সাতক্ষীরার ঘোনা সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের কবলে !


679 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ঘোনা সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের কবলে !
আগস্ট ২৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

আব্দুল জলিল ::
———————-
গর”র ব্যবসা করে এখন আর লাভ হয় না । তবে এই ব্যবসা করি কেন জানেন ? ভারতে অনেক টাকা পড়ে রয়েছে । এই টাকা আদায় করার জন্য লোকসান করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে । ভারতীয়রা যে দাম ধরে গর” পাঠায় সেই দামে গর” বিক্রি করা খুবই কঠিন । আর পরে বাংলাদেশের মাটিতে গর” পা রাখার সাথে সাথে গুনতে হচ্ছে কাড়ি কাড়ি চাঁদা । এই টাকা যাচ্ছে খাটাল মালিক , কতিপয় অসাধু বিজিবি ,পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে । যার ফলে কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না । সাতক্ষীরার ঘোনা সীমাস্তে গর”র খাটালে দাঁড়িয়ে একথা গুলো বলেন ব্যবসায়ী বাবলু . ফিরোজ, মশিয়ার ও আব্দুল রহমান।

এই ভাবে সাতক্ষীরার ঘোনা সীমান্তে গর” ব্যবসায়ীরা পড়েছে চাঁদা বাজদের কবলে । চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট দফায় দফায় আদায় করছে চাঁদা। গর” ব্যবসায়ীরা বলছে রাজস্বের ৬ থেকে ৭ গুন টাকা টাকা চাঁদা দিতে হয় । আর খাটাল মালিকরা বলছে টাকার পরিমাণ বাড়েনি আগের মতই আছে । এভাবে প্রতিদিন সাতক্ষীরা সীমান্তের গর” ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয় । তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব কোন খোজ খবর রাখে না। আর এসব কারণে ভারত থেকে গর” কম আসলে সামনে কোরবানির পশু সংকট দেখা দেবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সম্প্রতি ঘোনা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে গর” আসে। সাতক্ষীরা অন্য কোন সীমান্ত এই পরিমান গর” আসে না । সেই সুবাদে এই সীমান্তে খাটাল মালিকরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা । আর ভারত থেকে গরু চোরাই পথে আসে বলে কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না । গর” ব্যবসায়ীরা জানায় নিয়ম অনুযায়ী ভারত থেকে একটা গর” বাংলাদেশে আসার পর ৫শ টাকা রাজস্ব দিয়ে বৈধ করতে হয় । আর খাটাল মালিকদের দিতে হয় ৫০ টাকা । অথচ খাটাল মালিকরা ৫শ ৫০ টাকার স্থলে আদায় করছে ৩ হাজার থেকে ৩৫শ টাকা পর্যন্ত । আর ব্যবসায়ীদের নামে গর” করিডোর না করে খাটাল মালিকরা নিজে নামে সব গর” করিডোর করে । এই টাকার ভাগ অসাধু বিজিবি, পুলিশ , জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতার পকেটে যার যার প্রাপ্য অনুসারে পৌছে যায় ।
গর” ব্যবসায়ীরা তজিবব, শহিদুল , লতিফ জানায় , শুধু ঘোনায় নয় কালিয়ানি, শাখড়া , কোমর পুর , বৈকারি, তলুই গাছা , কাকডাঙ্গা, মাদরা হিজদি, চান্দুড়িয়া সীমান্তে গর” কম আসলেও খাটালের টাকা নেয় ঘোনা খাটালের চেয়ে দুই একশ টাকা কম বেশি মাত্র ।

ব্যবসায়ীরা আরও জানায়, ভারতীয় যে গর” পাঠায় তার দাম ধরে খুব চড়া । সে দামে গর” বিক্রি করা সম্ভব হয়না । তারপর আবার খাটাল মালিকদের নিয়ম বহিভূত ভাবে চাদা আদায় । প্রতিদিন লোকসান করে ব্যবসা করতে হচ্ছে । আর ব্যবসা না করলে তাদের সে দেশে পড়ে থাকা লাখ লাখ টাকা আর আদায় হবে না । ব্যবসায়ীরা আরও জানায় খাটাল মলিকরা যদি চাদার পরিমাণ কমাতো তবে সামনে কোরবানি উপলক্ষে প্রচুর গর” আসতো সে দেশ থেকে । আর দেশীয় বাজারে গর” বেশি আসলে কোরবানির পশুর দাম কমতো । ভারত থেকে আসা সবা গর” করিডোর করে না । কারডোর না করে পুরানো কাগজ দিয়ে নিয়ে যায় ।

