সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বাজারে দেশি মদের দোকানে জমজমাট ব্যবসা


2307 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বাজারে দেশি মদের দোকানে জমজমাট ব্যবসা
মে ২৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুল জলিল :
সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বাজারে সরকার অনুমোদিত দেশি মদের দোকান জমজমাট হয়ে উঠেছে । নিয়ম কানুনের প্রতি বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে মদ ব্যবসায়ি  রাজেস শ্যাম ঘোষ ও  রনজিত মন্ডল মিলেমিশে বাজারের চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা । সরকার অনুমোদিত এই মদের দোকানে নেই কোন আইন কানুন । প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত  চলে মাদকের আড্ডা । এলাকার ভিআইপি মাদক সেবিদের জন্য ভারতীয় মদের ব্যবস্থা এই দোকানে । এলাকার উঠতি বয়সি যুবক সমাজ , স্কুল কলেজের ছাত্র, শিক্ষক ,প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা নিয়মিত যাতায়াত করে এই মদের দোকানে ।
খোজখবর নিয়ে জানাযায় ,বৃট্রিশ আমল থেকে সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বাজারে বৈধ মদের দোকান । সে সময় এই এলাকা  হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিল বিরাট আধিপাত্য  । আজ আর সেই আবস্থা না থাকলে মদের দোকানের রমরমা কোন অংশে কমেনি । হাতে গুনা কিছু লোকের মদ খাওয়ার অনুমতি থাকলেও প্রতিদিন শতশত লোক এই মদের দোকানে যাতায়াত করে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে এই মদের দোকান । মাদক অফিস ,অসাধু পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সাথে দফারফা সম্পর্ক থাকার কারণে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না । মালিক কর্মচারিসহ মোট ছয়জন লোক সব সময় দোকানে ও পাশে বসে থেকেই মদ বিক্রে করে থাকে। মাদক সেবিরা হর হামেশা মদ কিনে খাচ্ছে । নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন মাদক সেবি জানায় মদের সাথে পানি মিশিয়ে বিক্রি করে । খুলনা থেকে নিয়ে আসা মদ আর এই দেশি মদের দোকানের  মদ এর মান এক হয় না। অতিরিক্ত মদ পান করে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ও ঘটে অহরহ । এই মদের নেশায় আসক্তি হয়ে পড়েছে স্কুল কলেজের ছাত্র ,শিক্ষক ও উঠতি বয়সি যুব সমাজ । সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল সরকার সুস্থ মুসলমানদের মদ খাওয়ার অনুমতি না দিলেও এই মদের দোকানে তিন ভাগের দুই ভাগ মাদকসেবি মসুলমান । হাত বাড়ালেই এই দোকানের আশপাশে পাওয়া য়ায় ভারতীয় মদ ও গাজা ।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী  নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, স্থানীয় দুইপাঁচজন প্রভাব শালী ও একদুই জন জনপ্রতিনিদি যেন মদের আসক্তি হয়ে থাকেন । যার ফলে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারেন না । তবে এব্যাপারে জানার জন্য ঝাউডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আজমল উদ্দীনকে মুঠোফোনে রিং দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।
মাদবিক্রিতা রাজেশ শ্যাম ঘোষ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান,যে পরিমান মদ সেল হবে তারা সেই পরিমান মদ খুলনা থেকে নিয়ে আসে । প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত মদসেল হয়ে থাকে । সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তার দোকান খোলা রাখা হয় ।  ঝাউডাঙ্গা এলাকায় তার দোকানে মোট ২শ ৩০ জন মাদক সেবি রয়েছে । তারা নিয়মিত তার দোকান থেকে মদ সেবন করে থাকে । তিনি বলেন মুসলমানদের মদ পান করার অনুমতি না থাকলেও মুসলমান তার দোনের মদ পান করে । ভারতীয় মদ বিক্রি করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তার দোকানের অদলে বাজার এলাকায় চোরাই পথে আসা ভারতীয় মদ বিক্রি করে একশ্রেণীর  মাদক ব্যবসায়িরা। তিনি আরৗ বলেন আমরা সব প্রশাসনকে ম্যেিনজ করে মদ বিক্রি করে থাকি । স্থানীয় সাংবাদিক শুরু করে সবাই জানে। তবে তিনি মদ কত টাকা দরে লিটার বিক্রি করে তা বলতে রাজি হননি ।
সাতক্ষীরা সদর থানার এস আই হিমের হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, দুই দিন আগে তিনি  এই ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন । বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজন গাজা ব্যবসায়িকে আটক করা হয়েছে । কাড ধারিরা শুধু মাত্র মদ কিনে খেতে পারবে । তবে তিনি বলেন মসুলমানদের মদ খাওয়ার অনুমতি না থাকলে ও মসুলমানরা সেখান থেকে মদ কিনে খায় । তিনি অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী ও দেশী মদের দোকানে অনিয়মের বিরুদ্ধে কোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন ।
সাতক্ষীরা জেলা মাদকদ্রব নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক জিএম নাসিরুজ্জামান জানান, মদের দোকানের সাথে সরকারেরর্ জস্ব জড়িত । এই এলাকায় দুইশ বেশি মাদক সেবি আছে । রাজেশ শ্যাম ও রণজিত ১৪০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে মদ কিনে নিয়ে যায় । তবে তারা কি দরে বিকি মদ বিক্রি করেন এটা তার জানা নেই।  তিনি বলেন সুস্থ মসুলমানরা মদ খাওয়ার অনুমতি পায় না । যাদের কাড আছে  তারাক্ষেতে পারবে । অনেক সময় লোকজন পলিথিনে করে বিভিন্ন জাযগায় মদ নিয়ে পান করে । তবে মদে পানি মিশানো অন্যায় ।