সাতক্ষীরার বেগুন চাষিরা পোকার আক্রমনে দিশেহারা


1372 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার বেগুন চাষিরা পোকার আক্রমনে দিশেহারা
জুন ৮, ২০১৮ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email
  • পোকার আক্রমনে দিশেহারা সাতক্ষীরার বেগুন চাষিরা
  • দামি দামি কিটণাষক ব্যবহার করেও প্রতিকার পাচ্ছে না

 

গোলাম সরোয়ার ::
ফল ছিদ্র আর ডোগা কাটা পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার বেগুন চাষি। হাজার হাজার টাকার কিটণাষক ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই সবজটি চাষ করে জেলার অধিকাংশ কৃষক লোকসানে পড়েছে।

তবে চাষিদের অভিযোগ জেলার বিভিন্ন এলাকার বেগুন ক্ষেত পোকার আক্রামনে নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠে পাওয়া যায়না পরামর্শ দেয়ার মত। ফলে কৃষকরা না বুঝে নানা ধরনের কিটনাষক ব্যবহার করে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তারা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘুটেরডাঙ্গী গ্রামের বেগুন চাষি জয়নুল আবেদিন জানান, ৩০ থেকে ৩৫ বছর যাবত অন্যান্য সবজি‘র পাশাপাশি বেগুন চাষ করে আসছেন। তিনি আরো জানান, চলতি ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৩ বিঘা পরিমান জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। কিন্ত ইতিপুর্বে কখনো এতো পোকার আক্রমন দেখেননি এই কৃষক। তিনি বলেন, গাছে একেকটি বেগুন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজন হওয়ার পর থেকে ফল ছিদ্র বা মাজরা পোকায় ঝাঝরা করে দিচ্ছে বেগুন। তাছাড়া ডোগা কেটে দিচ্ছে পোকায়। তিনি আরো বলেন, পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে ৩ বিঘা জমিতে ৯০ হাজার টাকার ওষুধ ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে মিমপ্রেক্স কোম্পানীর মানিক, সুরেশ, সেতারা, পাইন, নীল এবং ওয়ান্ডার উল্লেযোগ্য।
এই কৃষক আরো বলেন, ৩ বিঘা জমির বেগুন চাষে এ পর্যন্ত দেড় লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে। কিন্ত এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা কেনাবেচা করেছেন বলে জানান তিনি। কৃষক জয়নুল আবেদিন জানান, যে বেগুন বাজারে প্রতি মন ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেন তা পোকার কারনে বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। ফলে চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমির বেগুন চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা লোকসান যাবে বলে আশংকা করছেন এই কৃষক।

একই গ্রামের চাষি পিন্টু দাশ জানান, চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। কিন্ত ক্ষেতের অধিকাংশ বেগুন হলদে রং পচেঁ যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকার বালাইণাষক ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ২ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। এরমধ্যে কিটণাষক ওষুধ ব্যবহার করেছেন অন্তত ৪০ হাজার টাকা। তার পরও কোনো প্রতিকার পাননি।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ৯৫৫ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১৮৫ হেক্টর, তালায় ১৪৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৪৫ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে হেক্টর।
সুত্রটি আরো জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মাকড়া, নয়নকাজল, বারি-৩ বারি-৪, ঝুরি ও অন্যান্য স্থানীয় জাতের বেগুন চয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, বেগুনের পোকা আসলে কিটণাষক বা অন্যান্য ওষুধ দিয়ে দমন হয় না। বেগুনের পোকা মারার একমাত্র উপায় হচ্ছে সেক্সফ্রোমন ফাঁদ। কৃষকরা বেগুন ক্ষেতে এই ফাঁদ বসালে দু‘একদিনের মধ্যে পোকা দমন হয়ে যায়। কিন্ত এই ফাঁদের প্রচলন সাতক্ষীরাতে এখনো সেই ভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। বেগুন চাষি বা অন্যান্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সেক্সফ্রোমন ফাঁদ ব্যবহারের জন্য।
##