সাতক্ষীরার তিনটি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায়


732 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার তিনটি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায়
আগস্ট ২৭, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
ক্লিনিক আছে, ডাক্তার নেই। রোগী আছে, কিন্তু সেবিকা নেই। রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় চড়া মূল্য, কিন্তু তালিকা টাঙানো নেই। রোগ মুক্তির ক্লিনিক অথচ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এসব অভিযোগ জেলা শহরের অধিকাংশ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার শহরের কয়েকটি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানে নামে। তিনটি ক্লিনিকে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল ১১ টায় আদালতের অভিযানে শহরের প্রভাবশালী তিনটি ক্লিনিকে ডাক্তার-নার্স না থাকা, সেবামূল্য না থাকাসহ  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন কারণে ১৯ হাজার টাকা জমিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ক্লিনিকের মালিক গা ঢাকা দেয়। ভ্রাম্যমান আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মোছা. আফছানা কাওছার।

সূত্র জানায়, সাতক্সীরা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন রোগীদের নিকট থেকে গলাকাটা ফি আদায় করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষার নাম করে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. শেখ ফয়সাল আহমেদ ও মাংস ব্যবসায়ী জনির মালিকানাধীন (সদর হাসপাতালে সামনে) খুলনা রাসাতার মোড়স্থ বহুল আলোচিত ‘হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার হসপিটাল’এ বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানে নামে । এ সময় ওই ক্লিনিক থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে আদালত ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

বাবলুর মালিকাধীন নাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অভিযোগে ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এ সময় আদালত সেন্টারের পরিবেশ উন্নত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

পরে একই আদালত হাফিজুর রহমান ও ফজলুর রহমানের ‘স্বদেশ ক্লিনিকে’ অভিযানে নামে। এসময় ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জমিমানা করা হয়।

সূত্র জানায়, ক্লিনিকে আদালতের অভিযান পরিচালনার সংবাদে কয়েকটি ক্লিনিকের মালিক গা ঢাকা দেয়।
হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার হসপিটালের অন্যতম মালিক মাংস ব্যবসায়ী জনি জানান, ক্লিনিকে অভিযানের খবর জানি না। আমরা ৫/৬ জন মালিক আছি। তবে ডা. ফয়সাল আহমেদ মালিক নন, মালিক তার পিতা।

বেঞ্চ সহকারী জগদীশ বিশ্বাস জানান, ক্লিনিকগুলোর অবস্থা খুবই করুন। কোন ক্লিনিকে নিয়মিত ডাক্তার-নার্স ছিলো না। নেই কোন মূল্য তালিকা টাঙানো। ফলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে থাকা সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, বিভিন্ন অভিযোগে শহরের ৩টি ক্লিনিককে ভ্রাম্যমান আদালত ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।