সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের খালের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন


116 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের খালের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন
আগস্ট ২২, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সাতক্ষীরার নেতৃবৃন্দ প্রাণ সায়ের খালের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা সদরের লাবসার খেজুরডাঙ্গী, খেলারডাঙ্গী, দেবনগর, থানাঘাটাসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সাতক্ষীরা’র সভাপতি এডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, যুগ্ন-সম্পাদক রওনক বাসার, প্রচার সম্পাদক আমির হোসেন খান চৌধুরী, ও দপ্তর সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন।
পরিদর্শন শেষে এ বিষয়ে নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সাতক্ষীরার সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, নদীর সাথে সাতক্ষীরা প্রাণ সায়ের খালের সংযোগ স্থানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির দুঃখজনক বিষয় হলো অনেক স্থানে প্রাণ সায়ের ও নদীর মাঝখানের সংযোগ খালগুলো বাঁধ দিয়ে আটকে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্লুইচগেটগুলো অকার্যকর এবং নদী বক্ষের উচ্চতা স্লুইচগেট এর চেয়ে বেশি। অসংখ্য ছোট ছোট খাল সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়র খালকে মরিচ্চাপ, বেতনা, সোনাই প্রভৃতি নদীর প্রবাহের সাথে সম্পৃক্ত করেছিল। যা অনেকটা মানবদেহের শিরা-উপশিরার মত। এই শিরা-উপশিরাগুলো বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণির ভূমি দস্যু ও সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কারণে সাতক্ষীরা শহরের ‘প্রাণ’ প্রাণ সায়ের খাল তার প্রাণ হারিয়েছে। লাবসা ইউনিয়নের খেলারডাঙ্গী ৪ খালের মিলনস্থলে একটি অবৈধ মৎস্য ঘেরের বাসা (৪ খালের মাঝখানে) দেখলাম, যেখানে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারও বসানো হয়েছে!
বলার অপেক্ষা রাখে না, সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে খালগুলো একসময় খনন করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা, সেই খালগুলোর প্রায় সবই এখন অস্তিত্বহীন। খালগুলো দখল করে কেউ মৎস্য চাষ করছেন, কেউ বাড়ি বানিয়েছেন, কেউ নানান প্রকল্প গড়ে তুলেছেন।
আর এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্বে সরকারের নিয়োজিত যে সকল কর্মকর্তারা নানান সময় সাতক্ষীরাতে চাকরি করতে এসেছেন, তাদের অনেকেই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। এথেকে উত্তরণে আমাদের সাতক্ষীরাবাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে। অধিকার আদায় করে নিতে না পারলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারলে এই দখল এবং জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকবে। একসময় বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হবে আমাদের প্রাণপ্রিয় সাতক্ষীরা।
তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো জানান, সবাই সমস্বরে নদী দখল, খাল দখলসহ সকল প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলুন, প্রতিবাদ করুন।

#