সাতক্ষীরার দুইটি উপজেলার আইলা দুর্গত এলাকার ৪০ গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট


642 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার দুইটি উপজেলার আইলা দুর্গত এলাকার  ৪০ গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট
জুন ২৯, ২০১৫ আশাশুনি খুলনা বিভাগ জাতীয় ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

 

 

সাতক্ষীরার দুইটি উপজেলার আইলা দুর্গত এলাকার
৪০ গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট

কৃষ্ণ ব্যানার্জী :
আইলার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে আইলা দুর্গত সাতক্ষীরার  দুটি উপকুলীয় উপজেলার  গ্রামগুলোতে। এসব গ্রামগুলো হচ্ছে আইলা‘য় ক্ষতিগ্রস্থ শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি, পাখিমারা, ঝাপা, খুটিকাটা, পদ্মপুকুর, গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, লেবুনিয়া, খলিসাবুনিয়া, সোরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের, দাতনেখালী, পোড়াকাটলা, গুমানতলী এবং আটুলিয়া ইউনিয়নের তালবেড়িয়া, পার্শেমারী, ছোটকুপুট ও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের  চাকলা , নাকনা, কোলা, আনুলিয়া ইুইনয়নের ঘাষ্টিয়া, বাগালি ও খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর , কাঠামারী, নয়রাবাদ, ঘুঘুমারী, তুয়ারডাঙ্গা ,কাপসন্ডা , খালিয়া, পিরোজপুর , রাউতাড়া, শ্রীউলা ইউনিয়নের পুইজালা, ঢালির চক,বিল বকচর, বলাবাড়িয়া,হাঁসখালি,কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া, গ্রাম সহ ৪০ গ্রাম।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান,জীবন ধারন করতে এসব গ্রামের নারীরা পায়ে হেটে ৩ থেকে ৪ মাইল দুর থেকে পুকুর বা বিভিন্ন হাওর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। তাছাড়া অনিরাপদ পানি পান করার ফলে বাড়ছে পেটের পিড়াসহ নানা ধরনের রোগব্যাধী। আইলা‘র পর ছয় বছর পার হয়ে গেলেও এসব এলাকার বহু ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য আজো স্বাস্থ্য সম্মত খাওয়ার পানি ব্যবস্থা করা হয়নি।
আইলা‘য় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি গ্রামের গৃহবধু রতœা রানী (৩০) ও রহিমা খাতুন (৩২) জানান, এলাকায় কোথাও কোনো স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পানি নেই। নদী বা খাল বিলের পানি ছাড়া আর কোনো পানি পাওয়া যায় না। কিন্ত নদীর পানিতে লবানক্তা এতোই বেশি যা মুখে দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যদের জীবন ধারনের লক্ষে প্রতিদিন কলস নিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাইল রাস্তা পায়ে হেটে বিভিন্ন মিঠা পানি সংগ্রহ করতে হয় তাদের।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম জানান,  গত আইলা‘য় ১৫ টি গ্রামই শত ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়নের ৮টি গ্রামে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গভীর টিউবঅয়েল স্থাপন করে। কিন্ত তাতে পুরো ইউনিয়নের লোকজনের পানির চাহিদা মেটে না। ফলে যেসব গ্রামে টিউবঅয়েল নেই সেসব গ্রামের লোকজন ৩-৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পানি সংগ্রহ করে। ফলে তাদের খাওয়ার পানি তীব্র কষ্ট যাচ্ছে।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর  ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের মোস্তাফিজুল রহমান (৩০),আশিকুর রহমান (৩২), সাবিনা খাতুন (২৬)  জানায়, আইলা‘র আঘাতের পর থেকে
বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট চলছে তাদের গ্রামটিতে। ফলে লবনাক্ততা পানি খেয়ে পেটের পিড়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষজন।

এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নুর আহমেদ জানান, সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপকুলীয় এলাকায় নিরপাদ খাবার পানি নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারী ভাবে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর  ও আশাশুনি উপজেলার আইলা‘য় ক্ষতিগ্রস্থ পদ্মপুকুর, গাবুরা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে। তবে কয়েকটি গ্রামে গভীরে পাইপ বসিয়ে টিউবঅয়েল স্থাপন করা হয়েছে।