আর খাটাল মালিকরা কাষ্টমস করিডোরে নিজেদের লোক পাঠায়ে শুল্ক রশিদ কেটে নিয়ে আসে। গর”র পিঠে সিল দেওয়া এবং নাম্বার দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব চলে গেছে খাটাল মালিকদের হাতে। গর” রাখার দায়িত্ব পেয়ে খাটল মালিকরা সর্বেসর্স্বা হয়ে উঠেছে। টুপাইস পাওয়ার কারণে অসাধূ পুলিশ, বিজিবি, চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে খাটাল মালিকরা গুর”ত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আর চাঁদা আদায়ের মুল দাযিত্বে থাকা আনিস জানান, চেয়ারম্যান, তার ভাই হাবু আর তিনি এই খাটাল পরিচালনা করে থানেক । তবে মুল দায়িতে রয়েছে¡ চেয়ারম্যান । সমস্ত জায়গায় তাদের টাকা দিতে হয় । তার সহযোগি হিসেবে কাজ করেন জাকির । গর” ব্যকসায়িদের নিকট থেকে খাটাল বাবদ ২৫শ টাকা উত্তোলন করার কথা স্বীকার করেন তিনি । অতিরিক্তি টাকা নেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন সে নিজেও একজন গর” ব্যবসায়ি । অন্য কোন খাটালে গর” আসলে তার এর চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে গর” আনতে হয় । বরং তারা অন্যদের তুলনায় কম টাকা নেয় ।

ঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবুবক্কব সিদ্দিকী জানান, তার দলের কোন নেতা কর্মীরা এই খাটালের সাথে জড়িত নেই । খাটাল চালায় মোশা ও তার ভাই হাবু । সাথে আছে নাশকতা মামলার নাশকতা মামলা আসামি সবুজ, মনিরর”, লিটন, রাবউল । তারা এর প্রতিবাদ করে হামলা মামলার স্বীকার হয়েছেন । এসব করে মোশা অনেক টাকার মালিক । তার সাথে পারা যায় না । এজন্য খাটালে গর” ব্যবসায়ীরা পড়েছে চাদাবাজদের কবলে ।
ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা জানান, খাটালে গর” প্রতি ২৫শ টাকার নেওয়া হয় । তার মধ্যে ৫শ টাকা ভ্যাট খরচ । বাকি টাকা তার আনুসঙ্গিগ খরচ হয়। তবে জামায়াত বিএনপি, নাশকতা মামলার আসামি তার সাথে নেই বলে জানান ।

সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবির ঘোনা ক্যাম্পের সুবেদার আমির”ল ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, বিজিবি শুধু মাত্র সিলিপ লিখে দেন । গর” প্রতি কত টাকা আদায় করা হয় এটা বিজিবির জানার বিষয় না । এসব দুর্নীতির সাথে বিজিবি জড়িত নয় ।

সাতক্ষৗীরা সদর থানার ওসি মার”ফ আহম্মেদ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, পুলিশ খাটালের অনুমতি দেয় না । যারা অনুমতি দেয় তাদের জিঙ্গাসা করেন কি ভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে । যারা অনুমতি দেয় তারা যদি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আমরা সাথে থাকবো ।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো: মহিউদ্দীন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, তারা শুধু মাত্র খাটাল পাহারা দেওয়ার অনুমতি দেয় । অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি কে দেখবে ? যাদের দেখার দায়িত্ব তারা এর সাথে জড়িত কি না খোঁজ খবর নেন । তবে জেলা প্রশাসনের কোন লোক এর সাথে জড়িত নন বলে জানান ।