ভাগ্যকুল মিষ্টি কারখানায় তৈরী মিষ্টিতে কীটপতঙ্গ আর টানা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ !


2782 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভাগ্যকুল মিষ্টি কারখানায় তৈরী মিষ্টিতে কীটপতঙ্গ আর টানা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ !
জানুয়ারি ২১, ২০১৬ জাতীয় তালা ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল, পাটকেলঘাটা :
আহ্! রসগোল্লা। দেখলেই জিহবায় পানি আসে। কথা সাহিত্যিক সৈয়ত মুজতবা আলী রম্য রচনা রসগোল্লা প্রবন্ধের কথা সবারই মনে আছে। আর এ মিষ্টি নিয়ে সাতক্ষীরার সু-খ্যাত সারাদেশ নয় দেশের বাইরেও। প্রকৃতপক্ষে যে স্থান থেকে মিষ্টি তৈরী হচ্ছে আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি কোন পরিবেশে মিষ্টি তৈরী করা হচ্ছে।

সরেজমিন সাতক্ষীরার বিখ্যাত বহুল আলোচিত ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের পাটকেলঘাটাস্থ বলফিল্ড মোড়ে  মিষ্টির কারখানায় গিয়ে যে দৃশ্য অবতরণ হয়েছে তা দেখলে কোন মানুষ আর মিষ্টি খেতে চাইবে না। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একেবারেই পাশেই ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের এ মিষ্টি কারখানা। ঢুকতেই ড্রেনে নোংরা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধ মুখে রুমাল না দিলেই নয়। কারখানার চারিদিকে নোংরা আর স্যাতসেতে পরিবেশ। এখানে মশা মাছি, ফড়িং, তেলাপোকা, গোবরপোকার অন্যতম কারখানা। এরপর সংরক্ষিত তৈরী করা মিষ্টির ঘরে গিয়ে অনেকটাই হতবাক হতে হয়েছে। কেননা তৈরী করা মিষ্টির ব্যারেলে মশা মাছি তো আছেই, সেই সাথে গোবর পোকা। এখানেই শেষ নয় এতটাই অবহেলায় খাদ্যদ্রব্য তৈরী করা হয় যে, তৈরী করা ঐ মিষ্টির ব্যারেলে টানা সিগারেটের ফিল্টার। যে ফিল্টারে রয়েছে তামাক পোড়ানো সর্বোচ্চ নিকোটিন।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সরকারের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ঐ এলাকার মাস্তান থেকে শুরু করে তার ঐ অবৈধ মিষ্টির ব্যবসায় অনেকেই ভাগীদার। ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক কেবলমাত্র সাতক্ষীরা জেলাই নয় দেশের সর্বত্রই এই নামে মিষ্টি বেচাকেনা করলেও যার ভিতরে রয়েছে রন্দ্রে রন্দ্রে অনিয়ম আর দুর্নীতি। দুধ সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়  ফরমালিন। মিষ্টির উপকারীতার অন্যতম ফ্যাট (ক্রিম) মেশিনের সাহায্যে বের করে ফ্যাট বিহিন দুধ দিয়ে তৈরী করা হয় বাহারী সব মিষ্টি। ঐ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক শিবপদ ঘোষের বিরুদ্ধে রয়েছে সীমাহীন অনিয়মের কথা। সে এতটাই বিবেকহীন পচা দুর্ঘন্ধ ২ শত টাকার দধি মাত্র ২০ টাকায় গরীব অসহায় মানুষের কাছে বিক্রি করেছে যাদের কেনার সামর্থ নেই। যা খেয়ে পরিবার সহ অসুস্থ হওয়ার কারণে তালা উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ঐ দধি জব্দ করে স্যানেটারী কর্মকর্তাকে মামলা দায়েরের নির্দেশ  দেন।

কিন্তু তার অঢেল টাকা আর ক্ষমতার কারণে লোকদেখানো দধি জব্দ হলেও তার কোন শাস্তি হয়নি।  যে কারণে সে একের পর এক সাতক্ষীরার বুধহাটার কচুয়া গ্রাম থেকে এসে পাটকেলঘাটার মানুষকে বোকা বানিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অস্বাস্থকর পরিবেশে মিষ্টির কারখানা পরিচালনা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন ঘুমিয়ে আছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঐ মিষ্টির কারখানায় খাদ্যদ্রব্য তৈরীর জন্য বিএসটিআই’র অনুমোদন তো দূরের কথা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেই। ক্ষমতার দাপট আর টাকার জোরে সাতক্ষীরার পোষ্ট অফিস মোড়, লাবনী মোড়, শ্যামনগর, কলারোয়া, বাগআচড়া, যশোর, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার রয়েছে একাধিক দোকান। পাটকেলঘাটায় মিষ্টির কারখানা করে বলফিল্ড মোড়ে কোটি টাকার সম্পত্তি সহ নামে বে নামে একাধিক সম্পত্তি গড়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর দাবী তার পঁচা বাসি মিষ্টি আর কীটপতঙ্গ মিশ্রিত অনুপযোগী খাদ্য সরবরাহ করে মানবদেহের যে ক্ষতি করে আসছে তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক। এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা হারুণ-অর-রশিদ ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী প্রভাষক সচেতন নাগরিক নাজমুল হক এ প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করে বলেন, ঐ মিষ্টির কারখানার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া যায় না, দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। কারখানার চারপাশের আকাশ বাতাস যেন চরম দুর্গন্ধে ভারী থাকে। তিনি এর প্রতিকার চেয়েছেন। এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, দুর্গন্ধ পরিবেশে মিষ্টি তৈরীর বিষয়ে তিনি জানেন। তবে তৈরী করা মিষ্টির ব্যারেলে মশা, মাছি, তেলাপোকা আর সিগারেটের ফিল্টারের কথা শুনে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে তালা উপজেলার দায়িত্বরত স্যানেটারী ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন তার ভাই মারা যাওয়ায় সে মর্মাহত। তবে দায়িত্বে ফিরে এসে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।