সাতক্ষীরার ডাইয়ের বিলের ছয় হাজার বিঘা দুই ফসলী জমিতে বাঁধ দিয়ে খাল দখল করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


472 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ডাইয়ের বিলের ছয় হাজার বিঘা দুই ফসলী জমিতে বাঁধ দিয়ে খাল দখল করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জুলাই ১১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরা জেলা শহরের অদূরে মাছখোলার  ডাইয়ের বিলের ছয় হাজার বিঘা দুই ফসলী জমিতে বাঁধ দিয়ে খাল দখল করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে শনিবার দুপুরে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক উদ্যোগ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব পাঠ করেন জেলা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ।
লিখিত বক্তব্যে জেলা নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতক্ষীরার মাছখোলার দো ফসলী ডাইয়ের বিলের পরিবেশ  ধ্বংস করে জেলা সদরের পৌর এলাকায় নোনা পানির চিংড়ি ঘের করতে উঠে পড়ে লেগেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী লোক। তারা এক মাসের ব্যবধানে ছয় হাজার বিঘার এই বিল ছোট বড় বেড়ি বাঁধ দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। দখল করে নিয়েছে সাড়ে চার কিমি দীর্ঘ সরকারি খাস খালটিও। বিলের চারধারের পাঁচটি ইউনিয়নের ৩০ টি গ্রামের মানুষ এখন আতংকিত জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার আশংকায় । মওসুমী বৃষ্টিতে এরই মধ্যে বেশ কিছু  আবাসিক এলাকায় পানি জমেছে। এছাড়া গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে  শহরের নি¤œাঞ্চল সহ কয়েকটি বিল ও গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বর্ষা মওসুমে জলমগ্নতার সংকট কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা নিয়ে এখনই ভাবনায় পড়েছেন  শহর ও ইউনিয়নবাসী শত শত  পরিবার । এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গ্রামবাসীর পক্ষ থকে জেলা প্রশাসক বরাবর  সম্প্রতি একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এতে তারা বলেছেন ‘অচিরেই এই বেড়ি বাঁধ অপসারন না করা হলে সাতক্ষীরা পৌরসভা, ধুলিহর , লাবসা, বল্লী ও ব্রম্মরাজপুর ইউনিয়নের  তিন  লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়বেন’।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে কৃষি জমিতে নোনা পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ নয়। এমনকি চিংড়ি চাষ করতে  হলে ৮০ শতাংশ জমির মালিকের সম্মতি , পরিবেশ  অধিদফতরের অনুমতি, কৃষি বিভাগ, জেলা মৎস্য বিভাগ,প্রাণি সম্পদ বিভাগের রিপোর্টসহ কয়েকটি জরুরি রিপোর্ট প্রয়োজন। অথচ সে ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার , জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারেরও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে আমরা জেনেছি। গদাই বিল মাছখোলার ডাইয়ের বিলে অপরিকল্পিত বাঁধ প্রদানের ফলে লাবসা, বিজিবির ব্যাটেলিয়ন সদর দফতর ,জেলা কারাগার ,মাঠপাড়া,কাটিয়া,শিবতলা সহ ৩০ গ্রামের পানি সরানোর পথ এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব ব্যাপারে প্রশাসনের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারির যোগসাজস রয়েছে বলে জানা গেছে।
এব্যপারে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী আমাদের জানান, জলাভূমিকে জলাশয় দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার অপতৎপরতা চলছে। এতে সাতক্ষীরা জেলা জলাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে এমন আশংকা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে  সাত দফা দাবি জানান হয়েছে। দাবি গুলো হলো-

ডাইয়ের বিলে অপরিকল্পিত বেড়ি বাঁধ যারা দিয়েছেন  অবিলম্বে  তা তাদের নিজ খরচে সরিয়ে নিতে হবে । জমির পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে দিয়ে ধান চাষের উপযোগী করতে যা যা করনীয় তা তাদেরকেই করতে হবে।
দখলকৃত সরকারি খাস খাল ফেরত দিয়ে সর্বসাধারনের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
ডাইয়ের বিলের  চারধারের লোকালয়ে জলাবদ্ধতা দুরীকরনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
‘ জলাভূমিকে জলাশয়’ দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়া বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক,ইউএনও, সহকারি কমিষনার (ভূমি) , তহসিলদারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
‘কৃষি জমি নষ্ট করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ নয়’ জনস্বার্থে সরকারের এই নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রশাসনের প্রতিশ্রিুতি চাই। চিংড়ি চাষে সরকারি নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
সাতক্ষীরা-মাছখোলা সড়কের দু’ধারে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে সরকার্রী সম্পত্তি জবর দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করা।
উপর্যুক্ত দাবিসমূহ বাস্তায়ন করা হলে সাতক্ষীরায় সামাজিক  প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা নাগরিক উদ্যোগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাইমুর হক কিসলু, অধ্যাপক আবু আহমেদ, মাধব দত্ত, অ্যাড: শাহানাজ পারভিন মিলি, ওবায়দুস সুলতান বাবলু , অপরেশ পাল প্রমুখ।