সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে ট্রাকের দীর্ঘ লাইন, পণ্য খালাস করছে না শ্রমিকরা


239 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে ট্রাকের দীর্ঘ লাইন, পণ্য খালাস করছে না শ্রমিকরা
এপ্রিল ৪, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

মজুরীর অতিরিক্ত বকশিস না পাওয়ায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে চতুর্থ দিনের মত পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। ফলে খালাসের অপেক্ষায় ভোমরা বন্দরে দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে পণ্যবাহী ট্রাকের। এছাড়াও ভারতের ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় আরও ৬শ পণ্যবাহী ট্রাক ভোমরা বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২শ ট্রাকে কাঁচামাল রয়েছে।

ভোমরা বন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান জানান, পণ্য খালাসে লেবার বিল বাদে বাড়তি বকশিস না দেওয়ায় কাজ করছে না শ্রমিকরা।

তিনি বলেন, সরকার দেশের অন্যান্য স্থল বন্দরের ন্যায় ভোমরা স্থল বন্দরেও পণ্য খালাসে লেবার সরবরাহের জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ করে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী লেবার সরবরাহের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ পার মেট্রিক টন হিসাবে ৬৯ দশমিক ২০ টাকা হারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিল আদায় করে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পণ্য খালাসের জন্য লেবার সরবরাহ না করে বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপায়ন্ত না পেয়ে আমদানিকারকরা বাইরে থেকে লেবার নিয়ে ট্রাক প্রতি দুই হাজার টাকা দিয়ে পণ্য খালাস করতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত টাকা বা বকশিস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ট্রাক প্রতি লেবার ঠিকাদাররা তাদের বিল দেন মাত্র ৩৮০ টাকা। পণ্য খালাসের এই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এতদিন ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ৭শ’ টাকা বকশিস দিতেন ব্যবসায়ীরা। বকশিসের টাকা বন্ধ করে দেয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, শ্রমিকরা পণ্য উঠানো-নামানো বন্ধ করে দেয়ায় ভোমরা বন্দরে মালামাল খালাসের অপেক্ষায় ট্রাকের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে। দ্রুত এসব মালামাল ভোমরা বন্দরে খালাস না করতে পারলে তারা প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

প্রসঙ্গত, লেবার বিল বাড়ানোর দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা ভোমরা স্থলবন্দরে ট্রাক থেকে পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়।