সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালের বুকচিরে ভেড়িবাঁধ ! জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নিন


510 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালের বুকচিরে ভেড়িবাঁধ ! জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নিন
মার্চ ৭, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল আলম / শেখ মাহাবুব ::
আলিপুরের আলহাজ্ব আব্দুস সবুর। কেউ তাকে চেনেন কটিপতি সবুর, কেউ চেনেন শিল্পপতি সবুর আবার কেউ তাকে চেনেন সবুর সাহেব হিসেবে। সাতক্ষীরা শহরের কামাননগর হাটের মোড়স্থ জমিতে তিনি তৈরী করছেন বহুতল ভবন। গত একমাস ধরে চলছে ওই ভবনের পাইলিং এর কাজ। আর ওই পাইলিং এর যাবতীয় পলি / বালি / বজ্য ফেলা হচ্ছে সুলতানপুর বড় বাজার ব্রিজ সংলগ্ন প্রাণ সায়ের খালে।

সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে, বড় বাজার ব্রীজ এলাকায় প্রাণ সায়ের খালে ওই পলি, বালি, বজ্য জমে সেখানে ৫০০ গজ এলাকা জুড়ে তৈরী হয়েছে মিনি ভেড়িবাঁধ। ফলে সাতক্ষীরা জেলা শহরের মাঝদিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী প্রাণ সায়ের খাল দিয়ে পানি নিস্কাশন শতভাগ বন্ধ হয়েগেছে। খালের পানি কাকের চোখের মতো কালো হয়েগেছে।

খাল দিয়ে পানি আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধের কারণে খালের দুই ধারের পানি পঁচে এলাকায় মারাত্বক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকার বাতাস দুষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খালপাড়ে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ, ব্যবসায়ী এবং খালধারের রাস্তাদিয়ে চলাচলকারী পথচারিরা পঁচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে জেলা শহর ব্যাপী। কিন্তু কে দেখবে ? কে দেবে এর সমাধান ?

গত প্রায় এক মাস ধরে প্রাণসায়ের খাল দিয়ে পানি নিস্কাশন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও কারো কোন ধরনের মাথা ব্যাথা নেই। আজগবি এক শহরে বসবাস করছে সাতক্ষীরার শান্তিপ্রিয় হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো যেনো কেউ নেই।

এ ব্যাপারে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিনের সাথে কথা হয় ভয়েস অব সাতক্ষীরার এই প্রতিবেদকের। তিনি সে সময় বলেছিলেন ‘ সবুর সাহেবের সাথে কথা হয়েছে, উনি বলেছেন যে বজ্য বা পলি খালে জমছে তার ডবল পরিমান মাটি স্কেবেটর দিয়ে কেটে দিবেন ’। কিন্তু মাননীয় জেলা প্রশাসকের কাছে সাতক্ষীরাবাসীর জিজ্ঞাসা, মাসব্যাপী পঁচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কোন স্কেবেটর দিয়ে তুলবেন ? এলাকায় যে রোগজীবণু ছড়াচ্ছে তার প্রতিকার বা ক্ষতিপুরন কে দেবে ? জানতে চায় সাতক্ষীরাবাসী।

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে আরো ভয়াবহ চিত্র। আব্দুস সবুরের তৈরী করা ড্রেন দিয়ে এখনও পাইলিং এর যাবতীয় পলি, বালি ও বজ্য প্রাণসায়ের খালে গিয়ে পড়ছে। সেখানে তৈরী হয়েছে রিতিমত ভেড়িবাঁধ। একফোটা পানিও আসা-যাওয়ার কোন পরিস্থিতি সেখানে নেই। কেউ এ ব্যাপারে কথা বলার সাহসও পাচ্ছে না।

মানুষ খাল ধারের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। মুখে ডিব্বা বেধেও চলা যাচ্ছে না খালপাড় দিয়ে । তাহলে খালধারে যারা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে তাদের অবস্থা কী সহজে বুঝা যায়।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিনের সাথে। তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি তা আমার জানাছিল না। এখুনি বিষয়টি নিয়ে তিনি সবুর সাহেবের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।