সাতক্ষীরার দুর্নীতিবাজ এমপিদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর হাতে


5376 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার দুর্নীতিবাজ এমপিদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর হাতে
নভেম্বর ২১, ২০১৮ আশাশুনি কলারোয়া কালিগঞ্জ জাতীয় তালা দেবহাটা ফটো গ্যালারি শ্যামনগর সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

* তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবি এদের আর মনোনয়ন নয়

 

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

বিগত দশম জাতীয় সংসদ (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী) নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আমলনামা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বার বার। কার জনপ্রিয়তা কেমন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বিগত পাঁচ বছর কি পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, এমপি হওয়ার আগে তাদের কি পরিমান সম্পদ ছিলো, গত পাঁচ বছরে কি কি ধরনের দুর্নীতির সাথে তারা জড়িত , সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইটগার্ড নিয়োগ এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগে কি পরিমান ঘুষ-দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলো, কাবিখা ও কাবিটা এবং সোলার প্যানেল বাণিজ্যে তারা কি পরিমান টাকা আত্মসাত করেছে, এলাকার উন্নয়নে তাদের কি ধরনের ভূমিকা ছিলো, বর্তমানে তাদের জনপ্রিয়তা কেমন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সারা দেশে আওয়ামী জোটের এমপিরা বিগত পাঁচ বছরে এলাকায় কি ধরনের রোল প্লে কেরেছে তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবারের মনোনয়নের দেওয়ার ক্ষেত্রে।  সাতক্ষীরার চারজন এমপি’র মধ্যে তিন জনের আমালনামা খুবই খারাপ। তারা এলাকায় চরমভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। এদেরকে আবারও চৌদ্দদলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। তাদের জনপ্রিয়তায় রিতিমতো ধস নেমেছে।

সাতক্ষীরায় ইতোমধ্যে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ এমপিরা শিক্ষা খাতে যে নিয়োগ বাণিজ্য করেছে তা আকাশ ছোঁয়া, নজীর বিহীন। লাখ লাখ টাকা ছাড়া পিয়ন পর্যন্ত কেউ চাকরি পায়নি। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়া , বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং বরাদ্দের নামে কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এদের কারো কারো বিরুদ্ধে। চিহ্নিত এসব দুর্নীতিবাজরা আবারও চৌদ্দদলীয় মনোনয়ন পেতে লাখ লাখ টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু এবার চৌদ্দদলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়া তাদের জন্য কঠিন। আর মনোনয়ন দেওয়া হলেও তারা জামানাত বাঁচিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে ফিরে আসতে পারবেন না বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমুল থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করেন এসব আসনে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ওই সব এমপিদের আবারও মনোনয়ন দিলে তাদের জামানাত বাজেয়াপ্ত হবে।

সূত্র জানায়, এবারের চৌদ্দদলীয় জোটের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক হিসাব-নিকেশ করা হচ্ছে। শুধু নিজের দলের নয়, আওয়ামী লীগের শরিকদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাধিক জরিপ রিপোর্ট খতিয়ে খতিয়ে দেখছেন। চুলচেরা বিশ্লেষন করছেন। যেসব এমপিদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনা নেই, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তিনি যে দলের এমপি হোক না কেনো তাকে চৌদ্দদলীয় জোটের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না বলে জানাগেছে।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা চারটি আসনের মধ্যে মাত্র ১টি আসন আওয়ামী লীগের ঘরে থাকতে পারে। বাকী তিনটি আসন শরিকদের ঘরে চলে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি। তবে সাতক্ষীরার দুর্নীতিবাজ এমপিরা ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তাদের আমলনামা তাদেরকে চিহ্নিত করে দিয়েছে।  চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না। সাতক্ষীরার দুর্নীতিবাজ এমপিদের আমলনামা এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

সাতক্ষীরার আওয়ামী লীগ জোটের একাধিক নেতা ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানায়, কোন এমপি কি পরিমান দুর্নীতির সাথে জড়িত তা সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে স্পষ্ট। কেই মুখে বলুক আর নাই বলুক দুর্নীতিবাজ এমপিরা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে চিহ্নিত। যারা ৫ বছর আগেও এই শহরে রিক্য্রা-ভ্যানে চলাচল করতো, এমপি হওয়ার পর তারা এখন কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি চড়েন। শুধু তাই নয়, বিলাশ বহুল গাড়ির সংখ্যাও তাদের একাধিক। জনগনের জিজ্ঞাসা, কোথায় পেলেন এই টাকা ? কে দিলো এসব টাকা ? সাধারণ মানুষ জানতে চায়……..।

এসব এমপিরা অবৈধ পন্থায় উপার্জিত লাখ লাখ টাকা খরচ করে আবারও এমপি হতে চান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি ভুল করেন তাহলে আসন হারানোর সম্ভাবনাই বেশি।

আওয়ামী লীগের ত্যাগি নেতরা মনে করেন, স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন এবং জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে উন্নয়নের শিখরে পৌছে দিতে হলে এসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ এমপিদের শুধু মনোনয়ন থেকে নয়, দল থেকেও বিতাড়িত করতে হবে। দলের ইমেজ ধবংসকারী সুবিধাবাদিদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ উম্নোচন করার সময় এসেছে। দুর্নীতিবাজ এসব এমপিদের আর সুযোগ না দিয়ে এলাকার উন্নয়নে সত্যিকার অর্থে যারা ভুমিকা রাখবে তাদেরকেই মহাজোটের মনোনয়ন দিয়ে দলের সুনাম ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

বি:দ্র: এই নিউজটি কপি করলে অবশ্যই (সূত্র :ভয়েস অব সাতক্ষীরা) দিতে হবে।