সাতক্ষীরার পাটজাত পন্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে


214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার পাটজাত পন্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে
ডিসেম্বর ১৪, ২০২২ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

পাটের ব্যাগ বুনে জেলার ৭ হাজার নারী আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল

॥ গোলাম সরোয়ার ॥

সাতক্ষীরার হাতে বুনন পাটজাত পন্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এসব পাটজাত পন্যের মধ্যে রয়েছে মেন্ডেলা ওয়ালম্যাট, ফ্লরম্যাট, এ্যালেসব্যাগ, মার্সিব্যাগ, আমরিব্যাগ ও এ্যামনব্যাগ ইত্যাদী।

সাতক্ষীরা থেকে বছরে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকার পাটজাত পন্য রপ্তানি হচ্ছে ইটালী, অষ্ট্রোলিয়া, জার্মান, ফ্রান্স স্পেন, ফিনল্যান্ড ও সুইজারল্রান্ডসহ বিভিন্ন দেশে।

অন্যদিকে জেলার কয়েক হাজার নারীও আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে পাট সুতার ব্যাগ, ফ্লরম্যাট এবং ওয়ালম্যাটসহ বিভিন্ন রকম রপ্তানিজাত পাটজাতীয় পন্য উৎপাদন করে। এসব নারী সংসারের পাশাপাশি হস্তশিল্পের কাজ করে মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন।

সাতক্ষীরা সদরের সুলতানপুর গ্রামের গৃহবধু ফরিদা পারভীন জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং স্বামী ৫ সদস্যের সংসার তার। স্বামী আব্দুর রাজ্জাক একজন ফুটপাতের চা বিক্রেতা। সারাদিন চা বিক্রি করে স্বামীর যা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টো হয়ে যায়। তাই ২০১৬ সালের দিকে এলাকার এক নারীর পরামর্শে ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল এর অধিনে হস্তশিল্পের উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। এর পর থেকে পাটের সুতা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ব্যাগ বুনে প্রতি মাসে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা উপার্জন করেন এই গৃহবধু। তিনি বলেন, পাট পন্য তৈরীর সব উপকরন সরবরাহ করে ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল। এরপর প্রতিষ্টানটির চাহিদা মাফিক বিভিন্ন ব্যাগ এবং ওয়ালম্যাট বা ফ্লরম্যাট তৈরী করে দেন। এসব ব্যাগ বুনে এখন তার সংসারে আগের চেয়ে বেশ স্বচ্ছল হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদা পারভীনের মতই বর্ননা দিলেন একই এলাকার গৃহবধু তেরেজা মন্ডল। তিনি বলেন, প্যারালাইসড আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসা ও সংসার নির্বাহ হচ্ছে পাটের পন্য তৈরী করে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্যের চলছে একমাত্র হস্তশিল্পের কাজ করে। তিনি বলেন, একেকটি পাটের ব্যাগ বুনলে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা মজুরী পাওয়া যায়। তাছাড়া ফ্লরম্যাট এবং ওয়ালম্যাট তৈরী করলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরী পাওয়া যায় বলে জানান ওই গৃহবধু। তেরেজা ও ফরিদার মত অন্তত সাতক্ষীরাতে ৭ হাজারের অধিক নারী পাটজাত পন্য তৈরী করে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বিনেরপোতাস্থ রপ্তানিকারক প্রতিষ্টান ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল এর সুলতানপুরস্থ অফিসের প্রডাক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় সরকার জানান, জেলার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার অস্বচ্ছল নারীকে হ্যান্ডিক্রাপ্ট বা হস্তশিল্পের উপর প্রশিক্ষন দিয়ে তাদের কাছ থেকে মুলত পাটজাত পন্য তৈরী করে নিয়ে তা বিদেশে রপ্তানি করে থাকে তার প্রতিষ্টানটি। পাট দড়ি বা সুতায় বুনা এসব পন্য ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে মেন্ডেলা ওয়ালম্যাট, ফ্লরম্যাট, এ্যালেসব্যাগ, মার্সিব্যাগ, আমরিব্যাগ ও এ্যামনব্যাগ উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে এসব পন্য তৈরী করে একেকজন মজুরী হিসেবে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন বলে জানান সঞ্জয় সরকার। তিনি বলেন, এসব নারীদের কাছে পাটের সুতা বা দড়ি এবং রংসহ অন্যান্য উপকরন সরবরাহ করে রপ্তানি চাহিদা মাফিক পাটজাত পন্য তৈরী করে নেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরে গড়ে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকার পাটজাতীয় ব্যাগ এবং ওয়ালম্যাট রপ্তানি করা হয়ে থাকে। তবে চাহিদা আরো বেশি বলে জানান তিনি। তবে করোনাকালিন সময়ে চাহিদা কিছু কমে গেলেও বর্তমানে বেড়েছে রপ্তানি চাহিদা।

সাতক্ষীরা জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শক আশিষ কুমার জানান, জেনেছি সাতক্ষীরার ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাতক্ষীরার উৎপাদিত পাটজাত পন্য রপ্তানি করছে। তবে দেশের অভ্যন্তরেও এখন পাটজাত পন্য ব্যবহারে সাধারন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কারন এটি পরিবেশ সম্মত। সরকার পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর থেকে পাটজাত পন্য উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির জানান, এ জেলার নারীদের হাতে তৈরী পাটজাত পন্য ইউরোপের দেশে রপ্তানি হচ্ছে এটি সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনবে যেমন তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও ভুমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, এ জেলার চিংড়ি, আম, মধুসহ আরো অন্যান্য কৃষি পন্য রপ্তানি হচ্ছে।

#