সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের দখল করে ইট ভাটা নির্মাণ !


594 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের দখল করে ইট ভাটা নির্মাণ !
নভেম্বর ১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে ইট ভাটা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাণ সায়ের খাল দখল করে পাউবো’র জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ইট ভাটার কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পাউবো কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ২০০৯ সালে পৌর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভাটার কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করলেও ৭ বছরেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ আছে, পাউবো বিভাগ-২ ও সদর উপজেলা পরিষদের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পৌরসভার মধ্যে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্টোন ব্রিকসের মালিক মনিরুজ্জামান তুহিন। ফলে প্রাণ সায়েরের জন্য হুমকি’র এ ভাটা বন্ধের উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের কুখরালি এলাকায় প্রাণসায়ের খালের পাড়ে ২০০৮ সালের শুরুর দিকে আব্দুল হামিদ স্টোন ব্রিকস (জেবি ব্রিকস) নামের একটি ইট ভাটা গড়ে তোলেন। কোন বৈধ অনুমতি ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর এল.এও ৫২/৬১-৬২ অধিগ্রহণকৃত ২৮১৭, ২৮১৯, ২৮২০, ২৭৭০, ২৭৬৯, ২৭৬৭ ও ২৭৬৬ নং দাগে ৪ একর জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করা হয়। প্রথমে কম যায়গা নিয়ে করলেও ধীরে ধীরে তার পরিধি আরো বাড়ানো হয়। সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বাটকেখালীর রেজওয়ান হোসেন কয়েক বছর ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভাটার পরিধি বাড়ানোর তাগিদে বর্তমানে শহরের কুখরালি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে প্রাণ সায়ের খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইট ভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সেটি গড়ে তোলা হয়েছে খালের জায়গা দখল করে। খালের গতিপথ সুপরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে। খালের মধ্যে পুরাতন ও ভাঙা ইট ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে খালের গতিপথ পরিবর্তন করে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাটার বিপরীত অংশে খালের মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বেড় পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, ইট ভাটার কারণে প্রাণসায়েরের গতি পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয় মতিয়ার রহমান ও সানি খালেকসহ কয়েকজনের জমি আস্তে আস্তে খালের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পৃথক ভাবে অবহিত করা হলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় অভিযোগ করে বলেন, ভাটার মালিকের কাছ থেকে পাউবো’র সার্ভেয়ার বিমল চন্দ্র ও নুরুল্লাহ নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে জমি দখলের বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ভাটর কার্যক্রম বন্ধে ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর পৌর ভূমি অফিস থেকে ৪৯০ নং স্মারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, প্রাণ সায়েরের জমি ক্রমগতভাবে ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় খালটি ক্রমশ সংকোচিত হচ্ছে। ফলে ভাটার কার্যক্রম বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। তবে চিঠি দেওয়ার ৭ বছরেও ভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়। উপরোন্তু ভাটার পরিধি বাড়াচ্ছে হচ্ছে দিনের পরে দিন। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ভাটার কার্যক্রম সরিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডেও বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারের দাবী জানান।