সাতক্ষীরার ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান


335 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান
মে ২৫, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সাম্প্রতিক সময়ে আম্পানের কারণে সাতক্ষীরা জেলার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে তাদের বাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারের প্রত্যেককে নগদ ১৫০০ টাকা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা সাতক্ষীরা জেলার স্থানীয় পর্যায়ে ৩টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন- সূবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থা, জয়ীতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি’র মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। আজ ২৪ মে ২০২০ ইশ^রীপুর, মত্থরেশপুর, নলতা, ধলবাড়িয়া, মৌতলা, পদ্মপুকুর ও শ্যামনগর ইউনিয়নের ২৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারকে অর্থ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
অর্থ সহায়তা পেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী জেসমিন তার অনুভুতি ব্যক্ত করে বলেন, “টিউশনি করে আমি জীবিকা নির্বাহ করতাম কিন্তু করোনার কারণে আমার টিউশনি বন্ধ। অনেক কষ্টে দিন চালাচ্ছিলাম। এরমধ্যে আম্পান ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় কষ্ট আরো বেড়ে যায়। এ সময় এই নগদ অর্থ আমার খুবই উপকারে লাগবে।” রেজাউল করিম বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমার ঘরে পানি উঠেছে, বর্তমানে আমি আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। এই নগদ সহায়তা আমার ঘর মেরামতে কাজে লাগবে।”
নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের কাজে নিয়োজিত জয়ীতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার অষ্টমী মালো বলেন, “আজকে যাদের অর্থ সহায়তা দেয়া হলো তাদের মুখে হাসি দেখে আমার কষ্ট লাঘব হয়েছে।” পদ্মপুকুর ইউনিয়ন প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি’র হাবিবুর রহমান বলেন, “আগামীকাল ঈদ। ঈদের আগমূহুর্তে প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের হাতে অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়ার কাজে যুক্ত হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।”
ডাব্লিউডিডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, “যে কোন দুর্যোগেই প্রতিবন্ধী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে একটি বড় অংশই দরিদ্র্র সীমার নিচে বসবাস করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে দেশের অনেক নাগরিকের মতো আয়মূলক কর্মে নিযুক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঝুঁকির মাত্রা অন্যদের চেয়ে বেশি। এসব ব্যক্তি যদি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন তাহলে তারা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বেন এবং মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারেন। আম্পান আরো কষ্ট যুক্ত করে প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের জীবন আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে, বর্ণনাতীত ক্ষতির মধ্যে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আমরা তাই পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ তার এলাকার প্রতিবন্ধী মানুষের পরিবারটির উপর সদয় হবেন সে আহ্বান জানাচ্ছি।”
অ্যাকসেস বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা বলেন, “অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন গত ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সমাজের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে আছে। এরই মধ্যে আম্পান ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তারা আজ দিশেহারা। অ্যাকসেস বাংলাদেশ এবং ডাব্লিউডিডিএফ এর যৌথ উদ্যোগে ২০টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার কে নগদ অর্থ সহায়তা দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আজকে যাদের নগদ অর্থ প্রদান করা হলো আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে, তাদের কেউ সরকারি সহায়তা পেয়েছে কিনা? কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় একজনও সরকারি সহায়তা পায়নি। আমি সরকারকে এবং সমাজের বিত্তবানদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।”