সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের বিভিন্ন দূর্নীতির তদন্ত শুরু


357 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের বিভিন্ন দূর্নীতির তদন্ত শুরু
অক্টোবর ১১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে ও জাল স্মারকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক শিক্ষানুরাগী সদস্য মনোনয়ন দানপত্র তৈরি করে সাতক্ষীরার ১২টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, জাল-জালিযাতিপূর্বক স্বামী-স্ত্রী ও ভাই-বোনদের নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ রয়েছে তাহলো, সাতক্ষীরা জেলা সমাজ সেবা দপ্তর হতে রেজিষ্ট্রেশনকৃত আভাস সংস্থার রেজিষ্ট্রেশন বাতিল এবং জাল দলিল, জাল এফডিআর সনদ ব্যবহার করে ১৮টি কারিগরি কলেজের অনুমোদন গ্রহণ, ১৮টি কলেজের একক সভাপতিত্ব ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, ব্যক্তি নামে নাম পরিবর্তনের শর্ত হিসেবে ব্যাংকে ১৫ লক্ষ টাকা জমা দানের জাল প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে খলিষখালী টেকনিক্যাল কলেজের নাম পরিবর্তন, নিয়োগ বাছাই কমিটির জাল স্বাক্ষরে নিয়োগ, এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজে স্ত্রী সেলিনা সুলতানাসহ ৫ জন শিক্ষকের অনানুমোদিত বিষয়ে এমপিওভুক্তি এবং কলেজের সামনের জমি মসজিদ কমিটির কাছে বিক্রি।

সাতক্ষীরা এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল হোসেন মোঃ মকছুদুর রহমান এবং ন্যাশনাল আওয়ামীপার্টি (ন্যাপ) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে, উপরোক্ত বিষয়ে রবিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসে উক্ত তদন্তকার্য অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার সকালে প্রথম পর্যায়ে বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তদন্তকালে বাদীপক্ষ আখতারুজ্জামানের সকল দূর্নীতির তথ্য প্রমান উপস্থাপন করেন। পরে বিবাদীপক্ষ অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার বলেন, বেলা ৩টা পর্যন্ত দু’পক্ষের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। অনেক গুলি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগ এবং দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত এসব কার্যক্রম চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে যাওয়া লাগবে। খুব জটিল বিষয়। তদন্ত শেষ হতে বেশ সময় লাগবে।

তদন্তের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোন কাজের সাথে তো এখন প্রভাবশালীরা জড়িত, সেক্ষেত্রে তাদের একটু হস্তক্ষেপ রয়েছে। তারপরও কাগজ পত্রের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে , বাদীপক্ষ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তদন্তকালে সাতক্ষীরার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মিসেস রিফাত আমীন শিক্ষাদস্যু ও দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ হিসেবে খ্যাত আখতারুজ্জামানকে বাঁচাতে তদন্তকারী কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কল করে আখতারুজ্জামানের পক্ষে সুপারিশ করেন। তারা আরও বলেন, অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান বিএনপি নেতা। ওই বিএনপি নেতাকে রক্ষা করতে মাঠে নেমেছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের আওয়ামী দলীয় এমপি রিফাত আমিন।