সাতক্ষীরার ধুলিহরে স্কুল ছাত্রী শাহানা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা


1108 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ধুলিহরে স্কুল ছাত্রী শাহানা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার ব্রক্ষ্মরাজপুর ডিবি গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। মেয়েটির বাবা শাজাহান আলী বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে বখাটে দশারণ পাড়–ইকে আসামী করে ৩০৬ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩০। আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে বলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমদাদ শেখ জানান।
এদিকে সহপাঠিকে হারিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। শিক্ষকরাও বখাটের বিরুদ্ধে মামলা দিতে দেরী হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। শাহানারার শ্রেনী সহপাটি ঁজাকিয়া সুলতানা জানায়, শাহানারা খুবই ভাল মেয়ে ছিল। সে সবার সাথে মিলেমিশে থাকত। উদার মানসিকতার জন্য সবাই তাকে খুব যতœ করত।
অপর সহপাটি সুমাইয়া সুলতানা জানায়,এমন উচ্ছ্বল কিশোরী তাদের স্কুলে আর একটিও ছিলনা। তার মৃত্যুতে তাদের স্কুল ও এলাকা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। আরেক সহপাটি উম্মে হাবিবা জানায়, বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষা দিতে আসলেও শাহানারার মন খুব খারাপ ছিল। মন খারাপের কারন জিজ্ঞাসা করাতে সে শুধু কেঁদেছিল।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান,শাহানারা খুবই মেধাবী ও সংস্কৃতিমনা মেয়ে ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। বখাটে দশারণের শাস্তি দাবী করে তিনি বলেন,তার ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে শাহানারার মত একটি সম্ভাবনাময় কিশোরী প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে গেল। তিনি আরো বলেন,শুক্রবার তাদের বাড়ী যেয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাইকে বলতে শুনেছি,দশারথের ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে শাহানারা আত্মহত্যা করেছে।
শাহানারার এক প্রতিবেশী ভাবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাশাপাশি বাড়ী হওয়ায় শাহানারা তাদের বাড়ীতে যেত। সুযোগ বুঝে জোর করে তার নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারন করে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেখাত দশারণ। এমনকি তাকে বিয়ে না করলে নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখালে কিশোরী শাহানারা মুছড়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে মনের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
অপরদিকে স্কুল ছাত্রী শাহনারা খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনার খবর পেয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেন রোববার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এসময় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন।
পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিতে গিয়ে টিএম জাকির হোসেন বলেন, ব্রক্ষ্ররাজপুর ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী শাহনারা খাতুনের আত্মহত্যার পিছনে যারা জড়িত তাদের খুজে বের করে প্রশাসন বিচারের ব্যবস্থা করবে। তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বখাটে ও ইভটিজিং এর সাথে জড়িতদের ব্যপারে সরকার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে । শাহনারার মত আর কোন প্রতিভাবান মেধাবী ছাত্রী যেন অকালে ঝরে না যায়, তার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।
এসময় সাতক্ষীরার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদিন উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে ঘটনার তিনদিন পর সোমবার দুপুরে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আতিক ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমদাদ শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিকেলে মামলা রেকর্ড করানো হয়।
প্রসঙ্গত: গত শুক্রবার সকালে বিষপান করে শাহনারা খাতুন (১৩) আত্মহত্যা করে। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহার ইউনিয়নের দরবাস্তিয়া গ্রামের শাহাজান আলীর মেয়ে ও ব্রক্ষ্মরাজপুর ডিবি গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযোগ উঠেছে,প্রতিবেশী মৃত অজীত পাড়–ইয়ের ছেলে দশারন পাড়–ই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী শাহানারা খাতুনের কাছে প্রেম নিবেদন করে। কিন্তু ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় শাহানারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এক পর্যায় দশারন পাড়–ই সুযোগ বুঝে গোপনে মোবাইলে শাহানারার ছবি ধারনের পর তা বিক্রিত করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ফের তার কাছে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি সে তার বাবা-মা’কে জানায়। একপর্যায় শাহানারার বাবা শাহাজান আলী দশারনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সবাইকে জানিয়ে মেয়ের ছবি মোবাইল থেকে ডিলেট করার অনুরোধ করে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি।
এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী কলারোয়ার উপজেলার কাজীর হাট এলাকার এক যুবকের সাথে শাহানারা খাতুনের বিয়ের  কথা চলছিল। শুক্রবার ছেলে বাড়ির লোকজনের মেয়ে দেখতে আসার কথা জানতে পেরে দশারন পাড়–ই বৃহস্পতিবার রাতে একদফা এবং শুক্রবার সকালে আরেক দফা শাহানারাকে হুমকি দেয়।
অন্যত্র বিয়ে দিলে তার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয় দশারন। ইতোমধ্যে এই ঘটনা সারা গ্রামে চাউর হয়ে পড়ে। এতে অপমান সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার সকালে শাহানারা বিষপান করে। তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে সে মারা যায়।