সাতক্ষীরায় চিংড়ীর দাম হ্রাস : উদ্বিগ্ন চাষীরা


855 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় চিংড়ীর দাম হ্রাস : উদ্বিগ্ন চাষীরা
জুন ৪, ২০১৮ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email
  1. বিশ্ব বাজারে চিংড়ীর দর পতন
  2. দেশের বাজারে মুল্য হ্রাস

 

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
দেশের বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ী শিল্প বর্তমান সময়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে। চিংড়ী উৎপাদনকারী, চিংড়ীচাষী, ঘের ব্যবসায়ীরা সহ এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা চিংড়ীর দুরবস্থার কারনে উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ এবং আর্থিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন। চিংড়ীর সর্বনাশার কারন উৎপাদিত এবং বাজারজাত করন চিংড়ীর কাঙ্খিত মুল্য না পাওয়া। চিংড়ী চাষী এবং চিংড়ী ব্যবসার সাথে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানাগেছে গত কয়েক দশক যাবৎ বিদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ীর চাহিদা এবং মুল্য ছিল যথার্থ। যে কারনে দেশীয় বাজারের চিংড়ী চাষীরা চিংড়ীর কাঙ্খিত মূল্য পেয়ে আসছিল। বিগত বছরগুলোতে যে চিংড়ীর মূল্য ছিল কেজি প্রতি আটশত হতে এক হাজার বর্তমান সময়ে তার মুল্য চার হতে পাঁচশত টাকা। অনুরূপ ভাবে গত বছরগুলোতে যে চিংড়ীর মূল্য ছিল কেজি প্রতি ছয় হতে সাতশত টাকা বর্তমান সময়ে তার মূল্য তিন হতে চারশত টাকা। চিংড়ীর বাজার দর পতন এবং চাহিদা হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে জানা গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ীর চাহিদা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মুল্য কমে যাওয়া। মৌসুমের শুরুতে চিংড়ী ঘেরগুলোতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে চাষিরা উৎপাদিত চিংড়ীর কাঙ্খিত মুল্য না পাওয়া দৃশ্যতঃ হতাশাগ্রস্থ এবং বিপদগ্রস্থ। লোকসানের মুখে শত সহস্র ঘের ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরা চিংড়ী উৎপাদনে শীর্ষ স্থানে থাকায় সাতক্ষীরার চিংড়ী চাষীরা বর্তমান সময়ে চিংড়ীর বাজার দর নিম্ন পর্যায়ে পড়ে যাওয়ায় সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্থ। সাতক্ষীরার অর্থনীতি দৃশ্যতঃ চিংড়ী নির্ভর, এ কারনে চিংড়ীর বাজার দর ওঠা নামা এবং চিংড়ী উৎপাদনের সাথে সাতক্ষীরার জন সাধারনের বিশেষ এবং কাঙ্খিত সম্পর্ক বিদ্যমান। চিংড়ী ব্যবসা বিশেষ লাভজনক মনে করে এ পেশায় জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ বিনিয়োগ করেছে। দিনে দিনে জমির হারী, শ্রমিক মূল্য, খাদ্য, সহ অন্যান্য পরিচর্যা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন। জেলার কোথাও কোথাও বিঘা প্রতি জমির হারী বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌছেছে। অথচ চিংড়ীর মুল্য অতীতের সব ধরনের বাজার দরকে এক হাত দেখিয়ে সর্ব নিম্ন পর্যায়ে গড়িয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাট কেন্দ্রীক কোম্পানীগুলো যারা বিশ্ব বাজারে চিংড়ী রপ্তানী করে তারা সর্বনিম্ন রেট বেধে দেওয়ায় জেলার মৎস্য আড়ৎ ও ডিপোগুলোতে ক্রেতারা কাঙ্খিত মূল্যে চিংড়ী ক্রয় করছে না। জেলার এজেন্সী ব্যবসায়ী এবং ডিপো ব্যবসায়ীদের অনেকে অলস সময় অতিক্রম করছে। চিংড়ীর অস্বাভাবিক মুল্য হ্রাসের কারনে কেবল ঘের ব্যবসায়ী বা চিংড়ী চাষিরা সর্বশান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত তা নয় এ পেশার সাথে জড়িত রেনু ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, ডিপো, এজেন্ট, ব্যবসায়ী, চিংড়ী কাজে নিয়োজিত শ্রমিক শ্রেণী সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ। সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্থ দেশের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মূদ্রা উপার্জনের আলোকিত পথ হচ্ছে সংকুচিত। তবে খুশির খবর বাগদা চিংড়ী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট চাহিদা কমলেও দেশের বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ী। এদেশের জন সাধারন চিংড়ী ক্রয় করছে এবং বিদেশীদের অভাব পূরন করছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন মোকাম হতে ট্রাক ভর্তি চিংড়ী বিদেশে রপ্তানীর লক্ষে যেভাবে চট্টগ্রাম ও খুলনায় যেতো বর্তমান সময়ে অনুরূপ ট্রাক ট্রাক চিংড়ী রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা সহ অপরাপর জেলার বাজারে যাচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে।