সাতক্ষীরার ফিংড়িতে শিশু সুরক্ষা : পাঁচ ইউপির ৫৬৭৯ শিশুকে বহুমুখী শিক্ষা


486 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ফিংড়িতে শিশু সুরক্ষা : পাঁচ ইউপির ৫৬৭৯ শিশুকে বহুমুখী শিক্ষা
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে শিশু কিশোরদের প্লাকার্ড হাতে অঙ্গিকার ‘আমরা সবাই শিক্ষা নেব। শিক্ষিত হবো। সমাজের ভালো মন্দ বিচারে আমরা অংশ নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো’। এসব শিশুর জন্য সাতক্ষীরার ফিংড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ হাসনা হেনা কেন্দ্র’। এখানেই কাটে তাদের দিনের একটা সময় । বাকিটা লেখাপড়ায়। হাসনা হেনা কেন্দ্রে লেখা রয়েছে ‘ আই প্লে আই লার্ন অ্যান্ড আই অ্যাম সেফ’। আমি খেলি আমি শিখি আমি নিরাপদ। কোমলমতি শিশুদের এই শিক্ষা দিয়েছেন তাদের শিক্ষকরা। সাহায্য করেছেন বেসরকারি সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কর্মকর্তারা।
গোবরদাঁড়ির শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র হাসনা হেনার পরিচালনা কমিটির সদস্য আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন ‘ শিশুদের সামাজিকভাবে গড়ে তুলবার কাজ করছি আমরা। ওরা খেলে । বই পড়ে । সাংস্কৃতিক বিনোদনে মেতে ওঠে। প্রতিবাদের ভাষা আছে ওদের। অধিকার আদায়ের ভাষাও রপ্ত করেছে শিশুরা। তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে আমরা কাজ করছি’। তিনি বলেন স্কুল থেকে ঝরে পড়াদের সহযোগিতা দিয়ে ফের স্কুলে পাঠানো হয়। প্রয়োজনে তাদের পোশাক , বই খাতাপত্র সংগ্রহ করে দেওয়া হয়। শিশুরা যাতে নির্বিঘেœ পড়ালেখা করে বড় হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে নজর রাখা হয় বলে জানান তিনি।
শনিবার সাতক্ষীরার ফিংড়ি শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা সকালে সাক্ষরতা দিবসের র‌্যালিতে অংশ নিয়েছে। তারা স্কুল মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এরপর জিতে নিয়েছে পুরস্কার। ক্লাসরুমে বসে তাদের চোখেমুখে দেখা গেল প্রতিশ্রুতির ছাপ। শিক্ষকদের সাথে সুর মিলিয়ে তারা বলছে আমরা সবাই লেখাপড়া শিখে বড় হতে চাই।
অনিরাপদ অভিবাসন থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করছে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। তাদেরকে সোসালাইজেশন করনের দায়িত্ব নিয়েছে সংস্থাটি। সাতক্ষীরার পাঁচটি ইউনিয়ন ফিংড়ি ,কুশখালি, বৈকারি, ঝাউডাঙ্গা ও ভোমরার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬৭৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ যাতে ঝরে না পড়ে সে দিকে নজর রয়েছে তাদের। ৩৫ টি ক্লাবে বিভক্ত করে তাদের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সচেতনতা বৃদ্ধিতে, আত্মরক্ষায়, পাচার ও যৌন হয়রানিরোধের কৌশল, শিশু বিবাহরোধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার শিক্ষা। তাদের শিক্ষা সবাইকে স্কুলে যেতে হবে।
কর্মকর্তারা জানালেন শিশুদের এধরনের শিক্ষা দেওয়ায় তাদের অভিভাবকরাও সন্তুষ্ট। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারাও। শিশুদের জন্য মতামত বা অভিযোগ দেওয়া বাক্স খোলা রয়েছে। শিশুরা সরাসরি চেয়ারম্যান মেম্বর এমনকি প্রয়োজনে ইউএনও এবং থানার ওসির সাথে কথা বলে সামািজক অনিয়ম ও বিশৃংখলার কথা জানিয়ে দিচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে শিশুরা সুরক্ষা পাচ্ছে।
শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বললেন শিশুদের মাদক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী শিক্ষা দিচ্ছি আমরা। তারা যাতে অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে না বসে সে জন্যও সচেতন করছি তাদের। তাদেরকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা হচ্ছে । তারা যাতে কোনো দুষ্টু লোকের পাল্লায় পড়ে পাচার না হয় সে ব্যাপারে সজাগ রাখা হয়েছে শিশুদের। এরই মধ্যে ফিংড়ি এলাকায় অনেকগুলি বাল্য বিবাহ রোধ করা গেছে শিশুদের সচেতনতার কারণে। তারা গোপন তথ্য দিয়ে প্রশাসনের সহায়তা নিয়েছে।
কথা হয় গোবরদাঁড়ি গ্রামের হাসনা হেনা কেন্দ্রের সদস্য আঞ্জুমান আরা ও অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলামের সাথে । তারা বলেন শিশু সুরক্ষায় তাদের কাজে এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বর সাহায্য করছেন। ফিংড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন কালে অতিথি বক্তারা বলেন বাংলাদেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশ পেরিয়ে গেছে। অল্প দিনের মধ্যে এদেশ সম্পূর্ন নিরক্ষরমুক্ত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তারা বলেন এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে স্কুলে পড়তে হবে। ষাট বছরের বৃদ্ধাও এখন স্কুলে পড়ছে উল্লেখ করে তারা বলেন বাড়ির পাশে কেউ যাতে অক্ষরজ্ঞানহীন হয়ে না থাকে সেজন্য দায়িত্ব নিতে হবে। ফিংড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি মোনায়েম হোসেন, ইউপি সদস্য জাকিরুল ইসলাম, ডিবিসির সাংবাদিক এম জিল্লুর রহমান, শিক্ষক বিশ্বনাথ সরকার , ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের আবদুল হক প্রমুখ। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রকল্প সমন্বয়ক মাহবুব হোসেন জানান সংস্থাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিট গঠন করে শিশু সুরক্ষায় কাজ করছে। আগামিতে তাদের কাজের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান ‘ আমরা সুস্থ মানসিকতার শিশু গড়ে তুলবার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা দিচ্ছি। শিশুদের শিক্ষা যাতে নিরবচ্ছিন্ন হতে পারে সেজন্য আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিশুর শিক্ষাগ্রহনকে আরও আনন্দদায়ক বিবেচনায় আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি বলেও জানালেন তিনি।