সাতক্ষীরার দেবহাটায় সীমান্ত নদী ইছামতির কোলঘেষে গড়ে উঠেছে রুপসী ম্যানগ্রোভ


628 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার দেবহাটায় সীমান্ত নদী ইছামতির কোলঘেষে গড়ে উঠেছে রুপসী ম্যানগ্রোভ
জুলাই ১৩, ২০১৫ দেবহাটা
Print Friendly, PDF & Email

 

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা : সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ইছামতি নদীর তীর ঘেষে শীবনগর গ্রামে গড়ে উঠেছে রুপসী ম্যানগ্রোভ। চিত্ত বিনোদনের লক্ষ্যে এই “রুপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটন” কেন্দ্রে প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় লেগে আছে। জেলা শহর এমনকি জেলার বাইরে থেকেও মানুষেরা একটু বিনোদনের জন্য ছুটে আসছেন নয়নাভিরাম শান্তিপ্রিয় এই বিনোদন কেন্দ্রে। কিন্তু পর্যটন কেন্দ্রটির অবকাঠামগত উন্নয়ন না হওয়ায় পর্যটকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
জানাগেছে, ২০০৯ সালের ৩ মার্চ দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এড. গোলাম মোস্তফার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সহযোগীতায় উপজেলার শীবনগরে গড়ে তোলা হয় “রুপসী দেবহাটা ম্যানেগ্রোভ পর্যটন” কেন্দ্র নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র। সম্পূর্ন সুন্দরবনের আদলে এবং তার উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের সাথে সঙ্গতি রেখে উক্ত বিনোদন কেন্দ্রের কার্য্যক্রম শুরু করা হয়। এর কিছুদিন পরে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক এই বিনোদন কেন্দ্রে আসেন এবং বৃক্ষ রোপন করেন। সীমান্ত নদী ইছামতির কোলে সম্পূর্ন প্রাকৃতিক এক নান্দনিক পরিবেশে গড়ে ওঠা এই পর্যটন কেন্দ্রে ইতিমধ্যে রোপন করা হয়েছে কেওড়া, ওড়া, সুন্দরী, গোলপাতা, হিতালী, গরান, নারিকলে, শাহি বাবলা সহ নানা প্রজাতির বনজ বৃক্ষ। গাছগুলো বর্তমানে বড় আকৃতি ধারন করেছে এবং এই এলাকাটিকে করে তুলেছে প্রকৃতির এক অপরুপ নান্দনিক পরিবেশের। আনুমানিক ১৫০ বিঘা (৫০ একর) জায়গা নিয়ে গঠিত উক্ত পর্যটন কেন্দ্রে ইতিমধ্যে খনন করা হয়েছে ২১ বিঘা (৭ একর) জায়গার একটি বিশাল দীঘি। উক্ত দীঘিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে নানারকম মাছ। তৈরী করা হয়েছে একটি রেষ্ট হাউজ ও দীঘির সিড়ি। পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা হতে আসা বিনোদন পিপাসু মানুষদের। তারা জানান, এখানে প্রয়োজন একটি ভাল রেষ্ট হাউস, বসার জন্য কিছু বেঞ্চ, লেকে ঘোরার জন্য প্যাডেল বোর্ট, গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখানে আসার জন্য একটি ভাল রাস্তা। দর্শনার্থীরা জানান, ইছামতি নদীর তির ঘেষে গড়ে উঠা এমন একটি বিনোদনের জায়গা খুবই সুন্দর এবং আকর্ষনীয়। তারা বলেন, যদি সরকারী বা বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় উক্ত পর্যটন কেন্দ্রটির অবকাঠামো উন্নয়ন করা যায় তাহলে মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য জায়গাটি অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডঃ গোলাম মোস্তফা বিনোদন কেন্দ্রটিকে ঘিরে মানুষের বিনোদনসহ নানাদিক তুলে ধরে বলেন, কিছুদিন পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক  এই বিনোদন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন এবং অতি তাড়াতাড়ি যাতে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যায় তার ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস প্রদান করেছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবে।