সাতক্ষীরার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ১০ হাজার টাকা জরিমানা


505 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান :  ১০ হাজার টাকা জরিমানা
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক / আব্দুর রহমান :
ক্লিনিকে একের পর এক রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। আদালত শিমুল-স্বপ্ন-স্বপ্না ক্লিনিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। অন্যদিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের খবর আগেই জানতে পেরে কয়েকটি ক্লিনিকের মালিক ক্লিনিক বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে সাতক্ষীরা শহরের বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে সিজার রোগীর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ আব্দুল সাদী’র নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পলাশপোলস্থ শহীদুল ইসলামের মালিকানাধীন শিমুল মেমোরিয়াল ক্লিনিকের মিজানুর রহমানকে ৪ হাজার টাকা, সদর হাসপাতালের সামনে স্বপ্না ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র মন্ডলকে ২ হাজার টাকা এবং রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন স্বপ্ন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার প্রসেনজিৎ কে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি পত্র নিয়ে সকল নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে অর্থ বাণিজ্য। নিম্নমানের পরিবেশ, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না করেই চলছে এসব ক্লিনিকগুলো।

সূত্র আরো জানায়, অনেক ক্লিনিক আছে, সেখানে ডাক্তার নেই। বেড আছে, বালিশ নেই। রোগী আছে, নার্স নেই। এভাবে একের পর এক গড়ে উঠছে ক্লিনিকগুলো। আর ব্যবসা মনোভাবের কারণে সদর উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে একের পর এক রোগী মারার অভিযোগও রয়েছে। সেবার পরিবর্তে ক্লিনিকগুলোতে অর্থলোভীরা করছে বাণিজ্য। অদক্ষ ডাক্তার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্যাতসেতে জায়গায় অপারেশন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই অপারেশনের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান আগেই জানতে পেরে মোস্তাফিজুর রহমানের মালিকানাধীন ম্যাসেঞ্জার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শাহাজান হোসেন ও শফিকুল ইসলাম শফির অনুমোদনহীন সালাসিয়া হাসপাতাল, এম এ রাজ্জাকের মালিকানাধীন দেশ সার্জিকাল ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক, অনুমোদনহীন সুচনা ডায়াগণষ্টিক সেন্টার এবং আবুল হোসেনের মালিকানাধীন ঝাউডাঙ্গা সার্জিক্যাল এন্ড পাইলস ক্লিনিকসহ কয়েকটি ক্লিনিকে তালা মেরে কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। অভিযানের অন্তত এক ঘন্টা আগে কয়েকটি ক্লিনিক থেকেও রোগী বের করে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সূত্র জানায়, ২৯ জুলাই নোভা ক্লিনিকে ডাঃ দেবদুলালের অপারেশনে রেক্সনার মৃত্যুর ঘটনায় সেটি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। পরে সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেক করে শাহাজান হোসেন ও শফিকুল ইসলাম শফি সালাসিয়া হাসপাতাল চালু করে।

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইকবাল মাহমুদ, সদর থানার এসআই অর্পনা রানী, রেজোয়ান প্রমুখ।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী জানান, সাতক্ষীরায় বর্তমানে ক্লিনিক শহরে পরিণত হয়েছে। এ জেলায় সাধারণ ব্যবসার চেয়ে ক্লিনিক ব্যবসা বেশি লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে ক্লিনিকগুলোতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ক্লিনিক মালিকদের অব্যবস্থপনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী দিনে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, অভিযানের পরেই ক্লিনিকের মালিকরা সতর্ক হয়ে যায়। ক্লিনিকের মান অনেক নি¤œ পর্যায়ে আছে। আমরা তাদের মান উন্নত করা চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টায় ধুমপান ও তামাকজাত নিয়ন্ত্রন আইনে তিনটি খুলনা রোড মোড়স্থ তিনটি দোকানকে ১ হাজার টাকা ও একটি হোটেলকে অস্বস্থ্যকর পরিবেশের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার ও সুফিয়া আক্তার ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার জানান, প্রাথমিকভাবে দোকান মালিকদের জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আরো জানান।