সাতক্ষীরার ভন্ড পীর জীবন স্যারের কান্ড !


796 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ভন্ড পীর জীবন স্যারের কান্ড !
মে ১০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
স্ত্রীকে ফিরে পেতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহাজউদ্দিন সুমন নামে এক যুবক। কিন্তু তাদের সংসারে পথের কাটা হয়ে দাড়িয়েছে এক সময় প্রশ্ন ফাসঁ করে সমালোচিত হওয়া ও বর্তমানে কথিত পীর আবু আয়ুব আনসারী ওরফে জীবন স্যার।

নিজের পীরত্ব বজায় রাখতে ও দাওয়াখানা টিকিয়ে রাখতে আহাজউদ্দিন সুমন ও কুসুম খাতুনের সংসারকে বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাতক্ষীরা পৌরসভার বাটকেখালির মিনহাজউদ্দিনের ছেলে আহাজউদ্দিন সুমন এই অভিযোগ করেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অতিশয় গরীব পরিবারের ছেলে হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরের মুন্সীপাড়ার কথিত পীর আবু আয়ুব আনসারী ওরফে জীবন স্যারের দাওয়াখানায় পেটে ভাতে কাজ করতেন তিনি। ঠিক একইভাবে সেখানে কাজ করতেন জীবন স্যারের ধরম বোনের মেয়ে কুসুম খাতুন।

কাজ শুরুর প্রায় ৪ বছর পর তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে জীবন স্যারই তাকে কুসুমের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেন। একই সাথে জীবন স্যারের শর্ত ছিল বিয়ের পরও স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই তার দাওয়াখানায় থাকতে হবে এবং দেনমোহর হবে দেড় লক্ষ টাকা।

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলেও জীবন স্যারের শর্তে রাজি হয়নি সুমন। তখন জীবন স্যার বলেছিলেন, তারা চলে গেলে তার দাওয়াখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই নতুন লোক ঠিক করা পর্যন্ত তাদের থাকতে হবে। এই শর্তে দুজন কেউই সাবালোক না হলেও ব্রহ্মরাজপুরের রেজিস্ট্রার রওশন আলমের সহযোগিতায় ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের বিয়ে দেন জীবন স্যার।

বিয়ের কিছুদিন পর সেখানে আর থাকতে চায়নি কুসুম। আর এতেই বাধা হয়ে দাড়ায় জীবন স্যার। বউমার অনুরোধে সুমনের পিতা তাদের ফিরিয়ে আনতে গেলে জীবন স্যার কুসুমকে না দিয়ে বলে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেবো।

এরপর থেকে দীর্ঘ চার মাস আলাদা সুমন ও কুসুম। সুমনের পরিবার অনেক বার চেষ্টা করলেও কুসুমকে আর শ্বশুরালয়ে ফেরাতে পারেনি। কুসুমের পিতার বক্তব্য জীবন স্যার বললেই তারা কুসুমকে শ্বশুরালয়ে পাঠাবে, অন্যাথায় নয়।

এদিকে, জীবন স্যারের পরামর্শে কুসুমের পিতা অজিহার সম্প্রতি ব্র্যাকে তার মেয়ের দেনমোহর আদায়ে আবেদন করেছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েকবার শালিস হলেও সেখানে উপস্থিত হন না জীবন স্যার।
কুসুমের পরিবার এখন চায় দেনমোহরের টাকা। আর সেজন্য সুমনকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় স্ত্রীকে ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সুমন।

এদিকে, এ ব্যাপারে জীবন স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে পারবো না। কুসুমের আব্বার সাথে কথা বলেন।

তবে, কুসুমের পিতার সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্ন পত্র ফাঁস করে একসময় প্রাইভেট পড়াতেন জীবন স্যার। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে তার প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এরকিছুদিনের মধ্যেই নতুন রূপে পীর হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। ##