সাতক্ষীরার বাবুলিয়া পূজামন্ডপে প্রতিমা ভাংচুর : জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থল পিরদর্শন


597 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বাবুলিয়া  পূজামন্ডপে প্রতিমা ভাংচুর : জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থল পিরদর্শন
অক্টোবর ১৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল / নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাবুলিয়া পূজা মন্ডপ ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার ভোরে স্থানীয় লোকজন পূজা মন্ডপে যেয়ে দেখতে পান, কে বা করা ওই পূজা মন্ডপের মা-দূর্গার মাথাসহ ৪টি মুর্তি ভাংচুর করে রেখেগেছে। পুলিশের ধারনা, শনিবার গভীর রাতে মুর্তিগুলো ভাংচুর করা হতে পারে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর পূজা মন্ডপে একই ভাবে হামলা চালিয়ে একাধিক মুর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।

বাবুলিয়া মন্দির কমিটির সভাপতি অরবিন্দ ম-ল জানান,আসন্ন দুর্গাপুজায় তাদের মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ। রঙের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছিল। শনিবার রাতের কোন এক সময় অজ্ঞাত দুর্বত্তরা মন্দিরে ঢুকে দেবী দুর্গার মাথা, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে উল্টে দেয়। একেবারে ধ্বংস করে দেয় দেবী স্বরসতীর মুর্তিটিও। এছাড়া অন্যান্য মুর্তিরও ক্ষতিসাধন করে হয়েছে।

এদিকে, বাবুলিয়া পূজা মন্ডপ ভাংচুরের খবর জানার পরপরি রোববার সকালেই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদাচ্ছের হোসেন, সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, মা দূর্গাসহ ৪ টি মুর্তি কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই পূজা মন্ডপে ইতিমধ্যে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মুর্তিগুলো দ্রুত সংস্কার করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাপারে মামলা নিয়ে পূজামন্ডপে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ জানান, স্থানীয় কালিমন্দির নিয়ে সেখানে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে কি-না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।  ঘটনার সাথে জড়িতদের  খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে।

স্থানীয়রা জানান, বাবুলিয়া পূজা মন্ডপটি বেশ সুরক্ষিত। এর পরেও কি ভাবে দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করলো তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের ধারণা, দূর থেকে লম্বা লাঠি বা বাঁশ দিয়ে মুর্তিগুলো খুঁছিয়ে ভাঙা হয়েছে। তারা বলেন, বাবুলিয়া এলাকা জামায়াত-শিবিরের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এটি তাদের কোন নাশকতা কি-না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।