সাতক্ষীরার তালায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বরাদ্দকৃত সোয়া কোটি টাকার সিংহভাগ লোপাট !


531 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার তালায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বরাদ্দকৃত সোয়া কোটি টাকার সিংহভাগ লোপাট !
সেপ্টেম্বর ২, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

মোঃ কামরুজ্জামান মোড়ল :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বরাদ্দের সোয়া ১ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহ ভাগ শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের পেটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, বর্তমান সরকার শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার ক্রমাগত সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে তালা উপজেলার ২০৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সোয়া ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ১ লাখ করে ১৩ টি প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখ, ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ৭৪ টি বিদ্যালয়ে প্রতিটি ৩০ হাজার করে ২২ লাখ ৪০ হাজার, বিদ্যালয়ের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য টয়লেট মেরামতের প্রতিটি ২০ হাজার করে ৬২ টি বিদ্যালয়ে ১২ লাখ ৪০ হাজার এবং স্বল্প খরচে শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের জন্য স্কুল লেভেল ইনফ্লুয়েভমেন্ট প্লান (স্লিপ) খাতে ২ কিস্তিতে ৩০ হাজার করে মোট ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।
এছাড়া সকল বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে শিখন উপকরণ ক্রয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে  ৫ হাজার করে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

সরেজমিন ঘুরে উপজেলার আমড়াডাঙ্গা নব সরকারী, আলীপুর উত্তর মিঠাবাড়ি, দক্ষিণ জালালপুর, সাতপাকিয়া, মাহমুদপুর, বড়বিলা, কাশিপুর, মোকসেদপুর, ধানদিয়া কৃষ্ণনগর, কাশিয়াডাঙ্গা, রাঢ়ীপাড়া, ইসলামকাটি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে যেসব বরাদ্দ এসেছে তা দিয়ে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। দৃশ্যমান কোন কাজ করা হয়নি। অধিকাংশ টাকাই হয়েছে লোপার্ট।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অনেক বিদ্যালয়ের ওয়াল ও ছাদের নিচের অংশে চুনের সাথে অত্যন্ত নি¤œমানের রং মিশিয়ে লেপন দেয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা হলে সকলেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের পার্সেন্টেন্সের কথা অকপটে স্বীকার করেন।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে এক প্রধান শিক্ষান অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার ১০%, প্রকৌশলীর জন্য ৫% এবং সমিতির নেতৃবৃন্দের বিদ্যালয় প্রতি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। এদিকে, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে ভ্যাট আইটি তো আছেই। এসব খরচ বাদ দিয়ে যে টাকা বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে তা দিয়ে শতভাগ কাজ করা একেবারেই অসম্ভব। এরপর আবার পরিচালনা কমিটিকে জবাবদিহি করতে অনেক সময় নাজেহাল হতে হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত (তালাতে) ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার ১০ ভাগ শিক্ষা কর্মকর্তার পকেটে এমন অভিযোগ জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণব কুমার মল্লিক অস্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়, এটা গুজব।

তালা উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাঈদ মোঃ জসিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মহান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ শফিউল্লাহ’র কাছে বিদ্যালয়ের প্রতি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, অন্যান্য সেক্টরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়, তা তো পত্রিকায় লেখা হয় না?