সাতক্ষীরার নলতায় দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল


110 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার নলতায় দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল
মে ১৮, ২০১৯ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিন নয় থেকে দশ হাজার রোজাদারের ইফতারের আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট ::

কালিগঞ্জের নলতায় দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বৃহত্তম এই ইফতার অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফের হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় ও নলতা পাক রওজা শরিফের খাদেম আলহাজ্জ আনছার উদ্দিন আহমেদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিদিন এখানে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার রোজাদার একত্রে বসে ইফতার করছেন। সওয়াব হাসিলের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইফতারের উদ্দেশে নলতা শরিফে ছুটে আসেন রোজাদাররা। ধনী, গরিব নির্বিশিষে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে বসে সকলে ইফতার করেন।
নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের হিসাব রক্ষক এবাদুল হক জানান, হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) তার জীবদ্দশায় রমজান মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃৃপক্ষ এ ইফতার মাহফিল অব্যাহত রেখেছে। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে প্রতিবছর বিশাল টিনের ছাউনি নির্মাণ করে রমজানে ইফতারের আয়োজন করে আসছে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন। ইফতার মাহফিলে সকলে একত্রে বসার জন্য খাঁন বাহাদুর আহছানউল্লা (রা.) এঁর মাজার প্রাঙ্গনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে বিশাল টিনের ছাউনি নির্মান করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে আয়োজক কমিটি। ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য রয়েছে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। ইফতারের তালিকায় রয়েছে ফিরনি, ডিম, চিড়া, ছোলা ভূনা, খেজুর, সিঙ্গাড়া ও কলা। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৭ মন দুধের ফিরনি তৈরি করা হয় এখানে। রোজাদারদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার প্লেটে ইফতার প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও নলতা শরীফের আশপাশের এলাকার মসজিদে ও বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোজাদারের ইফতার। রয়েছে পানি পানের বিশেষ ব্যাবস্থা। ইফতার বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দেশ বিদেশের ভক্তগণ যৌথভাবে এই ইফতারের অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। ইফতারের আগে প্রতিদিন ধর্মপ্রান মুসল্লিরা দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ইফতার শেষে এই প্রাঙ্গনেই মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়।