সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনে পাসপোর্ট যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার


540 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনে পাসপোর্ট যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার
আগস্ট ১০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
ভোমরা কাস্টমস চেকপোস্টে কর্মরত এসআই ও সিপাহীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি দায়িত্ব পালনের নামে এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উৎকোচ গ্রহণের নানা কৌশল তৈরি করেছে। আর সে কৌশলের ফাঁদে পড়ে বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও উৎকোচ না দিয়ে রক্ষা নেই পাসপোর্ট যাত্রীদের। ভোমরা কাস্টমস চেকপোস্টের এসব নিয়ম যেন নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্রমনকারীদের অভিযোগের তীর কাস্টমস চেকপোস্টের এসআই আজিজ খান, সিপাহী শরিফুল ইসলাম, সিপাহী আব্দুল হানিফ ও সিপাহী সাইফুল ইসলামের দিকে।
সরেজমিনে গত ৮ আগস্ট দিনভর ভোমরা কাস্টমস চেকপোস্টে অপেক্ষার পর দেখা যায় অনিয়ম আর দূর্ণীতির নানা চিত্র। যেন এসব কর্মকর্তা আর কর্মচারিদের কাছে টাকা ছাড়া কোন কথা নেই। আর টাকা হলে কোন সমস্যাও নেই। বৈধ পাসপোর্ট যাত্রী জয়দেব বৈদ্য পাসপোর্ট নং -(নধ০৪২৪২৩৬), ( সাবিনা-পাসপোর্ট নং- অএ৭৫৯৫৩৮১), ( নগেন্দ্রনাথ পাসপোর্ট নং- অঋ৭১০২৫২০), (বাবুল সরদার-পাসপোর্ট নং- ইঊ০৬৯৯৮৪৭),  ( মতি গাজী পাসপোর্ট নং- ইঋ০৪২৭৭১১) ও ( পাসপোর্ট নং- অঋ৭৬৯০৫২৮) ভ্রমনকারিদের সাথে যেমনি চরম দূর্ব্যহার, তেমনি আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দিতে দেখা গেছে। এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে  ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৩’শ থেকে ৪’শ যাত্রী যাওয়া-আসা করলে গড়ে ৫০০ টাকা করে দৈনিক ৪ থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকা এভাবেই কামাচ্ছেন ভোমরা কাস্টমস চেক পোষ্টের দূর্ণীতিবাজ এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সূত্র আরও জানান, ঘুষ গ্রহণের কালো থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে বাংলাদেশ ভারতের গমন ও বর্হিগমনকারি হাজার হাজার বৈধ পাসপোর্ট যাত্রী। চিকিৎসা,ব্যবসা আর ভ্রমনের উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যাক বাংলাদেশী বর্তমানে অবৈধ অনুপ্রবেশ পরিহার করে বৈধভাবে পাসপোর্টের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের পূর্বে যখন ভোমরা কাস্টমস চেকপোস্টে চলে আসেন তখন এসব বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও আইনের ফাঁদে ফেলে আদায় করা  হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রতি পাসপোর্ট যাত্রী উৎকোচ না দিলে তাদের কাছ থেকে জোরজুলুম করে আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সামনে পেছনে অহরহ এমন ঘটনা ঘটলেও যেন প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।
ভোমরা কাস্টমস চেকপোস্ট থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, ভোমরা কাস্টমস চেকপোস্টের দূর্ণীতিবাজদের অমানবিক আচরণে পাসপোর্ট যাত্রীরা অকারণেই নাজেহাল হচ্ছে। বৈধভাবে যেতে যেভাবে নাজেহাল হতে হয়, তার চেয়ে অবৈধভাবে যাওয়াটাই অনেক ভাল।
ভূক্তভোগিদের পাসপোর্ট যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়িতে ব্যবহারের জন্য শুল্কমূক্ত কিছু ব্যবহৃত পন্য সামগ্রী থাকলে চেকপোস্টের কর্মকর্তা সিপাহীরা একজোট হয়ে আইনের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। অথচ যে পন্যগুলো আদৌ কোন ট্যাক্স এর আওতায় আসে না। কাস্টমস আইনের বরাত দিয়ে জানাগেছে, যে কোন বৈধ পাসপোর্ট যাত্রী গৃহকার্যে ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার পন্য বহন করতে পারবেন। কিন্তু এই চেকপোস্টের দায়িত্বরত এসআই আজিজ খান, সিপাহী শরিফুল ইসলাম, সিপাহী আ: হানিফ ও সিপাহী সাইফুল ইসলাম অদৃশ্য শক্তির মহড়া দিয়ে তাদের অপকর্ম অব্যহত রেখেছেন। বর্তমানে বৈধভাবে পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে ছলে বলে কৌশলে ঘুষ গ্রহণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভোমরা শুল্ক চেকপোস্ট অফিস কে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে একাধিক পাসপোর্ট যাত্রীর অভিযোগ। এসব ঘটনার পরও কাস্টমস এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ভোমরা স্থল বন্দরের এসি শরিফ মোহাম্মাদ আল আমীনের ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত থেকে আসার সময় ৩০০ মার্কিন ডলার সমপরিমান অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার টাকার ব্যবহৃত পন্য নিয়ে আসতে পারবেন। যদি এর বেশি টাকার পন্য হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভ্রমনকর আইন ২০০৩ অনুযায়ী তার নিকট থেকে অতিরিক্ত পন্যের ট্যাক্স আদায় করা হবে। এছাড়াও নানা অনিয়ম দূর্ণীতির বিষয়ে তিনি জানান, তার কাছে কোন অভিযোগ নেই। সুনিদৃষ্ট অভিযোগ তার হাতে পৌছালে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।