সাতক্ষীরার বাঁশদহা মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ইউসুফের দুই বছরেও খোঁজ মেলেনি


263 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বাঁশদহা মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ইউসুফের দুই বছরেও খোঁজ মেলেনি
আগস্ট ২৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সাতক্ষীরার বাঁশদহা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী আবু তাহের জিয়াউদ্দিন মোঃ ইউসুফ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর, ১৫ নভেম্বর ও ৩১ নভেম্বর তারিখে তিন দফায় মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার সুস্পষ্ট জবাব দিয়ে প্রতিষ্ঠানে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু তারপরও তিনি প্রতিষ্ঠানের যোগদান বা উপস্থিত হননি। নিখোঁজ মাদ্রসা শিক্ষক এ,টি, জেড, এম ইউসুফ যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার আগরহাটি গ্রামের আব্দুল বারী ওয়াদুদ এর ছেলে।

সরজমিনে বাঁশদহা আলহাজ্ব মোহাম্মাদ আলী দাখিল মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ওই শিক্ষক ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে মাদ্রাসায় আসেননি। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরো জানান, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কারণে নোটিশ প্রদানের পরও কোন খবর না পেয়ে ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারী সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কাফেলা ও ওই একই বছরের ১৭ জানুয়ারী ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক খবরপত্র পত্রিকায় চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপর গত ২০১৫ সালের ০২ ফেব্রুয়ারী শিক্ষক এ,টি,জেড,এম ইউসুফ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হলে তার সম্মতিতে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী তদন্তের দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তদন্তের পূর্বেই ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী তিনি শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণ দেখান। তখন শিক্ষা অফিসার তদন্তের তারিখ পরিবর্তন করে ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারী নির্ধারণ করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন। অথচ ৯ ফেব্রুয়ারীও তিনি উপস্থিত হতে অপারগতা প্রকাশ করে ওই একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী তার হাজির হওয়ার দিন নির্ধারনের জন্য অনুরোধ জানান। সে মোতাবেক ১৫ ফেব্রুয়ারী তদন্তের জন্য বাঁশদহা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসায় গেলে ওই শিক্ষককে পাননি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন। পরে এ,টি,জেড,এম ইউসুফ এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করতে না পেরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি প্রতিবেদন জমা দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

এ ব্যাপারে উক্ত মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মাদ রিয়াজুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা। মটরসাইকেল যোগে এসে তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতেন। তবে তিনি সাতক্ষীরার কোথাও থাকতেন কি  না সে বিষয়ে ওই শিক্ষক কিছুই বলতে পারেননি। তিনি আরো জানান, ওই তারিখের পর থেকে আমরা কেউ তাকে আর দেখিনি। ওই শিক্ষক জামায়াত বা কোন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, মাদ্রাসা শিক্ষক ইউসুফ কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কি না সে বিষয়ে আমার জানা নেই।