সাতক্ষীরার কালোটাকার মালিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ


2184 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার কালোটাকার মালিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

॥ এম কামরুজ্জামান ॥
———————–
গতকাল সোমবার ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমে প্রকাশিত “ সাতক্ষীরার ৩৯ ব্যবসায়ীর ব্যাংক একাউন্ট তদন্তে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ” শীর্ষক সংবাদ নিয়ে তোলপাড়া শুরু হয়েছে। সোমবার ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর সাতক্ষীরার অবৈধ ব্যবসায়ী ও কালোটাকার মালিকদের মধ্যে রিতিমতো দৌড়ঝাপ শুরু হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারী দল আজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরার আরো কয়েকটি ব্যাংকে গিয়ে তালিকাভূক্তদের ব্যাংক একাউন্ট তদন্ত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যাংক কর্মকর্তা ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, দুই সদস্যের তদন্ত দল প্রথম দিন সাতক্ষীরার ইসলামী ব্যাংকে তদন্ত করে। আজ মঙ্গলবার তারা আরো তিনটি ব্যাংকে সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করেছে।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের ( দুই সদস্যের ) একটি তদন্ত টিম গত সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর ) সাতক্ষীরাতে পৌছে তালিকাভূক্ত ৩৯ ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব নাম্বার তদন্ত শুরু করে। যাদের ব্যাংক একাউন্ট তদন্ত হচ্ছে তাদের ব্যাংকিং লেনদেন অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক বলে সূত্র জানায়।

জানাগেছে, দুই সদস্যের তদন্ত টিমে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক গাজী মনিরুদ্দীন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দীন।

সূত্র আরো জানায়, পূর্বেই তালিকা করা ৩৯ জন ব্যবসায়ীর একাউন্টে কি ধরনের লেনদেন হয়েছে, এসব টাকা কোথা থেকে একাউন্টে জমা হয়েছে, কি পরিমান টাকা লেনদেন হয়েছে,এসব টাকার উৎস কোথায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক কথায় তন্ন তন্ন করে খুঁজা হচ্ছে লেনদেনের প্রকৃত উৎস।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, যে ৩৯ জনের ব্যাংক একাউন্ট তদন্ত শুরু হয়েছে তাদের অনেকেই রাতা রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অতি অল্প দিনেই বিলাশ বহুল গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন। তাদের পরিবারের লাইফস্টাইল হঠাৎ পরিবর্তন দেখে সাতক্ষীরার অধিকাংশ মানুষ আশ্চার্য হচ্ছেন। এরা বর্তমানে বৈধ ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বর্তমানে এদের অনেকেই টাকার পাহাড় তৈরী করেছেন। ভারতেও এদের অনেকের রয়েছে বাড়ি-গাড়ি, অঢেল সম্পদ। অথচ ৫ থেকে ১০ বছর আগেও এদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো।

সাতক্ষীরায় একাধিক জুয়েলার্স মালিক ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। এদের মূল ব্যবসা সোনা পাচার ও ভারতে হুন্ডির টাকা পাচার করা।

গত কয়েক মাস আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে হুন্ডিপাচারকারীদের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত ওই তালিকায় সাতক্ষীরার একাধিক ব্যক্তির নাম ছিল।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে সাতক্ষীরার ৩৯ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো হয়। এসব ব্যসায়ীদের ব্যাংক লেনদেন ( ব্যাংক একাউন্ট ওপেন হওয়া থেকে আজ পর্যন্ত ) অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক বলে সূত্র জানায়।

সাতক্ষীরার যেসব ব্যবসায়ীর ব্যাংক একাউন্ট তদন্ত শুরু হয়েছে তারা হলেন,

সাতক্ষীরা জেলা শহরের খান মার্কেটের অংকন জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী গৌর দত্ত, অমিত জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী জয়দেব দত্ত, তালার কুমিরার আদিত্য মজুমদার, ব্রাদার্স জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী আশুতোষ দে, আলিপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, জনপ্রিয় জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী সুমন কর্মকার ও বাবু কর্মকার, শ্যামনগরের নকীপুরের বিশ্বজিৎ মন্ডল, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোর্শেদ, শ্রী জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী দীন বন্ধু মিত্র, ঝাউডাঙ্গার এম ভি জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী মুকুন্দ ভারতী, ঝাউডাঙ্গার সাগর জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী রবিন্দ্র নাথ দে, আশাশুনির নিউ দে জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী দেব কুমার দে, কলারোয়ার সন্ধ্যা জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী হরেন্দ্র নাথ রায়, আধুনিক জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র দে, তালার দীপা জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী গনেশ চন্দ্র শীল, তালার নিউ জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী বাসুদেব দত্ত, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারীর মো: রাশেদুল ইসলাম, পদ্মশাখরার মো: লিয়াকত হোসেন, ঘোনার মো: হাবিবুর রহমান, কলারোয়ার বলিয়ানপুরের জালালউদ্দিন গাজী, কলারোয়ার চন্দ্রনপুরের গরু ব্যবসায়ী নাসির, একই উপজেলার কাকডাঙ্গার গরু ব্যবসায়ী ইয়ার আলী মেম্বর, ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য আল ফেরদৌস আলফা, বৈকারীর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলে, ভোমরার ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী, কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা শহরের রয়েল স্যানেটারীর সত্বাধিকারী মো: নজরুল ইসলাম, ভোমরার এ এস ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী আজিজুল ইসলাম, বাঁকালের ফিরোজ ইন্টারপ্রাইজ এর সত্বাধিকারী ফিরোজ হোসেন, বাঁকালের কে হাসান ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী খালিদ কামাল , ভোমরার মামা-ভাগ্নে ভান্ডারের সত্বাধিকারী আজহারুল ইসলাম, মেসার্স কাজী ইন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু, মেসার্স সুলতান ইন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী ইসরাইল গাজী, মেসার্স সাব্বির ইন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী শাহানুর ইসলাম শাহিন, মেসার্স নাজিম ইন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী গোলাম ফারুক বাবু (দেবহাটার পারুলিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ), মেসার্স রিজু এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী আবু মুসা এবং মেসার্স রোহিত ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী রাম প্রসাদ।