সাতক্ষীরার বারি সরিষা-১৪ জাতের উপর মাঠ দিবস


1383 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বারি সরিষা-১৪ জাতের উপর মাঠ দিবস
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৭ কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

রাহাত রাজা ::
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হারে ভোজ্য তেলের ঘাটতি বিরাজ করছে । জনপ্রতি ১৩ গ্রাম হিসাবে ভোজ্য তেলের বাৎসরিক মোট চাহিদা  প্রায় ১৪ লক্ষ টন । বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭.৫৫ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে ৮.৯৪লক্ষ টন তৈল বীজ উৎপন্ন হয় যা থেকে প্রায় ৩.৫০ লক্ষ্য টন তেল পাওয়া যায়(ডিএই,২০১৫)।এ হিসাবে দেশে ভোজ্য তেলের ঘাটতির পরিমান প্রায় শতকরা ৭৫ভাগ।অপর দিকে গত ১৫ বছরে গড়ে ৩.৩২ শতাংশ হারে তৈল বীজ ফসলের আবাদি জমি কমেছে (বি বি এস, ২০১০ ও ডিএই, ২০১৫)। বেশির ভাগ তৈল ফসলের আবাদ হয় রবি মৌসুমে । সরিষা আমাদের দেশে রবি মৌসুমের অন্যতম প্রধান তৈল ফসল দেশে মোট তৈল ফসলের প্রায় ৬৪%জমিতে সরিষার চাষ হয় (ডিএই,২০১৫)। মূলত :তুলনা মূলক কম ফলন শীল দেশীয় যাতের সরিষা চাষ করার ফলে প্রতি বছর ভোজ্য তেলের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে । এই প্রেক্ষিতে দেশের ভোজ্য তেলের ঘাটতি মেটাতে উচ্চ ফলন শীল  যাতের সরষিা চাষের কোন বিকল্প নেই । এ লক্ষ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ খ্রি: তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট (বিএ আর আই) কর্তৃক উদ্ভাবিত উচ্চ ফলন শীল ও স্বল্প জীবনদৈর্ঘ্যরে বারি সরিষা-১৪ এর চাষ সম্প্রসারণের জন্য সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামে এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের সরজমিন গবেষনা বিভাগ খুলনার উদ্যোগে আয়োজিত এ মাঠ দিবসে ডা.মো:সাখাওয়াৎ হোসেন তৈলবীজ গবেষনা কেন্দ্র ,বাংলাদেশ কৃষি গবেষাণা ইনস্টিটিউট,জয়দেবপুর,গাজীপুর এর সভাপত্তিতে প্রধান অতিথি হেিসবে উপস্থিত ছিলেন ড.আবদুর রৌফ,যুগ্ন সচিব,কৃষিমন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয় ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনি বক্তৃতায় সরেজমিন গবেষনা বিভাগ,বিএআরআই,খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: হারুনর রশিদ বলেন স্বল্প জীবন দৈর্ঘ্যরে উচ্চ ফলন শীল বারি সরিষা -১৪ জাতটির  গড় ফলন ১.৫ টন প্রতি হেক্টরে যা দেশি টরি-৭ জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন । ফলে এলাকার কৃষকরা সহজেই আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে ।

প্রধান অতিথি ড.মো: আবদুর রৌফ যুগ্ন সচিব কৃষি মন্ত্রণালয় তাঁর বক্তব্যে বলেন বারি সরিষা-১৪ জাতটি মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে ফলন দিয়ে থাকে,ফলে আমন ধান কাটার পর সহযেই এ জাতটি চাষ করা যায় এবং পরবর্তিতে বোর আবাদে কোন সমস্যা হয়না । অনুষ্ঠানের সভাপতি ড.মো: মো:সাখাওয়াৎ হোসেন পরিচাল তৈলবীজ গবেষনা কেন্দ্র,বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনাস্টটিউট আশা প্রকাশ করে  বলেন বারি সরিষা-১৪ জাতটি সাতক্ষীরা তথা সারা দেশের শস্য নিবিড়তা বাড়তে ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য ২০১৫ থেকে-১৬ মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় মোট তৈল ফসলের আওতায় আবাদী জমির পরিমান ছিলো ৮৮৫৪ হেক্টর ,যা ২০১৬ থেকে ২০১৭ মৌসুমে বেড়ে দাড়িয়েছে ৯১৫০ হেক্টর। এর মধ্যে সাতক্ষীরা  সদর উপজেলায় ৩৪৬০ হেক্টর ,কলারোয়াই ৩৪৭৫ হেক্টর,দেবহাটায় ১১২৫ হেক্টর,কালিগঞ্জে ৪১০ হেক্টর ,তালায় ২২০ হেক্টর এবং শ্যামনগরে ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। বিদ্যামান শস্য বনিাসে উন্নত জাতের স্বল্প মেয়াদী বারি সরিষা ১৪ এর ফলন প্রয়োগ দেখে উপস্থিত কৃষক ও কৃষানীগন আসছে বছর থেকে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন । এবং কৃষক-কৃষানীগন বাস্তব মাঠ চিত্র দেখে অনুপ্রানিত হন এবং পাশা পাশি সময় মত ফসলের বীজ প্রাপ্তি নিশ্চিকরনের উপর জোর দেন ।
অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড.হারুনা রশিদ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বারি সগবি খুলনা, ড.অপূর্ব কান্তি চৌধুরি উপ প্রক্লপ পরিচালক সগরি  বারি গাজীপুর ,কৃষিবিদ জি এমএ গফুর ডিটিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা,এসএম ইমরুল হাসান (এস সি এ) কৃষি মন্ত্রনলয়, মো: মহসীন হাওলাদার উদ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকতা বারি খুলনা , মো: আমজাদ হোসেন উপজেলা কৃষি কর্মকতা সদর সাতক্ষীরা (ডিএই), মো: ্আতিরুর রহমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা বারি সাতক্ষীরা , মুস্তফা কামাল শাহাদাৎ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সগবি বারি  ,মো: ওলি আহম্মেদ করিম বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সগবি বারি  এ কে এস  সাতক্ষীরা,অমরেশ চন্দ্র সরকার বৈজ্ঞানিক সহকারী সগবি খুলনা ,মো: শহিদুল ইসলাম উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাসেমপুর ব্লক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সাতক্ষীরা, কৃষক মো:আব্দুল মান্নান গাজী,কৃষানী ফাতেমা বেগম।