সাতক্ষীরার বাবুলিয়া হাইস্কুল জাতীয়করণের দাবী


539 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বাবুলিয়া হাইস্কুল জাতীয়করণের দাবী
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
শিক্ষা-সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সদর উপজেলার বাবুলিয়া জে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় আসছে একের পর এক সাফল্য। শহরতলীর বাবুলিয়ায় অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে নিজস্ব মসজিদ, মন্দির, সমৃদ্ধ লাইব্রেরীসহ শিক্ষার জন্য রয়েছে উপযুক্ত পরিবেশ। জেলার একমাত্র এই বিদ্যালয়েই রয়েছে ছাত্রদের সুশৃঙখল জীবন গড়ার আন্দোলন বিএনসিসি। প্রত্যেক শ্রেণির ১-১২ রোল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ৩টি ট্রাস্টের উদ্যোগে বিশেষ উপবৃত্তি। শিক্ষকরা জানান, এসব সম্ভব হয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলীর নিরলস পরিশ্রম আর ম্যানেজিং কমিটির সুনেতৃত্বের কারণে। তারা বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের দাবীও জানান।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পরে ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই অঞ্চলের শিক্ষা প্রসারের জন্য সে সময়কার প্রখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার রাও সাহেব ত্রৈলেক্য নাথ মুখার্জি চক্রবর্তী চৌধুরি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার তৃতীয় বছরে বৃটিশ সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে স্বকৃতি দেন। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ১০ দশমিক ১৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সদর উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় এটি। বিদ্যালয়ের কলা ভবন, একাডেমিক ভবনগুলো দুই তলা। গ্রামীন ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে বিদ্যালয়ের চারপাশ। বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুসমৃদ্ধ ওয়াজেদ মাসুমা স্মৃতি পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগার। আছে পৃথকভাবে মসজিদ ও মন্দির। বিদ্যালয়ের জমিতে আছে বাবুলিয়া পোস্ট আফিস।

সূত্র আরো জানান, বিদ্যালয়ে পড়াশুনাও অত্যন্ত ভালো। শহরের স্কুলগুলো সাথে প্রতিযোগিতা হয় রেজাল্টে। বর্তমানে ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে এখানে। ২০১৩ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৯২ ভাগ ও ২০১৪ সালে ৯৬ ভাগ পাশ করে। আর এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৪ সালে ৯৮ ভাগ ও ২০১৫ সালে ৯১ ভাগ পাশ করে। প্রত্যেক বছর ২/৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে নিয়মিত বিএনসিসি’র কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আছে স্কাউটও।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ডা. আক্তার হোসেন জানান, বিদ্যালয় বর্তমান স্বয়ংস্পূর্ণ। অবকাঠামো, শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে এখানে। বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে পড়াশুনা করানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করান।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম সিদ্দিক, প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কুদ্দুস জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ওজিয়ার রহমান ট্রাস্ট, ওয়াজেদ মাসুমা স্মৃতি কল্যান ট্রাস্ট, আনোয়ারুল হক ট্রাস্ট রয়েছে। যেখান থেকে জেলার একমাত্র বিদ্যালয় হিসেবে ১-১২ রোল পর্যন্ত প্রত্যেক ক্লাসের শিক্ষার্থীদের বিশেষ উপবৃত্তি দেওয়া হয়। তারা আরো জানান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ভালো। এখন প্রয়োজন জাতীয়করণ করা। এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা আরো বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান জেলার শ্রেষ্ঠ সভাপতি ও শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য শেরে বাংলা একে ফজলুল হক পুরস্কার অর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান জানান, শিক্ষক ও শিক্ষাথীদের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতি বিকাশে এখানে নববর্ষ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতীয় শোক দিবস, স্বাধীনতা দিবস বিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে পালন করা হয়। তিনিও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।