ অনুষ্ঠানে সকলেই স্বত:স্ফুর্তভাবে শপথ বাক্য পাঠে অংশগ্রহণ করেন। শপথ বাক্যটিছিল: আমরা আল্লাহ ও ঈশ্বরের নামে শপথ করছি যে আমাদের জীবদ্দশায় বাল্য বিয়ে দিবনা এবং বাল্য বিয়ে হতে সহযোগিতা করবো না।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি