সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সব কিছুই করবো : আনিছুর রহমান


348 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সব কিছুই করবো : আনিছুর রহমান
অক্টোবর ১৬, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
এ.কে.এম আনিছুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই খেলা নিয়ে মেতে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। বাল্যবন্ধুদের সাথে মাঠ কাপিয়ে বেড়াতেন এগ্রাম থেকে ওগ্রামে। সেই থেকেই চিন্তা জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়ার। যা স্বপ্ন দেখেন, তা বাস্তবে রূপ দিতে কখনও পিছপা হন না তিনি। তাইতো গত কয়েক বছর তারই উদ্যোগে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ইভেন্ট চায়না-বাংলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। শুধুই কি ক্রিকেট? কাবাডি, ফুটবল, ভলিবল কিংবা অ্যাথলেটিক্সের প্রত্যেকটি ইভেন্টেই রয়েছে তার সক্রিয় পদচারণা। আর এবার ক্রীড়াঙ্গনে গতি ফেরাতে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন-২০১৬ এ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পারকুখরালী গ্রামের ব্যাংকার আজিজুর রহমানের বড় ছেলে এ.কে.এম আনিছুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর। সাতক্ষীরা মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পারকুখরালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৮০ সালে পলাশপোল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৮৮ সালে ¯œাতক শেষ করেন আনিছুর রহমান।

এরপর ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করেন তিনি। মৎস্য ঘের থেকে শুরু করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে একে একে গড়ে তুলেছেন বরসা ট্যুরিজম, বরসা রিসোর্ট, চায়না-বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, চায়না-বাংলা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও চায়না-বাংলা ফুডস। এবার তিনি চায়না-বাংলা হাসপাতাল নামে সাতক্ষীরায় নির্মাণ করছেন অত্যাধুনিক হাসপাতাল।

তাইতো ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে একের পর এক সফলতা পেয়েছেন তিনি। চায়না-বাংলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দর্শকে পরিপূর্ণ হয়েছে দর্শক শূন্য মাঠ।

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন ২০১৬-এ জেলা সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ মনোনীত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী, কুখরালী আদর্শ যুব সংঘের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এ.কে.এম আনিছুর রহমান ব্যবসায়িক সূত্র ধরেই বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, ইসু মিয়া অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা, কাবাডি, ভলিবলসহ সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত প্রায় সব ক্রীড়া ইভেন্টে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাবগুলোকেও নিয়মিত সহযোগিতা করেন।

সমালোচকদের বন্ধুভেবে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এ.কে.এম আনিছুর রহমান ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য চায়না-বাংলা টুর্নামেন্টের পরবর্তী আসরকে করতে চান আরও জাকজমকপূর্ণ। এরপরই তার লক্ষ্য আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন।

যুব সমাজের বর্তমান অবক্ষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন এ.কে.এম আনিছুর রহমান পরিবর্তনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। তিনি মনে করেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবেই যুব সমাজ ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদেরকে আবার মাঠে ফেরাতেই তার সকল উদ্যোগ।

একান্ত আলাপচারিতায় এ.কে.এম আনিছুর রহমান জানান, তার স্বপ্ন জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও একটি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পাশাপাশি উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও ক্রীড়া উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া। সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি থেকে যুব সমাজকে মাঠে ফেরানো।

২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে সাজেক্রীসকে ডিজিটালাইজড করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ওয়েব পোর্টাল নির্মাণ করে সেখানে জেলার ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদদের যাবতীয় তথ্য সংযুক্ত করা হবে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস রক্ষায় একটি জিমনেশিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রাম পর্যায়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে আনা হবে।

নিয়মিত ইভেন্টগুলো সচলে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলোয়াড় তৈরিতে নিয়মিত ইভেন্টগুলোর সচল রাখার কোন বিকল্প নেই। চেষ্টা করা হবে আর্থিকভাবে দুর্বল ক্রীড়াবিদদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করারও।

তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ও লোকজ খেলাগুলো পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলুপ্তির পথে। এগুলো টিকিয়ে রাখা দরকার।

এ.কে.এম আনিছুর রহমান মনে করেন, সরকার খেলাধূলার উপর বিশেষ নজর দিয়েছে। বাড়িয়েছে বরাদ্দও। একটু আন্তরিক হয়ে চেষ্টা করলেই যুব সমাজকে সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সাতক্ষীরাকে পরিণত করা সম্ভব করা সম্ভব মডেল জেলায়। এজন্য সকলের দোয়া প্রত্যাশী তিনি। ##